ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য: সড়কে বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে
- আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিক্সার ব্যাটারির বিষাক্ত বর্জ্য, বিদ্যুৎ চুরি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নগরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কট তৈরি করছে
রাজধানী ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সড়কে যানজট, দুর্ঘটনা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। শুরুতে চালকদের শারীরিক পরিশ্রম কমানোর উদ্দেশ্যে চালু হলেও বর্তমানে নগরের প্রায় পুরো অংশে এই যানবাহনের দৌরাত্ম্য চোখে পড়ে।
সম্প্রতি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঢাকার অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা প্যাডেল রিকশার স্থান দখল করছে। আরবান মবিলিটি স্টাডি রিকশা ইন ট্রানজিশন শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারী পরিকল্পনা ও নীতিমালার তুলনায় বাস্তব বাজার, যাত্রী চাহিদা এবং গ্যারেজভিত্তিক প্রণোদনা এই পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি।
গবেষণায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৮৪ জন রিকশাচালক, ৩৯২ জন যাত্রী এবং ৬৩টি গ্যারেজের মালিকের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার ৩৪ শতাংশ চালক বয়সে ২৬-৩৫ বছরের মধ্যে এবং প্রায় ৬০ শতাংশের তেমন কোন অভিজ্ঞতা নেই বা কম। তুলনামূলকভাবে প্যাডেল রিকশার গড় অভিজ্ঞতা প্রায় ১৫ বছর। নতুন ও কম অভিজ্ঞ চালক এবং বেশি গতি, এই সংমিশ্রণ সড়ক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বৈষম্য স্পষ্ট। নিজের ব্যাটারিচালিত রিকশা থাকলে চালকের দৈনিক আয় গড়ে ৯৭০ টাকা, আর ভাড়া রিকশা চালালে নিট আয় ৪১৮ টাকা। প্যাডেল রিকশা চালক দৈনিক গড়ে মাত্র ৩১ শতাংশের বেশি আয় বাড়াতে পারেন। নতুন চালকেরা মূলত তাৎক্ষণিক আয়ের কারণে ব্যাটারিচালিত রিকশা বেছে নিচ্ছেন, যা গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ঘাটতির প্রতিফলন।
যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী, ৭৪ শতাংশ দ্রুত যাত্রার জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশা বেছে নেন। তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরও ২১ শতাংশ যাত্রী দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে প্যাডেল রিকশার ক্ষেত্রে হার মাত্র ৮.৫ শতাংশ। যানজটের জন্য ৬২ শতাংশ মানুষ অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশাকে দায়ী করেছেন।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলেন, মূল সমস্যা হলো অবৈধ পার্কিং, সড়ক দখল এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। এছাড়া, ব্যাটারির বিষাক্ত বর্জ্য, বিদ্যুৎ চুরি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নগরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কট তৈরি করছে।
গবেষণায় প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা নিষিদ্ধের পরিবর্তে ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ নকশা ও প্রযুক্তি ব্যবহার, নিবন্ধন ও ঋণ সুবিধা, বাধ্যতামূলক চালক প্রশিক্ষণ, নির্ধারিত রুট ও পার্কিং এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
ঢাকার ব্যাটারিচালিত রিকশার এই বিস্তার নগরের চলাচল, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য সবক্ষেত্রেই গুরুত্বসহকারে নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছে।



















