ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতের হারে ইতিহাসের চাবিকাঠি বাংলাদেশের হাতে তরুণদের কর্মসংস্থান ও বস্তিবাসীর পুনর্বাসনে কাজ করবে বিএনপি: তারেক রহমান ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা, ‘গ্রিনেসবুকে’ নাম লিখানোর উদ্যোগ রমজানের আগে বাজারে মূল্যচাপ, নিত্যপণ্যে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী  নির্বাচন বানচালে দেশজুড়ে গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে: মির্জা ফখরুল যুদ্ধ বন্ধে প্রথমবার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, তারপরও ভারতে ম্যাচ! আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ফারুকীর ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ আগামী নির্বাচনে ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা, ‘গ্রিনেসবুকে’ উদ্যোগ

Singer ‍Silpi Biswas : গানে গানে ভাষা শহীদদের বন্দনায় ‘শিল্পী বিশ্বাস’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ৪৮৭ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘পলাশের পাপঁড়িতে
একুশের রক্তের দাগ
ম্লান হবেনা কোনদিন
ভাষার জন্যে যাঁরা দিয়ে গেলো প্রাণ
ভুলি নাই ভুলবো না
এ রক্তের ঋণ’

 

ঋদ্ধিমান চৌধুরী

 

বাংলাদেশের আকাশে বাতাসে শোকের মাতম। ফেব্রুয়ারি মাসটি শোকের মাস হিসেবে পালন করা হয় বাংলাদেশে। কারণ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে বের করা ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি চালিয়েছিলো বর্বর পাক বাহিনী। গুলিবিদদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েছিলো সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে।

পৃথিবীতে ভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গের নজির বাংলাদেশেরই। ৫২ ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই ৭১’র সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লালসবুজে খচিত পতাকা অর্জন করে বাংলাদেশ। স্বাধীন-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আজ সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অদূরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে মাসব্যাপী অমর একুশে বই মেলা।

একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। এই মাস ঘিরে শহীদদের স্মরণে গান, নাটক, নতুন বই প্রকাশ ইত্যাদি ঢাকার নিয়মিত চর্চারই অংশ।

এবারে ভাষা মাসে শিল্পী বিশ্বাসের দুটো গান প্রকাশিত হয়েছে। ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌছাতেই চোখে পড়ে বর্ণমালা খচিত সাদাকালো শাড়ি পড়িহিত পরিপাটি এক নারী ক্যামেরার সামনে গানের শুটিংয়ে ব্যস্ত। বোঝা গেলো তিনি একজন কণ্ঠশিল্পী।

এগিয়ে গিয়ে পরিচয় জানতেই স্মিত হেসে মোলায়েম কণ্ঠে বললেন তিনি একজন কণ্ঠ শিল্পী। নাম শিল্পী বিশ্বাস। একাধারে কণ্ঠশিল্পী, সংগঠক এবং ভাবজগতের মানুষ। শহীদ স্মরণে তার গানের চিত্রায়ন করতে এখনে আসা।

রাম-রহিম ভাবেন না। সুর তাললয়ের জগতের বাসিন্দা সুর দিয়ে মানুষের আত্মার খোরাক মিটান। তার গানে অগুনতি ভক্তশ্রোতাকে ভাসিয়ে নিয়ে যান সুরের স্রোতস্বিনীতে। নিজেকে উজার করে সুরকেই আপন করে নিয়েছেন। এটাই শিল্পীর ঠিকানা।

দুটো গানের মধ্যে ‘পলাশের পাপঁড়িতে একুশের রক্তের দাগ ম্লান হবেনা কোনদিন’ গানটি লিখেছেন মোঃ হাবিবুল্লাহ, সুর করেছেন ফয়সাল আহমেদ এবং সঙ্গীতে  রোজেন রহমান।

অপর গানটি

মায়ের ভাষায় বলতে কথা
প্রাণ দিয়েছে আমার ভাই
রফিক-শফিক … ভাষার শহিদ
তাদের কোনো মৃত্যু নাই।
গানের কথা ড. তপন বাগচী,
সুর করেছেন ওস্তাদ সুজিত মোস্তফা

ভাষা শহীদদের নিয়ে শিল্পীর দরদমাখা কণ্ঠে গাওয়া গান দুটো যে সাধারণ মানুষের হ্রদমন্দিরে স্থান করে নেবে একথা সহজেই বলা যায়। সকল ধরণের গানই তিনি করে থাকে। বিশেষ করে নজরুলের গানই শিল্পীর কণ্ঠে সাবলিল। পাশাপাশি লোকজ গানেও জমিয়ে তোলেন যেকোন আসর।


শিল্পীর গান শুনে মনে হয়েছে, ‘শৈশবে বাড়ির পাশের আখড়ায় বাউল-বৈরাগীর একতারার সুর শুনলেই ছুটে যেতেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো’। সুরের স্রোতে ভেসে যেতো। বৈরাগীর মুঠোভর্তি ফুল নিয়ে কাধে হাত রাখতেই সম্বিত ফিরে পায় শিল্পী। কি গো মা ? সুরের মোহে যে একবারে হারিয়ে গেলে। এই ধরো এটা আর্শিবাদের ফুল। বৈরাগীর মুঠোভর্তি ফুল দুহাত ভরে যেতো। কচি মনের সেকি উতালা। এ সবই সুরের মোহ। এ পথে চলার যে শেষ নেই। একের পর নতুন নতুন সুর সৃষ্টি এবং গাওয়ার এক অলৌকিক আকর্ষণ থেকে নিজেকে মুক্ত করা যায়?

গানই শিল্পী বিশ্বাসের সাধনার মন্দির। গানই তার হ্রদস্পন্দন। তার চোখের সামনে বাংলার লোকসঙ্গীতের ক্যানভাস। মানুষের ভালোবাসা ও আর্শিবাদ নিয়ে সুরের সমৃদ্ধির মধ্যে বেচে থাকতে চান তিনি। শিল্পী মনে করেন, ‘হাত বাড়ালেই বন্ধু, পা বাড়ালেই পথ’।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

Singer ‍Silpi Biswas : গানে গানে ভাষা শহীদদের বন্দনায় ‘শিল্পী বিশ্বাস’

আপডেট সময় : ১১:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২২

‘পলাশের পাপঁড়িতে
একুশের রক্তের দাগ
ম্লান হবেনা কোনদিন
ভাষার জন্যে যাঁরা দিয়ে গেলো প্রাণ
ভুলি নাই ভুলবো না
এ রক্তের ঋণ’

 

ঋদ্ধিমান চৌধুরী

 

বাংলাদেশের আকাশে বাতাসে শোকের মাতম। ফেব্রুয়ারি মাসটি শোকের মাস হিসেবে পালন করা হয় বাংলাদেশে। কারণ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে বের করা ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি চালিয়েছিলো বর্বর পাক বাহিনী। গুলিবিদদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েছিলো সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে।

পৃথিবীতে ভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গের নজির বাংলাদেশেরই। ৫২ ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই ৭১’র সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লালসবুজে খচিত পতাকা অর্জন করে বাংলাদেশ। স্বাধীন-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আজ সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অদূরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে মাসব্যাপী অমর একুশে বই মেলা।

একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। এই মাস ঘিরে শহীদদের স্মরণে গান, নাটক, নতুন বই প্রকাশ ইত্যাদি ঢাকার নিয়মিত চর্চারই অংশ।

এবারে ভাষা মাসে শিল্পী বিশ্বাসের দুটো গান প্রকাশিত হয়েছে। ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌছাতেই চোখে পড়ে বর্ণমালা খচিত সাদাকালো শাড়ি পড়িহিত পরিপাটি এক নারী ক্যামেরার সামনে গানের শুটিংয়ে ব্যস্ত। বোঝা গেলো তিনি একজন কণ্ঠশিল্পী।

এগিয়ে গিয়ে পরিচয় জানতেই স্মিত হেসে মোলায়েম কণ্ঠে বললেন তিনি একজন কণ্ঠ শিল্পী। নাম শিল্পী বিশ্বাস। একাধারে কণ্ঠশিল্পী, সংগঠক এবং ভাবজগতের মানুষ। শহীদ স্মরণে তার গানের চিত্রায়ন করতে এখনে আসা।

রাম-রহিম ভাবেন না। সুর তাললয়ের জগতের বাসিন্দা সুর দিয়ে মানুষের আত্মার খোরাক মিটান। তার গানে অগুনতি ভক্তশ্রোতাকে ভাসিয়ে নিয়ে যান সুরের স্রোতস্বিনীতে। নিজেকে উজার করে সুরকেই আপন করে নিয়েছেন। এটাই শিল্পীর ঠিকানা।

দুটো গানের মধ্যে ‘পলাশের পাপঁড়িতে একুশের রক্তের দাগ ম্লান হবেনা কোনদিন’ গানটি লিখেছেন মোঃ হাবিবুল্লাহ, সুর করেছেন ফয়সাল আহমেদ এবং সঙ্গীতে  রোজেন রহমান।

অপর গানটি

মায়ের ভাষায় বলতে কথা
প্রাণ দিয়েছে আমার ভাই
রফিক-শফিক … ভাষার শহিদ
তাদের কোনো মৃত্যু নাই।
গানের কথা ড. তপন বাগচী,
সুর করেছেন ওস্তাদ সুজিত মোস্তফা

ভাষা শহীদদের নিয়ে শিল্পীর দরদমাখা কণ্ঠে গাওয়া গান দুটো যে সাধারণ মানুষের হ্রদমন্দিরে স্থান করে নেবে একথা সহজেই বলা যায়। সকল ধরণের গানই তিনি করে থাকে। বিশেষ করে নজরুলের গানই শিল্পীর কণ্ঠে সাবলিল। পাশাপাশি লোকজ গানেও জমিয়ে তোলেন যেকোন আসর।


শিল্পীর গান শুনে মনে হয়েছে, ‘শৈশবে বাড়ির পাশের আখড়ায় বাউল-বৈরাগীর একতারার সুর শুনলেই ছুটে যেতেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো’। সুরের স্রোতে ভেসে যেতো। বৈরাগীর মুঠোভর্তি ফুল নিয়ে কাধে হাত রাখতেই সম্বিত ফিরে পায় শিল্পী। কি গো মা ? সুরের মোহে যে একবারে হারিয়ে গেলে। এই ধরো এটা আর্শিবাদের ফুল। বৈরাগীর মুঠোভর্তি ফুল দুহাত ভরে যেতো। কচি মনের সেকি উতালা। এ সবই সুরের মোহ। এ পথে চলার যে শেষ নেই। একের পর নতুন নতুন সুর সৃষ্টি এবং গাওয়ার এক অলৌকিক আকর্ষণ থেকে নিজেকে মুক্ত করা যায়?

গানই শিল্পী বিশ্বাসের সাধনার মন্দির। গানই তার হ্রদস্পন্দন। তার চোখের সামনে বাংলার লোকসঙ্গীতের ক্যানভাস। মানুষের ভালোবাসা ও আর্শিবাদ নিয়ে সুরের সমৃদ্ধির মধ্যে বেচে থাকতে চান তিনি। শিল্পী মনে করেন, ‘হাত বাড়ালেই বন্ধু, পা বাড়ালেই পথ’।