নাহিদ বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার বাস্তবায়ন ইস্যুতে বিএনপি শুরু থেকেই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে বিরোধিতা করছে। এতে তাদের সংস্কারপ্রীতির ব্যাপারে জনগণের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অপরদিকে জামায়াতের আচরণে মনে হচ্ছে তারা নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় আছে। “একদল সংস্কারকে ব্যাহত করছে, আরেক দল নির্বাচন ঠেকাতে চায়”— বলেন তিনি।
গণভোট আগে হবে না নির্বাচনের দিন হবে— এই বিষয়েও বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, “এটা অযথা ও অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক।” উচ্চকক্ষে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির দাবি এনে ইস্যু ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “জুলাই সনদে কী কী সংস্কার থাকবে এবং এর আইনি ভিত্তি কীভাবে হবে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আদেশ জারি করবেন কি না— এসবই আসল প্রশ্ন। আমরা মনে করি, গণভোট নির্বাচনের দিন বা তার আগেও হতে পারে।”
নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি ফেব্রুয়ারিতে যথাসময়ে নির্বাচন চায় এবং জুলাই সনদের আইনি বাস্তবায়নকে অপরিহার্য মনে করে। “চলতি মাসেই আদেশ জারি হওয়া উচিত,” বলেন তিনি। তাঁর দাবি, জুলাই সনদ অবশ্যই অধ্যাপক ইউনূসের মাধ্যমে জারি হতে হবে; রাষ্ট্রপতি কার্যালয় থেকে হলে তার কোনো আইনি ভিত্তি থাকবে না।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অনৈক্য বাড়বে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, “নির্বাচন ভণ্ডুলের ষড়যন্ত্র আওয়ামী লীগের দিক থেকেই আসবে।” তিনি দলটিকে বিভিন্ন দলে অনুপ্রবেশ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারকে তিনি সমর্থন জানিয়ে বলেন, “গণহত্যার দায় ব্যক্তিগত নয়, দলগতভাবে আওয়ামী লীগের।”
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, “ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চায়, তাহলে আওয়ামী লীগের চোখ দিয়ে নয়, বাংলাদেশের জনগণের চোখ দিয়ে দেখতে হবে।”
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়ে নাহিদ জানান, “আমি ঢাকার সন্তান, তাই সম্ভবত এখান থেকেই প্রার্থী হবো। আমরা ৩০০ আসনের সবগুলোতেই প্রার্থী দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংস্কারের বিপক্ষে থাকা কারও সঙ্গে আমাদের জোট সম্ভব নয়। তবে যাদের অবস্থান কাছাকাছি, তাদের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না।”
নির্বাচন কমিশনের হাতে দলীয় প্রতীক নিয়ে বাধার অভিযোগ তুলে নাহিদ বলেন, “আমাদের কার্যক্রম থামাতেই ইসি এই পদক্ষেপ নিয়েছে।”