ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা সিনিয়রে আনসার, জুনিয়রে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বনানীতে কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান অনিশ্চয়তায় অমর একুশে বইমেলা, পহেলা ফেব্রুয়ারিতে একদিনের প্রতীকী আয়োজন দেশপ্রেমের নামে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করছে তারা: চরমোনাই পীর ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য: সড়কে  বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে ফরিদপুরে অবৈধ অস্ত্র কারখানায় সেনা অভিযান, একাধিক সরঞ্জাম উদ্ধার পশ্চিমবঙ্গের মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে গেল বাংলাদেশি জাহাজ, উদ্ধার ১২ জন অস্ট্রেলিয়ায় হাঙরের কামড়ে আহত কিশোরের মৃত্যু বাংলাদেশ ক্রিকেট ইস্যুতে মন্তব্যের পর ভারতে মুসলিম অভিনেতা কেআরকের গ্রেফতার, বিতর্ক তুঙ্গে

Dhaka City : পরিকল্পিত ঢাকার জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ জরুরি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার একটি চিত্র : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

পৌরসভা আইন-২০০৯ অনুযায়ী কোনো এলাকাকে পৌরসভা ঘোষণার ক্ষেত্রে জনসংখ্যা ন্যূনতম ৫০ হাজার এবং গড় জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে দেড়হাজার জন হতে হবে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ অনুসারে, সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান পৌর এলাকার জনসংখ্যা ও জনসংখ্যার ঘনত্বকে বিবেচনায় রাখতে হবে। দেশের প্রচলিত আইনে নগর প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে নগর-পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার মূলে রয়েছে জনঘনত্বের বিষয়টি।

একটি জনপদ শহর না গ্রাম, তার মূল পার্থক্য হচ্ছে জনপদে জনসংখ্যার আকার ও ঘনত্ব। ছোট, মাঝারি ও বড় শহর ছাড়াও মেট্রো সিটি ও মেগা সিটির ক্ষেত্রে দুটি বিষয় পার্থক্য গড়ে দেয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে শহরের আকার বড় হয়। অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পুঁজির সন্নিবেশ চক্রাকারে শহরকে আরও বড় হতে সাহায্য করে।

ঢাকা মহানগর এলাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০২২-৩৫) বা ড্যাপেও জনঘনত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আর এই জনঘনত্ব ব্যবস্থাপনা এবং ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর)’ নিয়েই বেশি আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, যা একটু সবিস্তারে বোঝা প্রয়োজন।

পরিকল্পিত কোনো পাড়া-মহল্লার নকশায় ২০, ২৫, ৩০ বা ৪০ ফুটের রাস্তাসহ অন্যান্য সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে, যা বেশ কিছু সমীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক হিসাব কষে নির্ধারণ করা হয়। পরিকল্পিত এলাকায় প্রথমে একটি নির্দিষ্ট ‘অনুমিত জনসংখ্যা’ ও ‘জনঘনত্ব’ নির্ধারণের পর সেখানে প্লট বা ফ্ল্যাটের পরিমাণ এবং পরিমাপ নির্ধারণ করে রাস্তাসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা দেওয়া হয়।

যদি একর প্রতি ৩৫০ জন জনসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে ১০ একরের একটি এলাকার জন্য অনুমিত জনসংখ্যা হবে ৩ হাজার ৫০০। যদি সেখানে অন্য নাগরিক সুবিধা দেওয়ার পর ৩ কাঠার সর্বোচ্চ ১২০টি প্লটের সুযোগ রাখা হয় এবং প্রতিটি প্লটে ১ তলা বাড়ি সাপেক্ষে ১০ জন করে থাকতে পারেন, তবে মোট জনসংখ্যা হবে ১ হাজার ২০০। যদি সব প্লট ২ তলা হয়, তবে মোট জনসংখ্যা হবে ২ হাজার ৪০০, ৩ তলা হলে ৩ হাজার ৬০০, ৪ তলা হলে ৪ হাজার ৮০০, ৫ তলা হলে ৬ হাজার এবং ৬ তলা হলে ৭ হাজার ২০০ জন।

তিনতলাতেই এলাকার অনুমিত জনসংখ্যা বেশি হয়ে যাচ্ছে এবং ছয়তলাতেই তা দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাস্তাসহ অন্যান্য সুবিধা দ্বিগুণ হচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান চলাচলের জায়গা; জল, বিদ্যুৎ, গ্যাস, নর্দমা, পয়োনিষ্কাশন ইত্যাদি পরিষেবাসহ পার্ক; খেলার মাঠ; অন্যান্য নাগরিক সুবিধা কমে যাবে।

গণহারে ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করা হলে বিদ্যমান অবকাঠামো ও পরিষেবায় দ্বিগুণ চাপ পড়বে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন ড্যাপে জনঘনত্ব বিন্যাসের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে এবং এলাকার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী মানুষ বসবাস ও পর্যাপ্ত নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিতের চেষ্টা করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dhaka City : পরিকল্পিত ঢাকার জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ জরুরি

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২২

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

পৌরসভা আইন-২০০৯ অনুযায়ী কোনো এলাকাকে পৌরসভা ঘোষণার ক্ষেত্রে জনসংখ্যা ন্যূনতম ৫০ হাজার এবং গড় জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে দেড়হাজার জন হতে হবে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ অনুসারে, সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান পৌর এলাকার জনসংখ্যা ও জনসংখ্যার ঘনত্বকে বিবেচনায় রাখতে হবে। দেশের প্রচলিত আইনে নগর প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে নগর-পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার মূলে রয়েছে জনঘনত্বের বিষয়টি।

একটি জনপদ শহর না গ্রাম, তার মূল পার্থক্য হচ্ছে জনপদে জনসংখ্যার আকার ও ঘনত্ব। ছোট, মাঝারি ও বড় শহর ছাড়াও মেট্রো সিটি ও মেগা সিটির ক্ষেত্রে দুটি বিষয় পার্থক্য গড়ে দেয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে শহরের আকার বড় হয়। অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পুঁজির সন্নিবেশ চক্রাকারে শহরকে আরও বড় হতে সাহায্য করে।

ঢাকা মহানগর এলাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০২২-৩৫) বা ড্যাপেও জনঘনত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আর এই জনঘনত্ব ব্যবস্থাপনা এবং ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর)’ নিয়েই বেশি আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, যা একটু সবিস্তারে বোঝা প্রয়োজন।

পরিকল্পিত কোনো পাড়া-মহল্লার নকশায় ২০, ২৫, ৩০ বা ৪০ ফুটের রাস্তাসহ অন্যান্য সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে, যা বেশ কিছু সমীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক হিসাব কষে নির্ধারণ করা হয়। পরিকল্পিত এলাকায় প্রথমে একটি নির্দিষ্ট ‘অনুমিত জনসংখ্যা’ ও ‘জনঘনত্ব’ নির্ধারণের পর সেখানে প্লট বা ফ্ল্যাটের পরিমাণ এবং পরিমাপ নির্ধারণ করে রাস্তাসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা দেওয়া হয়।

যদি একর প্রতি ৩৫০ জন জনসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে ১০ একরের একটি এলাকার জন্য অনুমিত জনসংখ্যা হবে ৩ হাজার ৫০০। যদি সেখানে অন্য নাগরিক সুবিধা দেওয়ার পর ৩ কাঠার সর্বোচ্চ ১২০টি প্লটের সুযোগ রাখা হয় এবং প্রতিটি প্লটে ১ তলা বাড়ি সাপেক্ষে ১০ জন করে থাকতে পারেন, তবে মোট জনসংখ্যা হবে ১ হাজার ২০০। যদি সব প্লট ২ তলা হয়, তবে মোট জনসংখ্যা হবে ২ হাজার ৪০০, ৩ তলা হলে ৩ হাজার ৬০০, ৪ তলা হলে ৪ হাজার ৮০০, ৫ তলা হলে ৬ হাজার এবং ৬ তলা হলে ৭ হাজার ২০০ জন।

তিনতলাতেই এলাকার অনুমিত জনসংখ্যা বেশি হয়ে যাচ্ছে এবং ছয়তলাতেই তা দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাস্তাসহ অন্যান্য সুবিধা দ্বিগুণ হচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান চলাচলের জায়গা; জল, বিদ্যুৎ, গ্যাস, নর্দমা, পয়োনিষ্কাশন ইত্যাদি পরিষেবাসহ পার্ক; খেলার মাঠ; অন্যান্য নাগরিক সুবিধা কমে যাবে।

গণহারে ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করা হলে বিদ্যমান অবকাঠামো ও পরিষেবায় দ্বিগুণ চাপ পড়বে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন ড্যাপে জনঘনত্ব বিন্যাসের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে এবং এলাকার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী মানুষ বসবাস ও পর্যাপ্ত নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিতের চেষ্টা করা হয়েছে।