healthy environment : : আপনিই দিতে পারেন নিষ্পাপ শিশুর ‘সুস্থ পরিবেশ’
- আপডেট সময় : ১০:৩৩:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ অগাস্ট ২০২২ ৩৭৮ বার পড়া হয়েছে
অনিরুদ্ধ
ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ একজন শিক্ষাবিদ, রবীন্দ্র গবেষক, লেখক, সম্পাদক ও সংগঠক। কিন্তু জলবায়ুর এই সংকটকালে সব কিছু ছাপিয়ে তিনি হয়ে ওঠেছেন ‘পরিবেশ মা’ তথা পরিবেশ রক্ষার একনিষ্ঠ কর্মী। তিনি মনে করেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি মানুষকে হাত লাগাতে হবে। নতুনবা নিজেদের আগুনের উত্তাপে নিজেদেরই জ্বলেপুড়ে মরতে হবে। সেদিন আর বেশি দূর নয়, যেদিন আমরা খাবার জল পাব না, আশঙ্কাজনকভাবে খাদ্য উৎপাদকমে যাবে। অকাল বন্যায় ভাসবে নানা প্রান্তর। তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে (হচ্ছে)। মানুষের মানুষে হানাহানিটা আরও ভয়ানকভাবে বেড়ে যাবে। সবাই বাচতে চাইবে, কিন্তু বাচার জন্য যে আমাদের পরিবেশটা রক্ষা করতে হবে, তা কিন্তু করছি না। অর্থাৎ কোন রকমের পূঁজি বিনিযোগ ছাড়াই লভাংশের মালিক আমরা। সেই আমরা কি সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবো?
বিশ্ব জুড়ে ভয়াবহতা!
আমেরিকায় একদিকে বন্যায় ভাসছে অন্যদিকে দাবানলে জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে বনজঙ্গল। ধ্বংস হচ্ছে, পশুপাখি, বন্যাপ্রাণী, মানুষ। নজিরবিহীন ক্ষতির মুখে পরিবেশ। মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। সর্বচ্চ চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। পশ্চিমা দেশজুড়ে বন্যা, খরা, দাবানলসহ পরিবেশ বিপর্যয় মারাত্মকরূপ নিয়েছে। এশিয়ার দেশগুলোর দিকে তাকালেও একই অবস্থা। রেকর্ড বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা, ফসল ও মানুষের প্রাণহানি, গবাদি পশু হারিয়ে মাথায় হাত কৃষকের। ফসলের মাঠে চাষাবাদ ব্যহত হচ্ছে। একদিকে বন্যা অপর দিকে জলের অভাবে চাষাবাদ বন্ধ, ভাবা যায়? এসবই হচ্ছে জলবায়ু সংকটের প্রভাব।
বাচার আকুতি
ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ বলছিলেন, মানুষের ধ্বংস মানুষ যতটা উৎসাহ নিয়ে ডেকে আনছে, তাহলো খাল কেটে কুমির আনার মতোই ঘটনা। কেন? এই ধরুন একটি বয়ষ্ক গাছ কেটে নতুন একটি চারা রোপন করার কথা আমরা ভুলে যাই। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় গড়ে তোলা, জলাভূমি ভরাট করে আবাসন গড়ে তোলার মধ্যে যে উৎসাহটা রয়েছে, বিপরীতে জলাশয় রক্ষার পদক্ষেপ কিন্তু সেভাবে নেওয়া হচ্ছে না। গঙ্গাসহ সকল নদ-নদী চরম দূষণের মধ্যে ধুকে ধুকে বেচে আছে কেন? এসব কি মানুষের কাজে আসে না? যদি কাজেই লাগে তাহলে একে রক্ষার দায়িত্বও তো আমাদের। পরিবেশ যখন আমরা রক্ষা করতে পারবোই না, তখনতো আমাদের বিপর্যয় ঘটবেই। তাতে সমাজবদ্ধ মানুষ নানা রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হবে, খোয়া যাবে অর্থ। সমস্যায় পরবে পরিবার। পরিবেশ দূষণের দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাবের মধ্য দিয়েই আমরা চলছি। নিজেদের রক্ষায় একমাত্র দাওয়াই হচ্ছে, সচেতন হওয়া, অন্যকে সচেতন করা। খালি জায়গা বেদখল না করে সেখানে আগামীর জন্য গাছ রোপন করা। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলা।

অবহেলার দিন শেষ
অবহেলায় অনেকটা সময় পার করে দিয়েছি আমরা। পরিবেশ দূষণটা চারিদিক থেকে সরিসৃপের মতো ঘিরে ধরছে আমরাদের! বাচার উপায় বলতে পারেন? পরিবেশ ধ্বংস করাটা যতটা সহজ তা রক্ষার দাওয়াইটা বাতলে দিন এবার। আগামী প্রজন্ম বাচতে চায়। আমরা সবাই বাচতে চাই। আর সেই নিরাপদ বেচে থাকার ফরমুলাটা দিন না।

আমার ঈশ্বর তাকিয়ে থাকেন
ঘরে আমার ঈশ্বর। কোন ভালো কাজ করে ঘরে ফিরে যাই, তখন তাকিয়ে থেকে মনে মনে তৃপ্তির নিশ্বাস নেয়। বাবাই আমার ঈশ্বর। প্রবীণ এই মানুষটিও চান পরিবেশটা রক্ষা হোক। তার স্থানে আগামী ফিরে পাক সুস্থ পরিবেশ। তার চাহনীতেই বুঝে যাই কি বলতে চান। প্রতিটি কাজের সঙ্গে তার আর্শিবাদ জড়িয়ে রয়েছে। এটা একটা শক্তি। আমার পরিবেশ রক্ষার বড় ছায়া। বাড়িঘর সবখানে একটা সুস্থ পরিবেশ। এটাই শক্তি যোগায়। আমাদের ঐক্যবদ্ধ সমাজ-ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষায় এখনই ঝাপিয়ে পড়তে হবে। মনে রাখতে হবে, আজকের ছোট্ট শিশুটির নিরাপদ পরিবেশে বাচার অধিকার রয়েছে। তার সেই অধিকার রক্ষায় সুস্থ পরিবেশ বাস্তবায়ন করাটা হচ্ছে আমাদের দায়িত্ব। সুস্থ পরিবেশ দেওয়াটাও কর্তব্য। নতুবা নিজেদের কোন দিন ক্ষমা করতে পারবো না। আপনার নিষ্পাপ শিশুটির জন্যই পরিবেশ রক্ষায় হাত লাগাতে হবে। মনে রাখতে হবে ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সমৃদ্ধ আগামী।’






















