ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত শার্শায় র‌্যাবের অভিযানে ২৯৭০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে-চীনা রাষ্ট্রদূত তৈরি পোশাকখাত এখন পোশাক খাত এখন আইসিইউতে: মোহাম্মদ হাতেম তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ব্যবসা মন্দা, আয় সংকোচন ও রাজস্ব ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি  নির্বাচন কমিশনের সামনে বিজিবি মোতায়েন, ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত মাদারীপুরে বাস অটোরিকশা সংঘর্ষ প্রাণ গেল ৬জনের বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার রমজান সামনে আগেই চড়া বাজার: দামে লাগাম টানতে কড়া নজরদাবি জরুরি

Millions of people could die in Iraq alone :  ইরাকেই মারা যেতে পারে লক্ষাধিক মানুষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩ ১৯৪ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Global environmental disaster in heat waves,

There can be extreme disaster in public lif

তাপপ্রবাহে বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত বিপর্যয়, জনজীবনে চরম বিপর্যয় দেখা দিতে পারে

 

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্ব জুড়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা যেভাবে ঊর্ধমুখী তাতে অচিরেই জনজীবনে চরম বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তাপজনিত মৃত্যুর হার দ্রুত বাড়তে পারে। এতে চলতি শতকে শুধু ইরাকেই মৃত্যু হতে পারে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের। বিশ্বসংবাদমাধ্যম এমন পিলে চমকানো তথ্য দিয়েছে।

ইরাকে কখনো কখনো তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। সেই অবস্থায় মানুষ বাঁচে কী করে? কীভাবে অফিসের কাজ, ব্যবসায়বাণিজ্য করে? জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত প্রতিবেদকদের বাগদাদভিত্তিক একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা খোলুদ আল-আমিরি জানান, সে রকম গরমে ইরাকের বেশির ভাগ মানুষ ছুটি কাটান এবং ঘরেই থাকেন।

ছবি সংগ্রহ

আমরা সাধারণত দাবদাহের তথ্য আল ইরাকিয়া (রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল) থেকে আগেই পেয়ে যাই। মাঝে মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেওয়া হয়। বার্তা আসে আমাদের কাজে না যাবার। স্বাস্থ্য খুব নাজুক এমন ব্যক্তিদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, আমরা যেন পাখি বা অন্য প্রাণীদের জন্য গাছের নিচে পানি রেখে আসি, সেই বার্তাও দেওয়া হয়।

আল-আমিরি বলেন, তীব্র দাবদাহের সময় প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বাঁচার কৌশল ইরাকের মানুষ মূলত নিজে নিজেই শিখে নেয়। সাধারণত ইরাকিরা নিজেরাই এই সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করে। কারণ, সরকার সাহায্য করবে এমন বিশ্বাস তাদের খুব কম।

বিপর্যয়ের শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা

গত মে মাসে বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল ন্যাচার সাসটেইনেবলিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির চেয়ে বেশি বেড়ে ভয়াবহ অবস্থায় চলে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ মানুষ তীব্র দাবদাহের মুখে পড়বে।

গত এপ্রিলে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলছে, আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় তাপজনিত মৃত্যু ব্যাপক হারে বাড়বে।

মেডিক্যাল জার্নালে আরও বলা হয়েছে, প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে এসব অঞ্চলে বর্তমানে ১ হাজার মানুষের মধ্যে দুই জনের মৃত্যু হয় তাপজনিত রোগে।

সেই সংখ্যা চলতি শতাব্দীর শেষ দুই দশকে ১২৩-এ গিয়ে দাঁড়াবে। এভাবে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে শুধু ইরাকেই তাপজনিত অসুস্থতায় মারা যাবে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ।

পরিকল্পনায় কী কী রাখা উচিত সরকারের, এ প্রশ্নের উত্তরটা সবচেয়ে সহজ করে দিয়েছেন আল-আমিরি। তিনি বলেন, আমাদের জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য ডেডিকেটেড ক্লিনিক গড়তে হবে। আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা আরো উন্নত করতে হবে।

এসবের পাশাপাশি প্রচুর গাছ লাগিয়ে সবুজের বিস্তার ঘটাতে হবে। তবে ল্যানসেটের গবেষকরা মনে করেন, এসব করলেও তাপমাত্রা আশানুরূপ কমবে না। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দাবদাহজনিত মৃত্যুর ৮০ শতাংশই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে তার জন্য বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আটকে রাখতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Millions of people could die in Iraq alone :  ইরাকেই মারা যেতে পারে লক্ষাধিক মানুষ

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩

Global environmental disaster in heat waves,

There can be extreme disaster in public lif

তাপপ্রবাহে বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত বিপর্যয়, জনজীবনে চরম বিপর্যয় দেখা দিতে পারে

 

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্ব জুড়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা যেভাবে ঊর্ধমুখী তাতে অচিরেই জনজীবনে চরম বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তাপজনিত মৃত্যুর হার দ্রুত বাড়তে পারে। এতে চলতি শতকে শুধু ইরাকেই মৃত্যু হতে পারে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের। বিশ্বসংবাদমাধ্যম এমন পিলে চমকানো তথ্য দিয়েছে।

ইরাকে কখনো কখনো তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। সেই অবস্থায় মানুষ বাঁচে কী করে? কীভাবে অফিসের কাজ, ব্যবসায়বাণিজ্য করে? জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত প্রতিবেদকদের বাগদাদভিত্তিক একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা খোলুদ আল-আমিরি জানান, সে রকম গরমে ইরাকের বেশির ভাগ মানুষ ছুটি কাটান এবং ঘরেই থাকেন।

ছবি সংগ্রহ

আমরা সাধারণত দাবদাহের তথ্য আল ইরাকিয়া (রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল) থেকে আগেই পেয়ে যাই। মাঝে মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেওয়া হয়। বার্তা আসে আমাদের কাজে না যাবার। স্বাস্থ্য খুব নাজুক এমন ব্যক্তিদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, আমরা যেন পাখি বা অন্য প্রাণীদের জন্য গাছের নিচে পানি রেখে আসি, সেই বার্তাও দেওয়া হয়।

আল-আমিরি বলেন, তীব্র দাবদাহের সময় প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বাঁচার কৌশল ইরাকের মানুষ মূলত নিজে নিজেই শিখে নেয়। সাধারণত ইরাকিরা নিজেরাই এই সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করে। কারণ, সরকার সাহায্য করবে এমন বিশ্বাস তাদের খুব কম।

বিপর্যয়ের শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা

গত মে মাসে বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল ন্যাচার সাসটেইনেবলিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির চেয়ে বেশি বেড়ে ভয়াবহ অবস্থায় চলে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ মানুষ তীব্র দাবদাহের মুখে পড়বে।

গত এপ্রিলে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলছে, আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় তাপজনিত মৃত্যু ব্যাপক হারে বাড়বে।

মেডিক্যাল জার্নালে আরও বলা হয়েছে, প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে এসব অঞ্চলে বর্তমানে ১ হাজার মানুষের মধ্যে দুই জনের মৃত্যু হয় তাপজনিত রোগে।

সেই সংখ্যা চলতি শতাব্দীর শেষ দুই দশকে ১২৩-এ গিয়ে দাঁড়াবে। এভাবে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে শুধু ইরাকেই তাপজনিত অসুস্থতায় মারা যাবে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ।

পরিকল্পনায় কী কী রাখা উচিত সরকারের, এ প্রশ্নের উত্তরটা সবচেয়ে সহজ করে দিয়েছেন আল-আমিরি। তিনি বলেন, আমাদের জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য ডেডিকেটেড ক্লিনিক গড়তে হবে। আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা আরো উন্নত করতে হবে।

এসবের পাশাপাশি প্রচুর গাছ লাগিয়ে সবুজের বিস্তার ঘটাতে হবে। তবে ল্যানসেটের গবেষকরা মনে করেন, এসব করলেও তাপমাত্রা আশানুরূপ কমবে না। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দাবদাহজনিত মৃত্যুর ৮০ শতাংশই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে তার জন্য বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আটকে রাখতে হবে।