দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে, যার মধ্যে নিট পোশাকের অবদান ৫৫ শতাংশ। তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে
দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প এখন চরম সংকটের মুখে। পাটশিল্পের পর এবার পোশাক খাতও ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তাঁর ভাষায়, পোশাক খাত এখন আইসিইউতে আছে।
সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পোশাক শিল্পকে কাঁচামাল সংগ্রহে স্বাধীনতা দিতে হবে। কম দামে মানসম্মত সুতা পাওয়া গেলে সেখানে থেকেই সংগ্রহ করা ব্যবসার স্বাভাবিক নিয়ম। অথচ দেশীয় স্পিনিং মিলকে সুরক্ষার নামে আমদানিতে শুল্ক আরোপ করে পোশাক শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, আমদানিতে বাজার উন্মুক্ত না থাকলে রপ্তানি ঝুঁকিতে পড়বে। অন্যদিকে বিজিএমইএর আরেক পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম শুল্ক আরোপকে কোনো সমাধান নয় উল্লেখ করে বলেন, সরকার ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘উইন-উইন’ সমাধানের প্রয়োজন।
বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, বর্তমানে দেশীয় স্পিনিং মিল থেকে সুতা কিনলে প্রতি কেজিতে আমদানির তুলনায় ৪৬ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। কৃত্রিম সুরক্ষার মাধ্যমে একচেটিয়া বাজার তৈরির চেষ্টা করা হলে তা আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধ্বংস করবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতামূলক দরে সুতা দিতে পারলে আমদানির তুলনায় প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ সেন্ট বেশি দিয়েও দেশীয় সুতা কিনতে প্রস্তুত উদ্যোক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে, যার মধ্যে নিট পোশাকের অবদান ৫৫ শতাংশ। তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে। শুধু ডিসেম্বর মাসেই রপ্তানি কমেছে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে পারে।
এই সংকট মোকাবিলায় যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে সুতা আমদানিতে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার, বস্ত্রখাতে নগদ সহায়তা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, জ্বালানির যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং স্বল্প সুদে ঋণসহ স্পিনিং মিলের উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় দেশের প্রধান রপ্তানি খাত মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেন শিল্প নেতারা।



















