গ্রেফতার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে
- আপডেট সময় : ০৯:৪২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
দেড় বছরের বেশি সময় আত্মগোপনে থেকেও নিজেকে বাচাতে পারেননি বাংলাদেশের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। অবশেষে মঙ্গলবার ভোরে গোয়েন্দারা গ্রেফতার করে তাকে।
ঢাকার মিন্টু রোডের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে জ্ঞিাসাবাদ শেষে আদালতে তোলা হয়। করা হয় পুলিশ হেফাতে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জিও। আদালতে ২০ মিনিট শোনানীর পর হেফজত নাকচ করে গারাকারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে নিখোঁজ থাকা এই রাজনীতিককে মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তারের পর তাঁকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং পরে পুরান ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। লালবাগ থানায় দায়ের করা সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দুপুরে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তোলা হলে আদালতকক্ষে আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ভিড়ে এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করে দাবি করেন, শিরীন শারমিন ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী’ হিসেবে আন্দোলন দমনে ভূমিকা রেখেছিলেন।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, মামলায় তাঁর সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। তাঁরা বিলম্বে মামলা দায়েরের বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা রিমান্ড ও জামিন-উভয় আবেদনই নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত প্রাঙ্গণে এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
হাজতখানায় নেওয়ার সময় ভিড়ের মধ্যে সিঁড়িতে শিরীন শারমিন ভারসাম্য হারালেও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাঁকে সামলে নেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত টানা ওই পদে ছিলেন।
এরপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দীর্ঘ সময় আড়ালে ছিলেন।



















