Selina Hossain : সেলিনা হোসেন সাহিত্যের সঙ্গে যার বসবাস
- আপডেট সময় : ০৮:১৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ৫১০ বার পড়া হয়েছে
এ এইচ ঋদ্ধিমান
মেলায় ঘুরে ঘুরে বই কিনে ক্লান্ত তিনি। লেকের তীরে বঙ্গবন্ধু কর্ণারের পূর্ব পাশে লেখকের স্মৃতিচারণ কেন্দ্রের বিশাল প্যান্ডেল। সেখানেই বসেছিলেন তিনি। অপলক তাকিয়ে কি যেন ভাবছেন। পাশে বেগভর্তি বই। রয়েছে শান্ত স্বভাবের এক কিশোর।
এগিয়ে গিয়ে কি কি বই কিনলেন জানতে চাইলে হাসিমুখে ওঠে দাড়ালেন। এরপর হেসে বললেন, বেশ কয়েকটি বই কিনেছেন। তিনি নিজেও একজন লেখক। এবছর তার ‘স্পন্দিক জাহান’ শিরোনামে একটি বই এসেছে। গেলো বছরে যৌথ লেখকদের লেখায় সমৃদ্ধ ১৫টি বই এসেছিলো মেলায়।
তিনি একাধারে লেখক, সমাজচিন্তক, সংগঠক এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের বাসিন্দা। নাম সেলিনা হোসেন। বসবাস করেন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সোনারগাঁও। রাজধানীর মানচিত্র ছাপিয়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক ধরে ঘন্টাখানেকের পথ। তার বাসস্থান রেখেই যেতে হয় বারদীর বাবা লোকনাথের আশ্রমে।
আশ্রমের অদূরে এশিয়া মহাদেশের বিশিষ্ট রাজনীতিক জ্যোতি বসুর বাড়ি। যিনি ১৯৭৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একটানা তেইশ বছর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জ্যোতি বসুই ভারতের দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
অনেক ঐতিহ্যকে ধারণ করে রয়েছে সোনারগাঁও। এখানের ঈশা খাঁ আর বারো ভূঁইয়াদের শাসনামল ইতিহাসের অংশ। পানাম নগরী এখনও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি। পুষ্টিহীন দেহ নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। জানালেন সেলিনা। কথায় কথায় বললেন চলে আসুন একদিন। প্রাণবন্ত মানুষটি সহজেই আপন করে নিলেন। মনে হলো কতোকালের চেনা।
সময় গড়িয়ে যায়। এরই মধ্যে আরেক বন্ধু এসে যুক্ত হন। তারপর আড্ডার এক পর্যায়ে চা-কফি পর্ব। বললেন হোস্টেল থেকে ছেলেকে নিয়ে সোজা মেলায় চলে এসেছেন। দুসন্তানের জননী সেলিনা হোসেনের লেখালেখির অভ্যসটা শৈশব থেকেই। বলা যায় সাহিত্যের সঙ্গে বসবাস। সংসারের কাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লেখালেখির বিষয়টিও চালিয়ে যান সমান তালে। যেমন খুব সহজভাবে মেশেন, তেমনি লিখেনও সহজভাবে। সবার মধ্যে এমন গুণের উপস্থিতি থাকেনা।
তার সঙ্গে সময় কাটিয়ে মনে হয়েছে, তার ভাবনার ক্যানভাস বিশাল। ইচ্ছে করলেই তা সবার হয়ে ওঠে না। যেটা সেলিনার মধ্যে রয়েছে। সমাজের প্রতি তার ভালোবাসা এবং দায়বদ্ধতা রয়েছে। তার কথায় এবং আচার আচরণে এ বিষয়টি বুঝতে কোন অসুবিধা হয়নি।
একারণের তার লেখার মালমশলা হচ্ছে সামাজিক অনুষঙ্গ। সমাজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উপাত্ত সাজিয়ে তোলেন কলমে। তিনি একাধারে শিল্পীও। নিজেকে সেখানে দাঁড় করাতে না পারলে যে পিছিয়ে থাকা মানুষগুলোর বয়ান তুলে আনতে পারবেন না কাগজের ভাঁজে ভাঁজে। এখানেই সেলিনা হোসেনের স্বার্থকতা।
একজন লেখকের কলমে যে স্মৃতিচারণ ওঠে আসে তা মূলত সমাজ ভাবনারই স্মারক। এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই লেখকে সঠিক পথে হাটতে হয়। দুর্বোধ্য নয়, জলের মতো স্বচ্ছ এবং আলোর মতো পরিচ্ছন্ন সহজ লেখাইতো মানুষের হ্রদমন্দিরে জায়গা করে নেয়। সেই পথ ধরেই এগিয়ে চলেছেন বন্ধুবৎসল লেখক সেলিনা হোসেন। আগামীতে পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনগাঁথা ওঠে আসবে তার কলমে এমনটাই প্রত্যাশা।

























