ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় যানজটে প্রতিদিন নষ্ট প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা, আর্থিক ক্ষতি ১৩৯ কোটি টাকা মানবিক সহায়তা-শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের আইনের জালে পুলিশ দম্পতি অসহায় গৃহকর্মীর ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন কৃষিই দেশের অর্থনীতির প্রাণ কৃষিই দেশের অর্থনীতির প্রাণ: কৃষিতে অতীতের তুলনায় সর্ববৃহৎ বাজেটের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রাথমিক সমঝোতার পর বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম, চাঙা শেয়ারবাজার পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়তে ডিএসসিসির নতুন পদক্ষেপ, বর্জ্য অপসারণে জোর শিশুহত্যার অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে ঘিরে আদিতমারীতে রণক্ষেত্র, এসপিসহ আহত ২০ ইরান-মার্কিন চুক্তি আলোচনায় তিন হাজার কোটি ডলার রাজশাহীর আম ও কালাইরুটি স্বাদে মুগ্ধ মার্কিন অতিথি   বেনজীরকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফেরানো প্রক্রিয়া চলছে: উপদেষ্টা

সালমান-আনিসুল-জিয়াকে অব্যাহতির চেষ্টা, তদন্ত কর্মকর্তা বরখাস্ত

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ২৪২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দুটি হত্যা মামলায় তিন আসামীকে অব্যাহতির দেওয়ার বন্দোবস্ত প্রায় পাকাপোক্ত হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করার আগেই তা ধরা পড়ে যায়। বিশ্বাস ঘাতক তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আরিফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

দুটি হত্যা মামলার তিন আসামী হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেন পুলিশের এই তদন্ত কর্মকর্তা ।

ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকেও অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

জানা গেছে, তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিচয় গোপন করে থানা-পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি আদালতে জমা দেওযার চেষ্টা করেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নেননি। তা জানাজানির পর তিনি অসুস্থতার কথা বলে ছুটিতে চলে যান।

ডিবি সূত্র জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর আরিফ দাবি করেছেন, তিনি অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সানজিদা আফরিনের (এখন এপিবিএনে কর্মরত) নির্দেশে কাজটি করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে এডিসি সানজিদা জানান, তিনি এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। এ রকম আলোচিত মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার সিদ্ধান্তের এখতিয়ার তার নেই।

সূত্র জানায়, মামলা থেকে আনিসুল ও সালমানকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া চেষ্টার ঘটনায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী এডিসি সানজিদার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। সানজিদা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেই ব্যাখ্যা ডিএমপির কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।

জানা গেছে, সবুজ মিয়া ও মো. শাহজাহান মিয়া হত্যা মামলায় আনিসুল হক ও সালমানকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় সবুজকে মারধর করে ও শাহজাহানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরের দিন নিউমার্কেট থানায় মামলা হয়।

মামলা দুটির তদন্ত করছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) রমনার পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আরিফ। গত ২৩ অক্টোবর দুই মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

অব্যাহতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে ওঠার আগেই বিষয়টি ধরা পড়ে যাওয়ায় ফের মামলা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

নিহত সবুজের চাচাতো ভাই মো. নুরনবী ও শাহ-জাহানের মা আয়শা বেগম মামলার বাদী হন। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১৩ আগস্ট আনিসুল ও সালমানকে আটক করে দুই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৬ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয় সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়া মেজর জেনারেল জিয়াকে।

নথিতে দেখা যায়, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নিজেকে তিনি নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক পরিচয় দিয়েছেন। যদিও তিনি কর্মরত ডিবিতে।

অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, মামলা দুটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার চেষ্টার আগে তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আরিফ সাক্ষ্য স্মারকলিপিতে (মেমো অব এভিডেন্স বা এমই) ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সই নেননি।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিবি থেকে কোনো মামলায় অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য-স্মারকলিপিতে তদন্ত-তদারক কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার, অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রশাসন), উপকমিশনার এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কমিশনার ও ক্ষেত্রবিশেষ কমিশনারের সই লাগে। জাহাঙ্গীর আরিফ কর্মকর্তাদের সই নেওয়া এড়াতে নিজেকে নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক বলে উল্লেখ করেছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সালমান-আনিসুল-জিয়াকে অব্যাহতির চেষ্টা, তদন্ত কর্মকর্তা বরখাস্ত

আপডেট সময় : ০৮:৫২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪

 

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দুটি হত্যা মামলায় তিন আসামীকে অব্যাহতির দেওয়ার বন্দোবস্ত প্রায় পাকাপোক্ত হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করার আগেই তা ধরা পড়ে যায়। বিশ্বাস ঘাতক তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আরিফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

দুটি হত্যা মামলার তিন আসামী হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেন পুলিশের এই তদন্ত কর্মকর্তা ।

ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকেও অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

জানা গেছে, তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিচয় গোপন করে থানা-পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি আদালতে জমা দেওযার চেষ্টা করেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নেননি। তা জানাজানির পর তিনি অসুস্থতার কথা বলে ছুটিতে চলে যান।

ডিবি সূত্র জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর আরিফ দাবি করেছেন, তিনি অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সানজিদা আফরিনের (এখন এপিবিএনে কর্মরত) নির্দেশে কাজটি করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে এডিসি সানজিদা জানান, তিনি এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। এ রকম আলোচিত মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার সিদ্ধান্তের এখতিয়ার তার নেই।

সূত্র জানায়, মামলা থেকে আনিসুল ও সালমানকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া চেষ্টার ঘটনায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী এডিসি সানজিদার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। সানজিদা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেই ব্যাখ্যা ডিএমপির কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।

জানা গেছে, সবুজ মিয়া ও মো. শাহজাহান মিয়া হত্যা মামলায় আনিসুল হক ও সালমানকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় সবুজকে মারধর করে ও শাহজাহানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরের দিন নিউমার্কেট থানায় মামলা হয়।

মামলা দুটির তদন্ত করছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) রমনার পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আরিফ। গত ২৩ অক্টোবর দুই মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

অব্যাহতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে ওঠার আগেই বিষয়টি ধরা পড়ে যাওয়ায় ফের মামলা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

নিহত সবুজের চাচাতো ভাই মো. নুরনবী ও শাহ-জাহানের মা আয়শা বেগম মামলার বাদী হন। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১৩ আগস্ট আনিসুল ও সালমানকে আটক করে দুই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৬ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয় সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়া মেজর জেনারেল জিয়াকে।

নথিতে দেখা যায়, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নিজেকে তিনি নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক পরিচয় দিয়েছেন। যদিও তিনি কর্মরত ডিবিতে।

অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, মামলা দুটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার চেষ্টার আগে তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আরিফ সাক্ষ্য স্মারকলিপিতে (মেমো অব এভিডেন্স বা এমই) ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সই নেননি।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিবি থেকে কোনো মামলায় অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য-স্মারকলিপিতে তদন্ত-তদারক কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার, অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রশাসন), উপকমিশনার এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কমিশনার ও ক্ষেত্রবিশেষ কমিশনারের সই লাগে। জাহাঙ্গীর আরিফ কর্মকর্তাদের সই নেওয়া এড়াতে নিজেকে নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক বলে উল্লেখ করেছেন।