ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দখল-ভাঙচুরে ছাড় নয়, জাইমার নিয়োগেও সম্পৃক্ততা নেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর সার্বিক পরিবেশ ইতিবাচক প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা  মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপসের দাবি, এমপি নজরুলের জামিন নামঞ্জুর  হরমুজ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, দাবি ইরানের ফুটপাতে হাঁটা পথচারীর অধিকার এটি কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয় সময় হলেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: দীনেশ ত্রিবেদী দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়ানোর উদ্যোগে স্বস্তির বার্তা হিন্দু সম্প্রদায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বে জবাবদিহিতা পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ

নারী আসনে নির্বাচন: প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা বিএনপির ৩৬ জন

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৩২ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য সাধারণ নির্বাচনের মতোই নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুসরণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে ১,০২৫ জন নারী নেত্রী ফরম সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে প্রায় ৯০০ জন জমা দেন। ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে ৭ জন রয়েছেন আদিবাসী নারী।

সাক্ষাৎকার শেষে দলটি চূড়ান্তভাবে মনোনীতদের তালিকায় সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, নিপুন রায় চৌধুরী ও শাকিলা ফারজানাসহ মোট ৩৬ জন রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের দফা (১) ও (২) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক এবং ন্যূনতম ২৫ বছর বয়সী হলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে এই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কিছু নির্দিষ্ট কারণে একজন ব্যক্তি প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হতে পারেন।

অযোগ্যতার মধ্যে রয়েছে, কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হওয়া, ফেরারি বা পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত হওয়া, দেউলিয়া হয়ে দায়মুক্তি না পাওয়া, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করা বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা।

তবে কেউ যদি পরবর্তীতে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে তিনি আর অযোগ্য থাকবেন না।

এছাড়া নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলে, কারাভোগের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।

১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশে দণ্ডিত ব্যক্তিরাও প্রার্থী হতে অযোগ্য হবেন। একইভাবে, প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলেও প্রার্থিতা গ্রহণযোগ্য হবে না।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক পলাতক ঘোষিত ব্যক্তি, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি, কিংবা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ বা কিস্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ ব্যক্তি প্রার্থী হতে পারবেন না।

তবে কৃষি খাতে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণ এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হবে।

এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোনসহ বিভিন্ন সেবার বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।

প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হলফনামা এবং সর্বশেষ করবর্ষের আয়কর রিটার্নের কপি জমা দিতে হবে। হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে প্রার্থিতা বাতিলের ঝুঁকি রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী, কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠিত হলে তিনি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার বা বহাল থাকার অযোগ্য হবেন।

তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দাখিলের শেষ তারিখ ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। সে অনুযায়ী ৫০টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জোট পাবে একটি আসন।

ইসি কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, কোনো জোট একাধিক প্রার্থী না দিলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। ইতোমধ্যে বিএনপি জোট ৩৬ জনকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে এবং জামায়াত জোট ১৩ জন প্রার্থীর জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।

অন্য কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হলে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকলে, ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্টদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :