জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস
- আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বুধবার থেকেই কার্যকর নতুন অর্থবছরের পথচলা,
অর্থনীতি পুনর্গঠন, আর্থিক শৃঙ্খলা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির রূপরেখা
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। এই বাজেট দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতির পুনর্গঠন, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন বাজেটকে সরকারের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান দলিল হিসেবে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঋণ নির্ভর নয়, বিনিয়োগ নির্ভর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গিকার রয়েছে সরকারের। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে এ বাজেট কার্যকর হবে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট।
গত ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর তিন সপ্তাহ ধরে বাজেটের ওপর বিস্তারিত আলোচনা ও সমালোচনা চলে। বিরোধী দলের সদস্যরা করনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বাজেট পাসের আগে অর্থবিলে ৬৮টি সংশোধনী আনা হয়। সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যদের মতামত ও সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়েছে। বাজেট আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, স্বতন্ত্র ও বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের প্রস্তাব উপস্থাপন করলে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে তা অনুমোদিত হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেট অনুমোদনের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয়সংক্রান্ত ৫৯টি দাবি নিয়ে আলোচনা হয়। এসব দাবির বিপরীতে ১ হাজার ৩৪৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে সেগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়। নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬ পাসের মাধ্যমে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। বিল অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আইনটি কার্যকর হবে এবং সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য সংযুক্ত তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৫ কোটি ৭ লাখ টাকা দায়যুক্ত ব্যয় এবং ৮ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ কোটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা সংসদে ভোটে গৃহীত মঞ্জুরি। বিলটি সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সুপারিশক্রমে অর্থ বিল হিসেবে উত্থাপিত হয়।
বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে অর্থ বিভাগে, প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। এরপর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে ৬৯ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার, সড়ক পরিবহন, পরিকল্পনা, খাদ্য, স্বরাষ্ট্র, সমাজকল্যাণ, কৃষি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রয়েছে। নতুন বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩৩.৭ শতাংশ। পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণের সুদ পরিশোধ এবং ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় হবে।
রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ভ্যাট ও আয়কর থেকে। বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি ধরা হয়েছে, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার নতুন অর্থবছরে ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ৭.৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, এই বাজেটকে কেবল সরকারের বাজেট হিসেবে নয়, বরং জাতি পুনর্গঠনের বাজেট হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো উচিত। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জনগণের কষ্ট লাঘব এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, নতুন বাজেট এমন একটি অর্থনৈতিক ভিত্তি নির্মাণের রূপরেখা, যার মাধ্যমে উন্নয়ন হবে ন্যায়ভিত্তিক এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা আরও সুসংহত হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। সংসদে তাঁর এই বক্তব্য বাজেটকে শুধু অর্থনৈতিক দলিল নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেও উপস্থাপন করে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় বাজেট নিজেই উন্নয়নের নিশ্চয়তা নয়, বরং এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর। বাজেট যত বড় হবে, ততই বাড়বে রাজস্ব সংগ্রহের চাপ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব এবং সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা। নতুন বাজেটের মাধ্যমে সরকার যে উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনে রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর-ভিত্তি সম্প্রসারণ, অপচয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহিতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সরকারের অর্থনৈতিক দর্শনের অন্যতম লক্ষ্য হলো উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ, শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের বিকাশ এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপের কথা বাজেট আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, দ্রুত প্রশাসনিক সেবা এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি অর্জিত হলে বাজেট বাস্তবায়নের ইতিবাচক প্রভাব কর্মসংস্থান ও উৎপাদনে প্রতিফলিত হতে পারে।
সংসদে বাজেট আলোচনায় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। সরকারের অবস্থান হলো, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার অব্যাহত থাকবে। অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আর্থিক শৃঙ্খলা শক্তিশালী হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি আরও মজবুত হবে।
নতুন অর্থবছরেও মূল্যস্ফীতি সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সরবরাহব্যবস্থা কার্যকর রাখা এসব বিষয় বাজেট বাস্তবায়নের সাফল্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু রাজস্ব ও ব্যয়ের হিসাব নয়, বাজার ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন বাজেটের আলোচনায় উন্নয়ন এবং সুশাসনকে পরস্পর-সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতির পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা গেলে একই অর্থে বেশি জনকল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ফলে বাজেট বাস্তবায়নের সফলতা কেবল ব্যয়ের পরিমাণে নয়, বরং ব্যয়ের ফলাফলেও প্রতিফলিত হবে।
বাজেট অনুমোদনের আগে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় দাবি পর্যালোচনা এবং বিপুলসংখ্যক ছাঁটাই প্রস্তাব উপস্থাপন সংসদীয় জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও শেষ পর্যন্ত সব ছাঁটাই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়েছে, তবু বিভিন্ন মত ও সমালোচনা বাজেটকে আরও পর্যালোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।
আজ থেকে কার্যকর হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেছে। তবে বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা, উন্নয়ন প্রকল্পের সময়মতো সমাপ্তি, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা এবং জনগণের জীবনে এর বাস্তব প্রভাবের ওপর। অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় নতুন বাজেটকে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ঘোষিত পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন, নীতির ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শক্তিশালী জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সর্ববৃহৎ এই বাজেট কার্যকরের মধ্য দিয়ে নতুন অর্থবছরের যাত্রা শুরু হলো। এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব সংখ্যার বিশালতাকে বাস্তব উন্নয়নে রূপান্তর করা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করা এবং সেই উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বাজেট বাস্তবায়নের এই পথচলাই নির্ধারণ করবে নতুন অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি, সরকারের নীতির কার্যকারিতা এবং জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়।



















