ঢাকায় মানসম্মত বায়ুমান কবে ফিরবে? অস্বাস্থ্যকর বাতাসে বন্দি এক নগরী
- আপডেট সময় : ১২:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে
আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা
রাজধানী ঢাকায় শ্বাস নিতে এখন যেন সাহস লাগে। ধূলা, ধোঁয়া, ময়লা ও যানবাহনের কালো ধোঁয়ার মিশ্রণে শহরের বাতাস দিন দিন আরও ভারী হয়ে উঠছে। অস্বাস্থ্যকর বায়ুর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করায় অনেকেই নানারকম শ্বাসযন্ত্র ও ত্বকের রোগে ভুগছেন। নগরবাসী যেন এই দূষিত পরিবেশের সঙ্গে নিরুপায় হয়েই মানিয়ে নিয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সকালে প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সর্বশেষ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুসারে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে ঢাকা। সকাল ৮টার সূচক অনুযায়ী, রাজধানীর বাতাসের একিউআই স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮০, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত নিরাপদ মানের চেয়ে ঢাকার বাতাসে ক্ষুদ্র ধূলিকণার (পিএম ২.৫) পরিমাণ প্রায় ২০ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। এই অতিক্ষুদ্র কণাগুলো শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং দীর্ঘমেয়াদে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, হার্টের সমস্যা ও এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রায় পার্থক্য দেখা গেলেও সর্বোচ্চ দূষণ রেকর্ড হয়েছে মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায়, যেখানে একিউআই স্কোর ২২৭— যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এর পরেই রয়েছে কল্যাণপুর, গোড়ান, গুলশান, বেচারাম দেউড়ি, মাদানি সরণি ও শান্তা ফোরাম এলাকা, যেখানে বায়ুর মান এখনও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ুদূষণের মূল উৎস হচ্ছে, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা, নির্মাণকাজের ধূলা ও খোলা জায়গায় আবর্জনা পোড়ানো। প্রতিদিন সকালে অফিসগামী ও স্কুলগামী মানুষ ধোঁয়ামিশ্রিত বাতাসে হাঁপিয়ে ওঠেন। দীর্ঘদিন ধরে এই ধারা চলতে থাকায় শহরবাসীর মধ্যে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, চোখে জ্বালা ও গলা ব্যথা সাধারণ রোগে পরিণত হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, শীত মৌসুমে বায়ুদূষণ আরও বেড়ে যায়, কারণ বাতাসের গতি কমে আসে এবং ধূলিকণা নিচে জমে থাকে। বর্তমানে যেসব এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে, সেসব স্থান থেকে ধূলা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়াই বড় কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় মানসম্মত বায়ু ফিরিয়ে আনতে ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণসাইটে ধূলা রোধে পর্দা ব্যবহার, রাস্তার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুরোনো যানবাহন বন্ধে কঠোর নীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণপরিবহন ও সাইকেলবান্ধব ব্যবস্থা চালু করলে শহরের দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কতটা রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে? যতদিন না সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়, ততদিন ঢাকার মানুষকে হয়তো আরও অনেক দিন শ্বাস নিতে হবে দূষণের ভারে ভারাক্রান্ত এই বাতাসে। সূত্র: আইকিউএয়ার, ডব্লিউএইচও




















