বাংলাদেশের আগামীর শক্তি লুকিয়ে আছে আজকের এই ক্ষুদে কুঁড়িদের মধ্যেই: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম-এ জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হলো “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬”। সারাদেশের ৬৪ জেলায় একযোগে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ যেন নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন দেখার এক বিশাল মঞ্চ।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তিনি নিজের বক্তব্যের শুরুতেই জানিয়ে দেন, আজকের আসল প্রধান অতিথি গ্যালারিতে বসে থাকা ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, তোমরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব।
লিখিত বক্তব্য সরিয়ে রেখে তিনি সরাসরি শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আলাপে মেতে ওঠেন। তার কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস আর অনুপ্রেরণার দৃঢ় সুর-পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, গান, সংস্কৃতি, যে যার স্বপ্ন অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে সরকার।
তিনি আশ্বাস দেন, কেউ খেলোয়াড় হতে চাইলে খেলোয়াড়, কেউ সংগীতশিল্পী হতে চাইলে সংগীতশিল্পী-সবাইকে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা হবে।

শিশুদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আমরা শুরু করে দিয়ে যাব, কিন্তু বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে তোমাদেরই। গ্যালারিতে তখন হাজারো কণ্ঠে প্রতিধ্বনি হ্যাঁ! হাসিমুখে প্রধানমন্ত্রী জবাব দেন, “ইনশাল্লাহ, তোমরা সবাই পারবে।”
অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রতিভা বিকাশের ওপর জোর। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই শিশুদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, এমনকি রাষ্ট্রনায়ক তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর প্রামাণ্যচিত্র এবং ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং, যা পুরো স্টেডিয়ামে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। এরপর বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, দাবা, ব্যাডমিন্টন ও মার্শাল আর্টে চমৎকার অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী করে দর্শকদের মুগ্ধ করে।

এই উদ্যোগের পেছনের গল্পটিও শোনান প্রধানমন্ত্রী। প্রায় সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় ক্রীড়া উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে বলতেই “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” ধারণার জন্ম হয়। সেই ভাবনাই আজ বাস্তব রূপ পেল জাতীয় কর্মসূচি হিসেবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচি মূলত আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ উদ্যোগ “নতুন কুঁড়ি”-র ধারাবাহিকতা। তবে এবার লক্ষ্য-ক্রীড়াক্ষেত্রে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সব মিলিয়ে, “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬” শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, এটি নতুন প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও স্বপ্নবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার এক দূরদর্শী উদ্যোগ। এখানেই যেন প্রতিধ্বনিত হলো একটি বার্তা, বাংলাদেশের আগামীর শক্তি লুকিয়ে আছে আজকের এই ক্ষুদে কুঁড়িদের মধ্যেই।









