ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চানখাঁরপুল মামলার রায় ২৬ জানুয়ারি: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অপেক্ষায় দেশ ইরানে হামলা নিয়ে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছায় স্বাগত জানালেন মোদি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উদ্যাপন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৪০০ ঘর, শত শত পরিবার আশ্রয়হীন আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত শার্শায় র‌্যাবের অভিযানে ২৯৭০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে-চীনা রাষ্ট্রদূত তৈরি পোশাকখাত এখন পোশাক খাত এখন আইসিইউতে: মোহাম্মদ হাতেম তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কাশির সিরাপ পানে ভারতে ১২ শিশুর মৃত্যু, জরুরি সতর্কতা জারি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫ ৭১ বার পড়া হয়েছে

কাশির সিরাপ পানে ভারতে ১২ শিশুর মৃত্যু, জরুরি সতর্কতা জারি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতে কাশির সিরাপ পানে ১২ শিশুর মৃত্যুর পর জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মধ্য প্রদেশ ও রাজস্থানে একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ঘটনাগুলো দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ অতীতেও নিম্নমানের ওষুধের কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ভারতে।

শুক্রবার ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস (ডিজিএইচএস) এক বিজ্ঞপ্তিতে সব রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে, শিশুদের জন্য কাশির সিরাপ প্রেসক্রাইব ও বিতরণে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরামর্শে উল্লেখ করা হয়, শিশুদের অধিকাংশ আকস্মিক কাশি বা সর্দি স্বাভাবিকভাবেই সেরে যায় এবং সাধারণত এসব রোগের চিকিৎসায় কাশির সিরাপ বা রাসায়নিক ওষুধের প্রয়োজন হয় না। তাই চিকিৎসকদের শিশুদের জন্য কাশির সিরাপ ব্যবহারে বিচক্ষণতা দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিজিএইচএস আরও সতর্ক করেছে, দুই বছরের নিচের শিশুদের কোনোভাবেই কাশি ও সর্দির সিরাপ দেওয়া যাবে না। তাদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে পর্যাপ্ত পানি পান, ঘরের আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার মতো অ-ঔষধি পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের জন্য রাসায়নিক উপাদানযুক্ত সিরাপ প্রাণঘাতী জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কাশির সিরাপ সেবনের পর মধ্য প্রদেশে নয়জন এবং রাজস্থানে তিনজন শিশু মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আক্রান্ত আরও কয়েকজন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট সিরাপগুলোর উপাদানে মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক থাকতে পারে, যা কিডনি ও লিভারের ক্ষতি ঘটিয়েছে।

এ ঘটনায় উভয় রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সিরাপের বিক্রি ও সরবরাহে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মৃত্যুর ঘটনাগুলো তদন্তে উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করা হয়েছে, যারা সিরাপের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে শিশুদের মধ্যে কাশির সিরাপ অতিরিক্ত ব্যবহার একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ কেনা এবং অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে, শিশুদের ওষুধ ব্যবহারে সচেতনতা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ কতটা জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কাশির সিরাপ পানে ভারতে ১২ শিশুর মৃত্যু, জরুরি সতর্কতা জারি

আপডেট সময় : ০৮:৪০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

ভারতে কাশির সিরাপ পানে ১২ শিশুর মৃত্যুর পর জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মধ্য প্রদেশ ও রাজস্থানে একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ঘটনাগুলো দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ অতীতেও নিম্নমানের ওষুধের কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ভারতে।

শুক্রবার ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস (ডিজিএইচএস) এক বিজ্ঞপ্তিতে সব রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে, শিশুদের জন্য কাশির সিরাপ প্রেসক্রাইব ও বিতরণে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরামর্শে উল্লেখ করা হয়, শিশুদের অধিকাংশ আকস্মিক কাশি বা সর্দি স্বাভাবিকভাবেই সেরে যায় এবং সাধারণত এসব রোগের চিকিৎসায় কাশির সিরাপ বা রাসায়নিক ওষুধের প্রয়োজন হয় না। তাই চিকিৎসকদের শিশুদের জন্য কাশির সিরাপ ব্যবহারে বিচক্ষণতা দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিজিএইচএস আরও সতর্ক করেছে, দুই বছরের নিচের শিশুদের কোনোভাবেই কাশি ও সর্দির সিরাপ দেওয়া যাবে না। তাদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে পর্যাপ্ত পানি পান, ঘরের আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার মতো অ-ঔষধি পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের জন্য রাসায়নিক উপাদানযুক্ত সিরাপ প্রাণঘাতী জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কাশির সিরাপ সেবনের পর মধ্য প্রদেশে নয়জন এবং রাজস্থানে তিনজন শিশু মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আক্রান্ত আরও কয়েকজন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট সিরাপগুলোর উপাদানে মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক থাকতে পারে, যা কিডনি ও লিভারের ক্ষতি ঘটিয়েছে।

এ ঘটনায় উভয় রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সিরাপের বিক্রি ও সরবরাহে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মৃত্যুর ঘটনাগুলো তদন্তে উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করা হয়েছে, যারা সিরাপের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে শিশুদের মধ্যে কাশির সিরাপ অতিরিক্ত ব্যবহার একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ কেনা এবং অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে, শিশুদের ওষুধ ব্যবহারে সচেতনতা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ কতটা জরুরি।