ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশের আগামীর শক্তি লুকিয়ে আছে আজকের এই ক্ষুদে কুঁড়িদের মধ্যেই: প্রধানমন্ত্রী উজানের ঢলে ভেসে গেছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন: সুনামগঞ্জে ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি স্বৈরাচার পতনের পরও ষড়যন্ত্র চলমান: সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমান-এর খেলার মাঠ থেকে নদীতে: উপকূলের শিশুদের কঠিন জীবন কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: এজাহারভুক্ত আসামি জামায়াত কর্মী রাজীব মিস্ত্রি  গ্রেপ্তার জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, প্রতিষ্ঠিত সত্য: আইনমন্ত্রী গীর্জায় ঢুকে ফাদারকে বেঁধে লুট, গ্রেপ্তার ৩ দুষ্কৃতকারী হরমুজ সংকটে কোটি মানুষ দারিদ্র্যে পড়ার আশঙ্কা: জাতিসংঘ বাংলাদেশ ইস্যুতে আসাম মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার তলব সেচ সংকটের পর প্লাবনে নষ্ট বোরো : দ্বিমুখী আঘাতে বিপর্যস্ত কৃষি

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫ ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

মহাদশমীতে সিঁদুর খেলায় রঙিন বিদায় বিসর্জনে শেষ ‘শারদ দুর্গোৎসব’: সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমিনুল হক, ঢাকা 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাউৎসব। টানা পাঁচ দিনের আনন্দঘন অনুষ্ঠান, আরাধনা ও ভক্তিমূলক আয়োজনে ভরে উঠেছিল মণ্ডপ ও মন্দিরগুলো।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হলো মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি—কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা—বিসর্জন দেওয়া। এই নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলোকে ত্যাগ করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার বার্তাই ছড়িয়ে দেয় দুর্গাপূজা। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা অসুর নিধনের মাধ্যমে শুভ শক্তির জয় এবং অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হয়ে মর্ত্যে আসেন।

মহাদশমীতে সিঁদুর খেলায় রঙিন বিদায় বিসর্জনে শেষ ‘শারদ দুর্গোৎসব’
মহাদশমীতে সিঁদুর খেলায় রঙিন বিদায় বিসর্জনে শেষ ‘শারদ দুর্গোৎসব’

শাস্ত্রীয় মতে, ২০২৫ সালে দেবী দুর্গা হাতির পিঠে মর্ত্যে এসেছেন এবং বিজয়া দশমীতে দোলায় চড়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন। বিশ্বাস করা হয়, দেবীর আগমন যদি হাতির পিঠে হয়, তবে তা অত্যন্ত শুভ লক্ষণ। এতে পৃথিবী শস্য-শ্যামলায় ভরে ওঠে এবং সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

চলতি বছরে সারা দেশে ৩৩ হাজারেরও অধিক মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। কেবল ঢাকা মহানগরীতেই ২৫৮টি মণ্ডপ ও মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীতে এবারের দুর্গোৎসব ছিল অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। মণ্ডপগুলোর পাশাপাশি আশেপাশের সড়কগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়, যা উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আজ বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য রাজধানীতে শোভাযাত্রা বের হবে। এটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সদরঘাটে গিয়ে শেষ হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভক্তিমূলক গানের তালে তালে দেবীকে বিদায় জানাবেন।

 বিসর্জনে শেষ ‘শারদ দুর্গোৎসব’
বিসর্জনে শেষ ‘শারদ দুর্গোৎসব’

বিজয়া দশমীর দিনে বহু মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জন। দর্পণ বিসর্জনে ভক্তরা আয়নায় দেবীর প্রতিফলন দেখে পূজা করেন। এরপর শুরু হয় সিঁদুর খেলা। এ সময়ে বিবাহিত নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর দান করে তা নিজেদের কৌটায় ধারণ করেন সারা বছর ব্যবহারের জন্য। পরে তারা একে অপরের কপাল ও চিবুকে দেবীর চরণ স্পর্শ করা সিঁদুর দিয়ে আশীর্বাদ বিনিময় করেন। এই আচারকে আনন্দ ও শুভ কামনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

আজ সন্ধ্যার মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনের এই মহাউৎসব। তবে পূজা শেষে শুরু হবে ভক্তদের নতুন পথচলা—অশুভকে বিসর্জন দিয়ে শুভ শক্তিকে ধারণ করার প্রত্যয়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব

আপডেট সময় : ০১:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

আমিনুল হক, ঢাকা 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাউৎসব। টানা পাঁচ দিনের আনন্দঘন অনুষ্ঠান, আরাধনা ও ভক্তিমূলক আয়োজনে ভরে উঠেছিল মণ্ডপ ও মন্দিরগুলো।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হলো মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি—কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা—বিসর্জন দেওয়া। এই নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলোকে ত্যাগ করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার বার্তাই ছড়িয়ে দেয় দুর্গাপূজা। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা অসুর নিধনের মাধ্যমে শুভ শক্তির জয় এবং অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হয়ে মর্ত্যে আসেন।

মহাদশমীতে সিঁদুর খেলায় রঙিন বিদায় বিসর্জনে শেষ ‘শারদ দুর্গোৎসব’
মহাদশমীতে সিঁদুর খেলায় রঙিন বিদায় বিসর্জনে শেষ ‘শারদ দুর্গোৎসব’

শাস্ত্রীয় মতে, ২০২৫ সালে দেবী দুর্গা হাতির পিঠে মর্ত্যে এসেছেন এবং বিজয়া দশমীতে দোলায় চড়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন। বিশ্বাস করা হয়, দেবীর আগমন যদি হাতির পিঠে হয়, তবে তা অত্যন্ত শুভ লক্ষণ। এতে পৃথিবী শস্য-শ্যামলায় ভরে ওঠে এবং সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

চলতি বছরে সারা দেশে ৩৩ হাজারেরও অধিক মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। কেবল ঢাকা মহানগরীতেই ২৫৮টি মণ্ডপ ও মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীতে এবারের দুর্গোৎসব ছিল অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। মণ্ডপগুলোর পাশাপাশি আশেপাশের সড়কগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়, যা উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আজ বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য রাজধানীতে শোভাযাত্রা বের হবে। এটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সদরঘাটে গিয়ে শেষ হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভক্তিমূলক গানের তালে তালে দেবীকে বিদায় জানাবেন।

 বিসর্জনে শেষ ‘শারদ দুর্গোৎসব’
বিসর্জনে শেষ ‘শারদ দুর্গোৎসব’

বিজয়া দশমীর দিনে বহু মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জন। দর্পণ বিসর্জনে ভক্তরা আয়নায় দেবীর প্রতিফলন দেখে পূজা করেন। এরপর শুরু হয় সিঁদুর খেলা। এ সময়ে বিবাহিত নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর দান করে তা নিজেদের কৌটায় ধারণ করেন সারা বছর ব্যবহারের জন্য। পরে তারা একে অপরের কপাল ও চিবুকে দেবীর চরণ স্পর্শ করা সিঁদুর দিয়ে আশীর্বাদ বিনিময় করেন। এই আচারকে আনন্দ ও শুভ কামনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

আজ সন্ধ্যার মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনের এই মহাউৎসব। তবে পূজা শেষে শুরু হবে ভক্তদের নতুন পথচলা—অশুভকে বিসর্জন দিয়ে শুভ শক্তিকে ধারণ করার প্রত্যয়ে।