উন্নত চিকিৎসায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেন হাসান আজিজুল হক
- আপডেট সময় : ১০:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ অগাস্ট ২০২১ ৩৭৬ বার পড়া হয়েছে
ছবি সংগ্রহ
উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হককে উন্নত চিকিৎসায় রাজশাহী থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে। শনিবার রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দর থেকে একটি বেসরকারি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনার পর জাতীয় হৃদরোগ
ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানকার বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। ৮২ বছর বয়সী কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষকতা থেকে
অবসর নেওয়ার পর নগরীর চৌদ্দপাই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় হাউজিং সোসাইটির বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন তিনি। গত ১৬ আগস্ট ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তার
ছেলে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ হাসান জানান, গত এক মাস ধরে তার বাবা অসুস্থ। তবে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল না। বাড়িতেই কয়েকজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে চিকিৎসা চলছে। শুক্রবার রাজশাহীর
বিশিষ্টজনেরা সভা করে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার তাকে ঢাকায় আনা হয়। সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমরা
কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের পাশে রয়েছি। এখন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হচ্ছে। আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও নেওয়ার প্রয়োজন হলে তাকে সেখানেও নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘গণমাধ্যমে এসেছে যে তিনি কাউকে চিনতে পারছেন
না। এটা সঠিক তথ্য নয়। তিনি আমাদের সবাইকে চিনতে পেরেছেন। আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা তাকে অভয় দিয়েছি। উল্লেখ্য, হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২
ফেব্রুয়ারি তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার যবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রাজশাহীতে কাটিয়েছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি রাবির দর্শন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত একনাগাড়ে ৩১ বছর অধ্যাপনা করেন।

মালদা পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিনিধি শরর্মিষ্ঠা বিশ্বাস জানান, গত বেশ কিছুদিন থেকেই বাংলার কথাসাহিত্যের বরপুত্র হাসান আজিজুল হকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। মূলতঃ
বার্ধক্যজনিত সমস্যা ও পড়ে গিয়ে কোমড়ের হাড়ে চোটে উনি শয্যাশায়ী। এমতাবস্থায় ভারত- বাংলাদেশের সাহিত্যের অনুরাগীদের সমবেত প্রার্থনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। অবশেষে
তাকে ইমারজেন্সি অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় উন্নতমানের চিকিৎসার পাঠানো হয়েছে। হাসান স্যারের সুস্থতার জন্য ইতিমধ্যেই উভয় পশ্চিমবঙ্গ তথা মালদার সাহিত্য-সংস্কৃতিক ব্যক্তিরা তার আশুরোগমুক্তি কামনা করেছেন।
























