ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক আনসার বাহিনীকে আরও দক্ষ-গতিশীল করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজার, এনবিআর ও ব্যাংক খাত বিকেন্দ্রীভূত করা হবে: অর্থমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন ২০০১-২০২৬ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরে সীমান্তে সাতবার সংঘর্ষে জড়ায় বিজিবি-বিএসএফ ঝিনাইগাতীতে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদ কমপ্লেক্সে হামলায় নিহত ৩, দুই হামলাকারীর দেহ উদ্ধার পাকিস্তানে হামলার দুঃসাহস দেখালে ভারতের মানচিত্রই বদলে যাবে: ইসলামাবাদ হবিগঞ্জে জাল কাস্টমস নথিসহ কোটি টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ, আটক ২ সিলেটের  সোনারহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলি, পাল্টা জবাব বিজিবির

২০০১-২০২৬ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরে সীমান্তে সাতবার সংঘর্ষে জড়ায় বিজিবি-বিএসএফ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ১০৯ বার পড়া হয়েছে

২০০১-২০২৬ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরে সীমান্তে সাতবার সংঘর্ষে জড়ায় বিজিবি-বিএসএফ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অন্তত সাতবার বিজিবি (তৎকালীন বিডিআর) ও ভারতের বিএসএফ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এসব ঘটনার অধিকাংশের পেছনে ছিল সীমান্তে বিএসএফের অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, লুটপাট বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সম্মুখ সংঘর্ষে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে ছিল। সাতটি সংঘর্ষে বিজিবির নিহত সদস্য সংখ্যা ৫ জন, বিপরীতে বিএসএফের নিহত সদস্য ১৮ জন।

সবচেয়ে বড় সংঘর্ষটি ঘটে ২০০১ সালে সিলেট সীমান্তে। বাংলাদেশের পদুয়া গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে বিএসএফের দখলে ছিল। ওই বছর বিএসএফ সেখানে বাংকার ও রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করলে বিডিআর অভিযান চালিয়ে এলাকা পুনর্দখল করে।

১৬ এপ্রিল শুরু হওয়া সংঘর্ষ কয়েকদিন ধরে চলে। পরে বিএসএফ কুড়িগ্রামের বড়াইবাড়ি ক্যাম্পে হামলা চালালে বিডিআর ও স্থানীয়রা তা প্রতিহত করে। চারদিনের সংঘর্ষে ১৬ জন বিএসএফ সদস্য এবং ৩ জন বিডিআর সদস্য নিহত হন।

২০০৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের হীরাপুর গ্রামে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে লুটপাট চালায়। গ্রামবাসী বাধা দিলে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। পরে বিডিআর পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কয়েক ঘণ্টার সংঘর্ষে বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার জীবন কুমার নিহত হন এবং আরও এক সদস্য আহত হন।

২০০৬ সালে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফ মর্টার শেল ও ভারী অস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। বিডিআর পাল্টা জবাব দিলে প্রায় ১৪ ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। এতে ২ জন বিডিআর সদস্য ও ৭ জন বাংলাদেশি আহত হন। এছাড়া আতঙ্কে এক বাংলাদেশি নাগরিক হৃদরোগে মারা যান। ভারতের পক্ষ থেকেও হতাহতের দাবি করা হয়।

২০০৮ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রঘুনাথপুর সীমান্তে বিএসএফের স্পিডবোট বাংলাদেশি জলসীমায় প্রবেশ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বিএসএফের গুলিতে ঘটনাস্থলেই ২ জন বিডিআর সদস্য নিহত হন।

২০১৩ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গুলির জবাবে বিজিবি পাল্টা অভিযান চালায়। এতে দুই ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত হন। পরে বিএসএফ গুলি ছুড়লে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় আধাঘণ্টা গুলিবিনিময় হয়, তবে বিজিবির কোনো সদস্য হতাহত হননি।

২০১৯ সালে রাজশাহীর চারঘাট সীমান্তে পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আটক ভারতীয় জেলেকে ছিনিয়ে নিতে বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে গুলি চালায়। বিজিবির পাল্টা গুলিতে বিএসএফের প্রধান কনস্টেবল বিজয় ভান সিং নিহত এবং আরেক সদস্য আহত হন।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৮ মে সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবি পাল্টা গুলি চালায়। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্মুখ সংঘর্ষে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও বেসামরিক বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডে বিএসএফের ভূমিকা উদ্বেগজনক। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্যে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সীমান্তে বিএসএফের হাতে ৩০৫ জন বাংলাদেশি নিহত এবং অন্তত ২৮২ জন আহত হয়েছেন।

 অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬১৮ জন বাংলাদেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৮০২ জন আহত হয়েছেন। তবে ২০১৯ সালের পর দীর্ঘ সময় বড় ধরনের বিজিবি-বিএসএফ সম্মুখ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি, যা সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

২০০১-২০২৬ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরে সীমান্তে সাতবার সংঘর্ষে জড়ায় বিজিবি-বিএসএফ

আপডেট সময় : ০২:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অন্তত সাতবার বিজিবি (তৎকালীন বিডিআর) ও ভারতের বিএসএফ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এসব ঘটনার অধিকাংশের পেছনে ছিল সীমান্তে বিএসএফের অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, লুটপাট বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সম্মুখ সংঘর্ষে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে ছিল। সাতটি সংঘর্ষে বিজিবির নিহত সদস্য সংখ্যা ৫ জন, বিপরীতে বিএসএফের নিহত সদস্য ১৮ জন।

সবচেয়ে বড় সংঘর্ষটি ঘটে ২০০১ সালে সিলেট সীমান্তে। বাংলাদেশের পদুয়া গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে বিএসএফের দখলে ছিল। ওই বছর বিএসএফ সেখানে বাংকার ও রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করলে বিডিআর অভিযান চালিয়ে এলাকা পুনর্দখল করে।

১৬ এপ্রিল শুরু হওয়া সংঘর্ষ কয়েকদিন ধরে চলে। পরে বিএসএফ কুড়িগ্রামের বড়াইবাড়ি ক্যাম্পে হামলা চালালে বিডিআর ও স্থানীয়রা তা প্রতিহত করে। চারদিনের সংঘর্ষে ১৬ জন বিএসএফ সদস্য এবং ৩ জন বিডিআর সদস্য নিহত হন।

২০০৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের হীরাপুর গ্রামে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে লুটপাট চালায়। গ্রামবাসী বাধা দিলে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। পরে বিডিআর পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কয়েক ঘণ্টার সংঘর্ষে বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার জীবন কুমার নিহত হন এবং আরও এক সদস্য আহত হন।

২০০৬ সালে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফ মর্টার শেল ও ভারী অস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। বিডিআর পাল্টা জবাব দিলে প্রায় ১৪ ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। এতে ২ জন বিডিআর সদস্য ও ৭ জন বাংলাদেশি আহত হন। এছাড়া আতঙ্কে এক বাংলাদেশি নাগরিক হৃদরোগে মারা যান। ভারতের পক্ষ থেকেও হতাহতের দাবি করা হয়।

২০০৮ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রঘুনাথপুর সীমান্তে বিএসএফের স্পিডবোট বাংলাদেশি জলসীমায় প্রবেশ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বিএসএফের গুলিতে ঘটনাস্থলেই ২ জন বিডিআর সদস্য নিহত হন।

২০১৩ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গুলির জবাবে বিজিবি পাল্টা অভিযান চালায়। এতে দুই ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত হন। পরে বিএসএফ গুলি ছুড়লে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় আধাঘণ্টা গুলিবিনিময় হয়, তবে বিজিবির কোনো সদস্য হতাহত হননি।

২০১৯ সালে রাজশাহীর চারঘাট সীমান্তে পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আটক ভারতীয় জেলেকে ছিনিয়ে নিতে বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে গুলি চালায়। বিজিবির পাল্টা গুলিতে বিএসএফের প্রধান কনস্টেবল বিজয় ভান সিং নিহত এবং আরেক সদস্য আহত হন।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৮ মে সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবি পাল্টা গুলি চালায়। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্মুখ সংঘর্ষে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও বেসামরিক বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডে বিএসএফের ভূমিকা উদ্বেগজনক। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্যে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সীমান্তে বিএসএফের হাতে ৩০৫ জন বাংলাদেশি নিহত এবং অন্তত ২৮২ জন আহত হয়েছেন।

 অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬১৮ জন বাংলাদেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৮০২ জন আহত হয়েছেন। তবে ২০১৯ সালের পর দীর্ঘ সময় বড় ধরনের বিজিবি-বিএসএফ সম্মুখ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি, যা সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।