তিন দিনের ঢাকা সফরে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ গোবিন্দ
- আপডেট সময় : ১০:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ ৩০৭ বার পড়া হয়েছে
ছবি সংগ্রহ
উদয় চৌধুরী/ ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি আয়োজনে যেগ দিতে তিনদিনের সফরে বুধবার ঢাকা পৌছানোর কথা রয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ গোবিন্দের। মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ভার্চ্যুয়ালি সাংবাদিক এতথ্য জানান। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে ১৫-১৭
ডিসেম্বর ঢাকা সফর করবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। বুধবার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। রামনাথ কোবিন্দের এটাই হবে বাংলাদেশে প্রথম সফর। তাকে লাল গালিচা সংবর্ধরানা দেওয়া হবে। ষ্ট্রীয় সফরে ভারতের ফার্স্ট লেডি এবং রাষ্ট্রপতির কন্যা, ভারতের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, দুইজন সংসদ সদস্য, বিদেশ সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ তার সঙ্গী হিসেবে যোগ দেবেন।
বিমান বন্দর থেকে ভারতের রাষ্ট্রপতি সরাসরি সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধে যাবেন এবং সেখানে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিদেশ মন্ত্রী ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। এসময় দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আমরা আশা করা হচ্ছে।
একই ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। বিকালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করবেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দেয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন। এসময় ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি টি-৫৫ ট্যাংক এবং একটি মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমান বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের জন্য উপহার হিসেবে প্রদান করবেন।
এর আগে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সফরের ঘোষণা দেয়। সফরের প্রস্তুতির লক্ষ্যে ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা দু’দিনের সফরে ঢাকায় পৌছান মঙ্গলবার। বুধবার রাতে তিনি সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখবেন। রাষ্ট্রপতির সফরের সার্বিক প্রস্তুতি নিতে দেশটির একটি অগ্রগতি প্রতিনিধিদল এখন ঢাকায়।
সফরের দ্বিতীয় দিন ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ভারতের রাষ্ট্রপতি গেস্ট অব অনার হিসেবে বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। একই দিন বিকেলে, জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজাতে বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতির পিতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং রক্তস্নাত বিজয়ের আবেগ ও আনন্দ উদ্যাপনের জন্য আয়োজিত মহাবিজয়ের মহানায়ক অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করবেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
ঐতিহাতিক ঢাকার রমনা কালিমন্দির উদ্বোধন
সফরের শেষ দিন ১৭ ডিসেম্বর ভারতের অর্থায়নে নির্মিত ঐতিহাসিক ঢাকার রমনা কালিমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রমের নবনির্মিত উদ্বোধন করবেন। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ইতিহাস মোড়ানো স্থানে ঐতিহাসিক রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দ ময়ী আশ্রম। সদর রাস্তা থেকেই চোখে পড়ে সুউচ্চ চূড়া। প্রধান ফটক থেকে মন্দির অব্দি প্রায় শ’ খানেক শ্রমিক রাতদিন কাজ করে চলছে।
মহামান্য অতিথির হাত ধরে ভারতের অর্থায়নে এই অন্যতম তীর্থ স্থানের উদ্বোধন হবে। মন্দিরের চারিদিক সেজে ওঠেছে। দামী সিরামিক ইট দিয়ে প্রধান ফটক থেকে মন্দির পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। মন্দিরের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে ভক্ত নিবাস। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ট্যাংক ও ডিনামাইট দিয়ে মন্দিরটি উড়িয়ে দিয়েছিলো। সেই সঙ্গে হত্যা করেছিলো পুরোহিতসহ শতাধিক ভক্তকে। তিন দিনের সফর শেষে এদিন দুপুরে দিল্লির উদ্দেশ্য ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি উদযাপনে যোগ দিতে চলতি বছরের ২৬ ও ২৭ মার্চ বাংলাদেশ সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
উল্লেখ্য, এর আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে বলেছে, ভারতের প্রতিবেশী প্রথম নীতির বড় স্তম্ভ। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রগতিশীল, বিস্তৃত ও কার্যকর সহযোগিতা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরক্ষা, পানিসম্পদ, বাণিজ্য, পরিবহণ ও কানেকটিভিটি, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক, জ্বালালি ও বিদ্যুৎ




















