ঘূর্ণিঝড় হামুন চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম শুরু
- আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৩ ১৮৩ বার পড়া হয়েছে
প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ শক্তি ক্ষয়ে সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এর অগ্রভাগ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি শেষ রাত নাগাদ উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে।
তীব্রতা নিয়েই ঘূর্ণিঝড় হামুন ধেয়ে আসছে। এটি আজ রাত ১০টার পর বাংলাদেশের বরিমাল ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে। এর প্রভাবে সন্ধ্যার পর থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও পাশ্ববর্তী এলাকায় ভারী বর্ষণের সঙ্গে ঝড়ো হওয়া বয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে আজ বিজয়া দশমির সরকারী ছুটি। এই ছুটির দিনেও প্রশাসনের প্রাণ কেন্দ্র সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রকে বৈঠক করেছেন প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, রাত ৮টা মধ্যে ১৫ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘূর্ণিঝড়টি অনেকটা সিত্রাংয়ের মতোই তীব্র। উপকূল অতিক্রমকালে বাতাসের একটানা গতিবেগ থাকবে প্রায় ৮০ কিলোমিটার। ত্রাণ মন্ত্রকের সকলের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। রেডক্রস থেকে শুরু করে যতগুলো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে, তাদের স্বেচ্ছাসেবকদের উপকূলে নিয়োজিত করা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসার জন্য বিকেল থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
ত্রাষ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানালেন, শিশি ও খাদ্যের জন্য কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মানুষের পাশাপাশি আশ্রয় কেন্দ্রে গবাইদ পশু রাখারও ব্যবস্থা রয়েছে।
উত্তরপশ্চিম ও উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে একই এলাকায় অবস্থান করছে। রাতে এটি আরও পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ২৮৫ কিলোমিটার ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৩৫ কিলোমিটার ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির মূল অংশ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে উপকূল অতিক্রম শুরু করতে পারে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদসংকেত এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদসংকেত নামিয়ে ৭ নম্বর বিপদসংকেত বলা হয়েছে। পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর সকল নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকার নির্দেশনা আবহাওয়া অধিদপ্তর। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এর প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।




















