ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত শার্শায় র‌্যাবের অভিযানে ২৯৭০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে-চীনা রাষ্ট্রদূত তৈরি পোশাকখাত এখন পোশাক খাত এখন আইসিইউতে: মোহাম্মদ হাতেম তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ব্যবসা মন্দা, আয় সংকোচন ও রাজস্ব ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি  নির্বাচন কমিশনের সামনে বিজিবি মোতায়েন, ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত মাদারীপুরে বাস অটোরিকশা সংঘর্ষ প্রাণ গেল ৬জনের বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার রমজান সামনে আগেই চড়া বাজার: দামে লাগাম টানতে কড়া নজরদাবি জরুরি

India-Europe Economic Corridor : ভারত-ইউরোপ নতুন অর্থনৈতিক করিডর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৩৭ বার পড়া হয়েছে

ভারতের নয়াদিল্লিতে শনিবার অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে নতুন এই অর্থনৈতিক করিডরের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ছবি: মোদির টুইটার থেকে

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারত, পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপে আর্থিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে ঘোষিত হয়েছে এক নতুন রেল ও জাহাজ চলাচলের করিডর

 

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত, পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপে আর্থিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে ঘোষিত হয়েছে এক নতুন রেল ও জাহাজ চলাচলের করিডর। নতুন এই করিডর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) কিংবা ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ (ওবিওআর) প্রকল্পের সঙ্গে পাল্লা দিতে চলেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র?

শনিবার ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে নতুন অর্থনৈতিক করিডরের কথা ঘোষণা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এটি ভারত থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে রেল ও সমুদ্রপথে সংযুক্ত করাই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। তাতে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি শক্তি সম্পদ বিনিময় ও ডিজিটাল যোগাযোগও বহুগুণ বেড়ে যাবার প্রত্যাশা রয়েছে।

বিস্তীর্ণ এই করিডর বাণিজ্য খরচ কমিয়ে দেবে বহুলাংশে। উপকৃত হবে সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী মোদি জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের অবসরে এই প্রকল্প রূপায়ণে একটি অনুচুক্তি সই করে বলেন, এটা এক ‘ঐতিহাসিক পার্টনারশিপ’। ভারত ছাড়াও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এতে স্বাক্ষর করেছে।

পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ সম্প্রসারণের চেষ্টা ভারত যখনই করেছে, বাদ সেধেছে পাকিস্তান। তারা কখনো চায়নি ভারতকে সেই সুযোগ দিতে। ১৯৯০ সাল থেকে এই বিষয়ে তারা সক্রিয়। পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান বা পশ্চিম এশিয়ায় যোগসূত্র স্থাপনে ভারতকে সাহায্যের হাত তারা বাড়িয়ে দেয়নি। ভয় ও অবিশ্বাসই তার প্রধান কারণ।

পাকিস্তানকে সে বিষয়ে ক্রমাগত উৎসাহিত করে গেছে তাদের সর্বঋতুর বন্ধু চীন বরং পাকিস্তানকে তালুবন্দী করে চীন এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছে তার ‘ওবিওআর’ বা ‘বিআরআই’ প্রকল্প। এবার পশ্চিম ও উত্তরের দুই প্রতিবেশীর যাবতীয় বাধা কাটিয়ে ভারত তার পশ্চিমাভিযান সফল করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই উদ্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম এশিয়ার সৌদি আরব, আমিরাতসহ ভারতের নতুন বন্ধুরা।

এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যুক্তরাষ্ট্রও আগ্রহী। তার প্রধান কারণ, দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ায় চীনের প্রভাব কমানো। চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা যথাক্রমে অজিত দোভাল ও জেক সুলিভানের বৈঠকে এই প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়।

তারপর কথাবার্তা এগোয় দ্রুতগতিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগ্রহ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে পূর্ব লাদাখে চীনের অনমনীয় মনোভাবের দরুন। আকসাই চীন ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট ও বালটিস্তানের মধ্য দিয়ে চীন তার ‘বিআরআই’ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছে। ভারতের আপত্তি তারা আমলেই আনছে না। এই পরিস্থিতিতে পাল্টা এমন কিছু একটা করতে তিনি আগ্রহী ও উৎসাহী হয়েছেন স্বাভাবিক কারণেই।

এই বিরাট প্রকল্পের অর্থায়ন কীভাবে হবে, জি-২০তে যোগদানকারী এই দেশগুলোর কোনো নেতাই তা স্পষ্ট করেননি। প্রকল্প শেষের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, এখনো অনেক জটিলতা কাটানো বাকি। শনিবার যা হয়েছে, তা নিতান্তই নীতিগত ঘোষণা। আনুষ্ঠানিক সলতে পাকানোর কাজ শুরু হয়েছে বলা যায়।

এই প্রকল্পের কথা ঘোষণার সময় মোদি বলেন, ‘আমরা শুধু বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আগ্রহী নই, আমরা বিশ্বাসের যোগসূত্রও বাড়াতে চাই।’ গোটা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বারবার এই ‘বিশ্বাসের ঘাটতির’ কথাই উচ্চারণ করেছেন। বুঝিয়েছেন, সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল আধার বিশ্বাস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেনও সেই সুরে সুর মিলিয়ে বলেছেন, ‘এক বিশ্ব, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ আজকের জোটবদ্ধতার মূল মন্ত্র। এই নতুন অর্থনৈতিক করিডর চুক্তি সেই মন্ত্র মেনে সংযোগের ক্ষেত্র প্রসারিত করবে। তাই এই প্রকল্প ঐতিহাসিক ও বিপুল সম্ভাবনাময়।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

India-Europe Economic Corridor : ভারত-ইউরোপ নতুন অর্থনৈতিক করিডর

আপডেট সময় : ০৭:৫০:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ভারত, পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপে আর্থিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে ঘোষিত হয়েছে এক নতুন রেল ও জাহাজ চলাচলের করিডর

 

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত, পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপে আর্থিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে ঘোষিত হয়েছে এক নতুন রেল ও জাহাজ চলাচলের করিডর। নতুন এই করিডর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) কিংবা ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ (ওবিওআর) প্রকল্পের সঙ্গে পাল্লা দিতে চলেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র?

শনিবার ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে নতুন অর্থনৈতিক করিডরের কথা ঘোষণা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এটি ভারত থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে রেল ও সমুদ্রপথে সংযুক্ত করাই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। তাতে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি শক্তি সম্পদ বিনিময় ও ডিজিটাল যোগাযোগও বহুগুণ বেড়ে যাবার প্রত্যাশা রয়েছে।

বিস্তীর্ণ এই করিডর বাণিজ্য খরচ কমিয়ে দেবে বহুলাংশে। উপকৃত হবে সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী মোদি জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের অবসরে এই প্রকল্প রূপায়ণে একটি অনুচুক্তি সই করে বলেন, এটা এক ‘ঐতিহাসিক পার্টনারশিপ’। ভারত ছাড়াও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এতে স্বাক্ষর করেছে।

পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ সম্প্রসারণের চেষ্টা ভারত যখনই করেছে, বাদ সেধেছে পাকিস্তান। তারা কখনো চায়নি ভারতকে সেই সুযোগ দিতে। ১৯৯০ সাল থেকে এই বিষয়ে তারা সক্রিয়। পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান বা পশ্চিম এশিয়ায় যোগসূত্র স্থাপনে ভারতকে সাহায্যের হাত তারা বাড়িয়ে দেয়নি। ভয় ও অবিশ্বাসই তার প্রধান কারণ।

পাকিস্তানকে সে বিষয়ে ক্রমাগত উৎসাহিত করে গেছে তাদের সর্বঋতুর বন্ধু চীন বরং পাকিস্তানকে তালুবন্দী করে চীন এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছে তার ‘ওবিওআর’ বা ‘বিআরআই’ প্রকল্প। এবার পশ্চিম ও উত্তরের দুই প্রতিবেশীর যাবতীয় বাধা কাটিয়ে ভারত তার পশ্চিমাভিযান সফল করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই উদ্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম এশিয়ার সৌদি আরব, আমিরাতসহ ভারতের নতুন বন্ধুরা।

এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যুক্তরাষ্ট্রও আগ্রহী। তার প্রধান কারণ, দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ায় চীনের প্রভাব কমানো। চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা যথাক্রমে অজিত দোভাল ও জেক সুলিভানের বৈঠকে এই প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়।

তারপর কথাবার্তা এগোয় দ্রুতগতিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগ্রহ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে পূর্ব লাদাখে চীনের অনমনীয় মনোভাবের দরুন। আকসাই চীন ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট ও বালটিস্তানের মধ্য দিয়ে চীন তার ‘বিআরআই’ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছে। ভারতের আপত্তি তারা আমলেই আনছে না। এই পরিস্থিতিতে পাল্টা এমন কিছু একটা করতে তিনি আগ্রহী ও উৎসাহী হয়েছেন স্বাভাবিক কারণেই।

এই বিরাট প্রকল্পের অর্থায়ন কীভাবে হবে, জি-২০তে যোগদানকারী এই দেশগুলোর কোনো নেতাই তা স্পষ্ট করেননি। প্রকল্প শেষের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, এখনো অনেক জটিলতা কাটানো বাকি। শনিবার যা হয়েছে, তা নিতান্তই নীতিগত ঘোষণা। আনুষ্ঠানিক সলতে পাকানোর কাজ শুরু হয়েছে বলা যায়।

এই প্রকল্পের কথা ঘোষণার সময় মোদি বলেন, ‘আমরা শুধু বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আগ্রহী নই, আমরা বিশ্বাসের যোগসূত্রও বাড়াতে চাই।’ গোটা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বারবার এই ‘বিশ্বাসের ঘাটতির’ কথাই উচ্চারণ করেছেন। বুঝিয়েছেন, সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল আধার বিশ্বাস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেনও সেই সুরে সুর মিলিয়ে বলেছেন, ‘এক বিশ্ব, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ আজকের জোটবদ্ধতার মূল মন্ত্র। এই নতুন অর্থনৈতিক করিডর চুক্তি সেই মন্ত্র মেনে সংযোগের ক্ষেত্র প্রসারিত করবে। তাই এই প্রকল্প ঐতিহাসিক ও বিপুল সম্ভাবনাময়।’