মুসলিমদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের বিদ্রূপ
- আপডেট সময় : ০৪:১৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ নামের ব্যাপক প্রচলন নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডাল্টনে এক নির্বাচনী সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম মনে রাখতে সমস্যা হলে তাঁকে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই চলে। এতে নাম সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, ‘হ্যালো, মোহাম্মদ’ এভাবে সম্বোধন করার অভ্যাস তাঁর বহুদিনের এবং এ ক্ষেত্রে তিনি কখনো ভুল প্রমাণিত হননি।
মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ অন্যতম প্রচলিত পুরুষ নাম। ইসলামের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম অনুসরণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম পরিবার তাঁদের সন্তানদের এ নাম রাখেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রসঙ্গে মন্তব্য
জর্জিয়ার ডাল্টন মিউনিসিপাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত ওই সমাবেশে ইরান নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প তাঁর মন্তব্য করেন। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি।
বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।’ এরপর তিনি ‘মোহাম্মদ’ নামের কয়েকজন কাল্পনিক ব্যক্তির প্রসঙ্গ টেনে তাঁদের প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী কি না, তা নিয়ে কৌতুক করেন।
ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০২৪ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ট্রাম্পের এসব বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের কাছ থেকে তেমন জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা
ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্যের সমালোচনা করে আসছেন অধিকারকর্মী ও মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রায়ই মুসলিম, অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে হেয় করে বক্তব্য দেন।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্পের বক্তব্যে মুসলিম ও সোমালি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের প্রসঙ্গও বারবার উঠে আসছে। তাঁর সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে রয়েছেন মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেটর পদপ্রার্থী আবদুল আল–সায়েদ এবং মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইলহান ওমর। সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর এবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পরও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান–ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ দমনের উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষ বেড়েছে বলে সংগঠনটি মনে করে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয়টি আলোচনায় এনেছে।
