Bangladesh-Bharat Connectivity Network : বাংলাদেশ-ভারত নৌবাণিজ্যের উর্ধমুখি যাত্রা
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ মার্চ ২০২২ ৫১২ বার পড়া হয়েছে
পর্ব-৩
আমিনুল হক, ঢাকা
‘বাংলাদেশ-ভারত ১০টি নৌপ্রোটোকল রুটের মধ্যে কলকাতা-হলদিয়া-নারায়ণগঞ্জ রুটটি পুরোমাত্রায় চালু থাকলেও বাকী ৯টি জলপথই রুগ্ন! এসব জলপথ নাব্যতাসংকটে ধুকছে। দু’দেশের মধ্যে নৌবাণিজ্য কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও নাব্যসংকটই এখন বড় বাধা’
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে জলপথ আদর্শ তা ‘বিশ্বস্বীকৃত’। সমুদ্রপথে পণ্যপরিবহন ইতিহাসের একটা বড় অংশ দখল করে রয়েছে। পাল তোলা নৌকো থেকে আধুনিক শিপের মাধ্যমে আন্তঃমহাসাগরীয় পণ্যপরিবহন এখনও জনপ্রিয়তার শীর্ষে জলপথ। যে কোন পণ্যই জলপথে পরিবাহিত করা সম্ভব। ফলে দুনিয়ায় এখনও সর্বোচ্চ বাণিজ্যের প্রসার জলপথেই। জলপথ হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। প্রাকৃতিক জলপথ সময়-সাশ্রয়ী, নিরাপদ এবং অধিক পণ্যপরিহনে সক্ষম।
বাংলাদেশ-ভারত কানেক্টিভিটি নেটওয়ার্ক তথা আন্তর্জাতিক নৌপ্রেটোকল রুটে পণ্যপরিহন বেড়েছে কয়েকগুণ। তাতে বাংলাদেশি জাহাজ ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরের তথ্যটি পরিষ্কার বলছে, উভয় দেশের আমদানি-রফতানির পরিমাণ প্রতিবছরই বাড়ছে। ২০-২১ অর্থবছরে পণ্যপরিবহনের পরিমাণ ছিলো ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টনের বেশি। এসব পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ৩ হাজার ৯১৩টি ব্যবহৃত হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভারতের জাহাজ ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ২২৬টি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাহাজ ব্যবহৃত হয়েছে ৯২ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ নৌ-পরিবহন মন্ত্রক সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে এমন আশা জাগানিয়া তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রফতানি বাণিজ্যের পণ্য পরিবহনে সড়কপথের চেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নৌপথ। প্রতি বছরই উভয় দেশের মধ্যে নৌ-বাণিজ্য বেড়ে চলেছে। যার পুরোটাই বাংলাদেশি জাহাজ ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। ২০২০-২১ অর্থবছরে দু’দেশের মধ্যে নৌপথে পণ্য পরিবহনে যেসব জাহাজ ব্যবহৃত হয়েছে তার ৯২ শতাংশই বাংলাদেশি। বাকি মাত্র ৮ শতাংশ ভারতীয় জাহাজ। অথচ একটা সময় ভারত থেকে জলপথে কেবল সিমেন্ট খাতের কাঁচামাল ফ্ল্যাই আঁশ আমদানি হতো। সময়ের পিঠ বেয়ে এখন চাল, গম, ভুট্টা, পাথরসহ নানা পণ্য হরদম আমদানি হচ্ছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পণ্যপরিবহন।
সংসদীয় কমিটিতে বিগত পাঁচ বছরে আমদানি-রফতানির তথ্য তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দু’দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানির পরিমাণ ছিল ২৬ লাখ ২৪ হাজার টনের বেশি। এসব পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের ৩ হাজার ১১টি জাহাজের বিপরীতে ভারতের মাত্র ২৯টি জাহাজ ব্যবহৃত হয়। সেই হিসেবে ৯৯ শতাংশই জাহাজে বাংলাদেশি। ২০১৭-১৮ সালে আমদানি-রফতানির পরিমাণ বেড়ে দাড়ায় ২৭ লাখ টনের বেশি। এখানেও ৩ হাজার ৩০০টি বাংলাদেশি জাহাজ ব্যবহৃত হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভারতের জাহাজ ব্যহৃত হয়েছে মাত্র ৮৬টি। পণ্যপরিবহনের বাংলাদেশি জাহাজের ব্যবহার ৯৮ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৪ লাখ টনের বেশি পণ্যপরিবহনে বাংলাদেশি জাহাজ ২ হাজার ৬৮৫টি, ভারতীয় জাহাজ ৫৯টি। পরের অর্থবছরে আমদানি-রফতানির পরিমাণ ছিল ২৭ লাখ ৮০ হাজার টনের বেশি। তাতে বাংলাদেশি ৩ হাজার ১৯২টি অর্থাৎ ৯৬ শতাংশ এবং বিপরীতে ভারতীয় জাহাজ ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ৭০টি। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে জলপথে উভয় দেশে আমদানি-রফতানির বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টনের অধিক। এসব পণ্যপরিহনে বাংলাদেশের জাহাজ ব্যবহার হয়েছে ৩ হাজার ৯১৩টি আর ভারতীয় জাহাজ ব্যবহৃত হয়েছে ২২৬টি।
বাংলাদেশ-ভারতের জলপথে বাণিজ্য তথা প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি) ১৯৭২ সাল থেকেই রয়েছে। ২০০০ সালের আগ পর্যন্ত শুধু ভারতীয় জাহাজে পণ্যপরিবহন হতো। সেই বছরের পর থেকে পণ্যপরিহনে মাঠে নামে বাংলাদেশি জাহাজ। দিনে দিনে পণ্যপরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি জাহাজের আধিপত্যের বিস্তার ঘটে। প্রটোকল অনুযায়ী আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে দু’দেশের সমানসংখ্যক জাহাজ ব্যবহার হওয়ার কথা। ২০০১-০২ অর্থবছরে ভারতীয় জাহাজ ছিলো ৫৫ এবং বাংলাদেশি জাহাজ ছিল ৪৫ শতাংশ। অবশ্য পরের কয়েক বছরও ভারতীয় জাহাজেই বেশির ভাগ পণ্যপরিবহন হতো। কিন্তু ২০০৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশি জাহাজে পণ্যপরিবহনের পরিমাণ বাড়তে থাকে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রক সূত্রের খবর, বিগত বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বেড়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে জলপথের গুরুত্ব বেড়েছে। নিয়মিত ড্রেজিংয়ের চললেও নাব্যতা ঠিক রাখাটা কঠিন। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা নদীতে নাব্যতা ধরে রাখতে ড্রেনিংসহ নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব নদ-নদীতে পলির পরিমাণ এতোটাই বেশি যার কারণে নাব্যতা ধরে রাখা কঠিন। বাংলাদেশ-ভারত ১০টি নৌপ্রোটোকল রুটের মধ্যে কলকাতা-হলদিয়া-নারায়ণগঞ্জ রুটটি পুরোমাত্রায় চালু থাকলেও বাকী ৯টি জলপথই রুগ্ন! এসব জলপথ নাব্যতাসংকটে ধুকছে।




















