সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন
- আপডেট সময় : ০৩:৫৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় আদালত গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। বহুল আলোচিত এ মামলায় ১৮ আসামির মধ্যে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ৫জন।
বুধবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও তদন্তে ছয়জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে তদন্তে নতুন করে আরও সাতজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যা এবং অস্ত্র আইনে পৃথক মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় মাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে যৌথবাহিনীর একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় ডাকাতদের প্রতিরোধে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন। পরে তিনি নিহত হন।
ঘটনার পর যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে তিন ডাকাতকে আটক করে। এছাড়া ডাকাতদের ফেলে যাওয়া একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ক্যাডেট ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন।
সেনাবাহিনীর একজন তরুণ ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যু দেশব্যাপী শোকের সৃষ্টি করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এই মামলার রায়কে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিষয়টি জনমনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের রায় ভবিষ্যতে সংঘবদ্ধ ডাকাতি ও সহিংস অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


















