আঘাত হেনেছে রেমাল, অতিক্রমে লাগবে ৮ঘন্টা
- আপডেট সময় : ০৯:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪ ১৯১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল। রোববার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টায় রেমালের অগ্রভাগ উপকূল স্পর্শ করে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ড. শামিম হাসান ভুইয়া। রাতে আবহাওয়ার বিশেষ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ড. শামিম বলেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল উপকূল অতিক্রম করতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় নেবে। রাত আটটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র মোংলার দক্ষিণপশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। ভয়াবহ ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ৮-১২ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
আবহাওয়া অদিফতরের তথ্যমতে, রেমালের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং এসব এলাকার দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
রোববার রাতে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে চব্বিশ পরগনায় প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাবার সতর্ক বার্তা দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর। সেই সতর্ক বার্তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আংশিক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কলকাতা মেট্রোর পরিষেবা।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে আর টালিগঞ্জ থেকে নিউ গরিয়া পর্যন্ত মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকবে। দক্ষিণেশ্বর থেকে টালিগঞ্জ বা মহানায়ক উত্তমকুমার মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত এখনও পর্যন্ত মেট্রো চলাচল সচল রয়েছে।
টালিগঞ্জ বা মহানায়ক উত্তমকুমার মেট্রো স্টেশনের পর থেকে নিউ গড়িয়া বা কবি সুভাষ পর্যন্ত মোট ৬টি স্টেশন রয়েছে। এগুলো হলো নেতাজি, মাস্টারদা সূর্য সেন, গীতাঞ্জলি, কবি নজরুল, শহিদ ক্ষুদিরাম। মূলত এই সব এলাকায় মেট্রো মাটির নিচে চলে না। বরং সড়ক থেকে অনেকটা উপরে ব্রিজের উপরে চলে। ফলে ঝোড়ো হাওয়ায় দুর্ঘটনার শঙ্কা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে একই সঙ্গে মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার রাতে মহানায়ক উত্তমকুমার থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। দুই স্টেশন থেকেই নির্ধারিত সময়ে শেষ মেট্রো ছাড়বে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের আশংকাজনক রোববার দুপুরের পরপরই ফ্লাইট অপারেশন স্থগিত করে কলকাতা বিমানবন্দর। এতে গোটা বিমানবন্দরের কর্মচাঞ্চল্য বন্ধ হয়ে সুনশান নীরবতা নেমে আসে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে, শালিমার রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনগুলোকে শিকল এবং তালার সাহায্যে রেলপথের সঙ্গে বেঁধে দেয়া হয় যাতে প্রবল বাতাসের তোড়ে থামা ট্রেনগুলো দূরে সরে না যায়।
ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় সোমবারও ওই শাখায় ১০টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের জেরে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে রাজ্যের উপকূলবর্তী দুই জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর। দক্ষিণ-পূর্ব রেল জানিয়েছে, আগামী সোমবার দিঘা যাওয়া-আসার সব ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
পূর্ব রেলের তরফে আগেই জানানো হয়, রিমালের কারণে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা এবং বারাসত-হাসনাবাদ বিভাগে রোববার রাত ১১টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ট্রেন পরিষেবা।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে রোববার ত্রিপুরা সরকার খোয়াই, ধলাইসহ চারটি জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছে।



















