ষষ্ঠীপূজায় ২৪ হাজার মণ্ডপে দুর্গোৎসবের সূচনা, সম্প্রীতি-সহাবস্থানে মুখর বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৪:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে দেশের প্রায় ২৪ হাজার পূজামণ্ডপে সূচনা হয়েছে দুর্গোৎসবের। পূজাকে ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে পূজা-অর্চনা, আলোকসজ্জা ও নানা আয়োজন। উৎসবের আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই বিরাজ করছে ধর্মীয় আবহ, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের প্রত্যাশা।
এবারের দুর্গাপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে টানা ৫ দিনের ছুটি। দীর্ঘ ছুটির সুযোগে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে উৎসব উদযাপন এবং পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন অনেকে। সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে পূজার আনন্দে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে দেশজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রায় ১০ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য এবং সারাদেশে দুই লাখের বেশি আনসার সদস্য মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালিমন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতেও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকা ও শহরের পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে বিজিবি।
দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন যশোরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোট ২২২টি পূজামণ্ডপে দুই হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ২৯টি এবং যশোর শহরের ২০টি পূজামণ্ডপে বিশেষ নজরদারি চলছে। এসব এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত টহল, রেকি ও মোবাইল পেট্রোল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করতে ৫২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা।
পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এপিসি প্লাটুন ও কে-নাইন ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি সর্বজনীন আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠছে সহাবস্থানের চিত্র। উৎসবকে নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনও কাজ করছে। পূজামণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এবারও বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র, আরও সুদৃঢ় হবে সামাজিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বন্ধন।

















