ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ বেনাপোলে এক বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী আটক বস্তিবাসীদের উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস তারেক রহমানের চাপ তৈরি করে ভারতে খেলাতে বাধ্য করা যাবে না চানখাঁরপুল মামলার রায় ২৬ জানুয়ারি: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অপেক্ষায় দেশ ইরানে হামলা নিয়ে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছায় স্বাগত জানালেন মোদি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উদ্যাপন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৪০০ ঘর, শত শত পরিবার আশ্রয়হীন আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত শার্শায় র‌্যাবের অভিযানে ২৯৭০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

চল্লিশোর্ধ্ব নারীর প্রেম ও শরীরের ভাষা: আত্মোপলব্ধির এক অসমাপ্ত অধ্যায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫ ৬৯৩ বার পড়া হয়েছে

চল্লিশোর্ধ্ব নারীর প্রেম ও শরীরের ভাষা: আত্মোপলব্ধির এক অসমাপ্ত অধ্যায়

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মিষ্টি মধুর

চল্লিশ পার করা একজন নারী প্রেমে পড়েন, হয়তো নীরবে, হয়তো সাহসে ভরা এক দৃষ্টিতে। কিন্তু সেই প্রেম কখনো কিশোরীসুলভ নয়—তাতে থাকে অভিজ্ঞতার ভার, বেঁচে থাকার ক্লান্তি, আবার নতুন করে জেগে ওঠার এক অস্ফুট আকাঙ্ক্ষা। তাদের প্রেম একা থাকার বিরুদ্ধে এক ধীর প্রতিক্রিয়া, যেখানে বন্ধুত্ব, স্পর্শ, চোখে চোখ রেখে বোঝার একটা তৃষ্ণা লুকিয়ে থাকে।

কিন্তু প্রেম মানেই কি কেবল মানসিক সংযোগ? না, তাদের শরীরও কথা বলে। একজন চল্লিশোর্ধ্ব নারীর শরীরে এখনো লুকিয়ে থাকে বহুদিনের চেপে রাখা আকাঙ্ক্ষা—যা হয়তো কখনো স্বীকার করেননি, কিংবা করার সুযোগ পাননি। এই বয়সে এসে সে বুঝতে শেখে, তার শরীর কোনো বোঝা নয়, বরং ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার।

তবুও, এখানেই এসে ধরা দেয় এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা—যৌন অপরিপক্বতা। আমাদের সমাজ নারীদের শেখায় কীভাবে ‘ভালো মেয়ে’ হতে হয়, কীভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, কিন্তু শেখায় না কীভাবে নিজের শরীরকে বুঝতে হয়। ফলে চল্লিশ পেরিয়ে এসেও অনেক নারী যৌনভাবে পরিণত নন, বরং দ্বিধাগ্রস্ত, অপরাধবোধে ভরা। তারা জানেন না কীভাবে নিজের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবেন, জানেন না নিজের সুখ কোথায় খুঁজতে হয়।

এখনও অনেকে মনে করেন, যৌনতা মানেই পুরুষের ইচ্ছা পূরণ, নারীর ভূমিকাটা কেবল সহনশীল হওয়া। তাই একজন চল্লিশোর্ধ্ব নারী যখন অবশেষে কাউকে পছন্দ করেন, তার প্রতি আকৃষ্ট হন, তখন শুধু আবেগ নয়, একধরনের ভেতরের টানাপোড়েনও শুরু হয়। সমাজ, পরিবার, সন্তান, বয়স—সব মিলে তারা হয় আত্মগোপনকারী। কিন্তু শরীর তো চুপ করে থাকতে পারে না। তার নিজের ভাষা আছে, নিজের চাওয়া আছে। আর সেটা যখন প্রথমবার জোরে উঠে আসে, তখন অনেকে নিজের মধ্যেই দ্বিধা অনুভব করেন—আমি কি ‘ঠিক’ করছি? আমার কি এই বয়সে এসব চাওয়া ‘মানায়’?

এইসব প্রশ্নই বলে দেয়, নারীর যৌনতা এখনো পুরোপুরি তার নিজের নয়। সে এখনো নিজের শরীরের প্রতি দ্বিধাগ্রস্ত, নিজের আকাঙ্ক্ষার প্রতি অপরাধবোধে ভোগে। অথচ চল্লিশোর্ধ্ব নারী সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত—একটি গভীর সম্পর্কের জন্য, মানসিক ও শারীরিক বোঝাপড়ার জন্য। কিন্তু সেই প্রস্তুতির সুযোগটাই তাকে দেওয়া হয় না।

তবু, যারা সাহস করে—তারা নতুন করে শিখে নেয়, শরীরকে ভালোবাসতে হয়, চাওয়া বলতে হয়, সীমা ও সম্মান একসাথে বাঁচিয়ে চলতে হয়। তারা জানে, প্রেম মানে আর কারো জন্য নিজেকে বদলে ফেলা নয়—বরং এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া, যার সামনে নিজেকে সম্পূর্ণ করে মেলে ধরা যায়।

এই বয়সে প্রেম আসে গভীরতায়, কিন্তু আসে অনেক দ্বিধা ও সংগ্রামের ভিতর দিয়ে। শরীর, আত্মা আর আবেগ—সব একসাথে নিজের মতো করে বাঁচার পথ খোঁজে। তাই চল্লিশোর্ধ্ব নারীর প্রেম এক নতুন জাগরণ, যেখানে অনেক না বলা কথা, না শেখা শিক্ষা আর দেরিতে শিখে ফেলা চাওয়ার গল্প লুকিয়ে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চল্লিশোর্ধ্ব নারীর প্রেম ও শরীরের ভাষা: আত্মোপলব্ধির এক অসমাপ্ত অধ্যায়

আপডেট সময় : ০৪:৫১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫

মিষ্টি মধুর

চল্লিশ পার করা একজন নারী প্রেমে পড়েন, হয়তো নীরবে, হয়তো সাহসে ভরা এক দৃষ্টিতে। কিন্তু সেই প্রেম কখনো কিশোরীসুলভ নয়—তাতে থাকে অভিজ্ঞতার ভার, বেঁচে থাকার ক্লান্তি, আবার নতুন করে জেগে ওঠার এক অস্ফুট আকাঙ্ক্ষা। তাদের প্রেম একা থাকার বিরুদ্ধে এক ধীর প্রতিক্রিয়া, যেখানে বন্ধুত্ব, স্পর্শ, চোখে চোখ রেখে বোঝার একটা তৃষ্ণা লুকিয়ে থাকে।

কিন্তু প্রেম মানেই কি কেবল মানসিক সংযোগ? না, তাদের শরীরও কথা বলে। একজন চল্লিশোর্ধ্ব নারীর শরীরে এখনো লুকিয়ে থাকে বহুদিনের চেপে রাখা আকাঙ্ক্ষা—যা হয়তো কখনো স্বীকার করেননি, কিংবা করার সুযোগ পাননি। এই বয়সে এসে সে বুঝতে শেখে, তার শরীর কোনো বোঝা নয়, বরং ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার।

তবুও, এখানেই এসে ধরা দেয় এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা—যৌন অপরিপক্বতা। আমাদের সমাজ নারীদের শেখায় কীভাবে ‘ভালো মেয়ে’ হতে হয়, কীভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, কিন্তু শেখায় না কীভাবে নিজের শরীরকে বুঝতে হয়। ফলে চল্লিশ পেরিয়ে এসেও অনেক নারী যৌনভাবে পরিণত নন, বরং দ্বিধাগ্রস্ত, অপরাধবোধে ভরা। তারা জানেন না কীভাবে নিজের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবেন, জানেন না নিজের সুখ কোথায় খুঁজতে হয়।

এখনও অনেকে মনে করেন, যৌনতা মানেই পুরুষের ইচ্ছা পূরণ, নারীর ভূমিকাটা কেবল সহনশীল হওয়া। তাই একজন চল্লিশোর্ধ্ব নারী যখন অবশেষে কাউকে পছন্দ করেন, তার প্রতি আকৃষ্ট হন, তখন শুধু আবেগ নয়, একধরনের ভেতরের টানাপোড়েনও শুরু হয়। সমাজ, পরিবার, সন্তান, বয়স—সব মিলে তারা হয় আত্মগোপনকারী। কিন্তু শরীর তো চুপ করে থাকতে পারে না। তার নিজের ভাষা আছে, নিজের চাওয়া আছে। আর সেটা যখন প্রথমবার জোরে উঠে আসে, তখন অনেকে নিজের মধ্যেই দ্বিধা অনুভব করেন—আমি কি ‘ঠিক’ করছি? আমার কি এই বয়সে এসব চাওয়া ‘মানায়’?

এইসব প্রশ্নই বলে দেয়, নারীর যৌনতা এখনো পুরোপুরি তার নিজের নয়। সে এখনো নিজের শরীরের প্রতি দ্বিধাগ্রস্ত, নিজের আকাঙ্ক্ষার প্রতি অপরাধবোধে ভোগে। অথচ চল্লিশোর্ধ্ব নারী সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত—একটি গভীর সম্পর্কের জন্য, মানসিক ও শারীরিক বোঝাপড়ার জন্য। কিন্তু সেই প্রস্তুতির সুযোগটাই তাকে দেওয়া হয় না।

তবু, যারা সাহস করে—তারা নতুন করে শিখে নেয়, শরীরকে ভালোবাসতে হয়, চাওয়া বলতে হয়, সীমা ও সম্মান একসাথে বাঁচিয়ে চলতে হয়। তারা জানে, প্রেম মানে আর কারো জন্য নিজেকে বদলে ফেলা নয়—বরং এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া, যার সামনে নিজেকে সম্পূর্ণ করে মেলে ধরা যায়।

এই বয়সে প্রেম আসে গভীরতায়, কিন্তু আসে অনেক দ্বিধা ও সংগ্রামের ভিতর দিয়ে। শরীর, আত্মা আর আবেগ—সব একসাথে নিজের মতো করে বাঁচার পথ খোঁজে। তাই চল্লিশোর্ধ্ব নারীর প্রেম এক নতুন জাগরণ, যেখানে অনেক না বলা কথা, না শেখা শিক্ষা আর দেরিতে শিখে ফেলা চাওয়ার গল্প লুকিয়ে থাকে।