ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্যবসা মন্দা, আয় সংকোচন ও রাজস্ব ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি  নির্বাচন কমিশনের সামনে বিজিবি মোতায়েন, ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত মাদারীপুরে বাস অটোরিকশা সংঘর্ষ প্রাণ গেল ৬জনের বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার রমজান সামনে আগেই চড়া বাজার: দামে লাগাম টানতে কড়া নজরদাবি জরুরি বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার

২২ সালে ভয়াবহ বন্যার দুঃস্বপ্ন তাড়া করছে সুনামগঞ্জবাসীকে

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪ ১৮৯ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিলো সুনামগঞ্জ। বানের জলে জানমালে ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে ফসলের মাঠ, মাছের ঘেরসহ নানা সম্পদ। দুঃসহ সেই স্মৃতি ফের তাড়া করছে সুনামগঞ্জবাসীকে।

এরই মধ্যে সুনামগঞ্জের শহরে হাঠু পানির ওপরে। বন্ধ হয়ে গেছে দোকানপাঠ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আশ্রয়ের খোঁজে বানভাসি মানুষ। জেলার সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার প্রায় সড়ক বন্ধ।

ভারতের ঢলে ডুবছে গেছে সুনামগঞ্জ। আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ। মেঘালয়ের পাদদেশে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি। জেলার ওপর দিয়ে ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। ২২ সালের এই জুন মাসে ভয়াবহ বন্যা কবলিত হয়েছিলো সুনামগঞ্জ।

অব্যাহত বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢল সেই দুঃস্বপ্নই বার বার চোখের সামনে ভেসে ওঠছে সানামগঞ্জবাসীর। পানি যতই বাড়ছে, ততই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে রাত কাটাচ্ছেন হাওর অঞ্চলের মানুষ। সুনামগঞ্জের ৬৯টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার প্রায় চার লাখের অধিক মানুষ বন্যাকবলিত।

এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার ৪৩৯ জন আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন। তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ, দোয়ারাবাজার-ছাতক, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বন্যার্তদের জন্য ৫৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত। এর মধ্যে ১২ হাজার ৪৩৯ জন বানভাসি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। বুধবার সকালে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার সবাইকে সর্তক করে বলেছেন, আগামী ৬ দিন বৃষ্টি ও মেঘালয় থেকে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকবে।

ছবি: সংগৃহীত

তাতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। সুরমা, জাদুকাটা, খোয়াই, চেলানদীসহ সীমান্তবর্তী সকল নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১০০ মিলিমিটার, লাউড়ের গড়ে ৭৮ মিলিমিটার, ছাতকে ৮৪ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অপর বাংলাদেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে হাওয়া অফিস। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশের ওপর দিয়ে সম্প্রতি বয়ে গেছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় রিমেল । ঝড়ে রিমেলের তান্ডবে ২২জনের মৃত্যু হয়। রিমেলের পর টানা অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। এরই মধ্যে ১৫ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের খবর আসে। ১৬ জুন থেকে দেশটির উত্তর-পূর্ব জেলা সিলেট ও সুনামগঞ্জে অতিবর্ষণের সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা দেখা দেয়। জেলা দুটি এখন জলমগ্ন। প্রতিনিয়ত এখানে পানি বাড়ার কারণে সুনামগঞ্জ ও সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবণতি ঘটেছে। সুনামগঞ্জ শহর ডুবে গেছে। বাড়িঘর ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ে বানভাসি মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

২২ সালে ভয়াবহ বন্যার দুঃস্বপ্ন তাড়া করছে সুনামগঞ্জবাসীকে

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

 

২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিলো সুনামগঞ্জ। বানের জলে জানমালে ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে ফসলের মাঠ, মাছের ঘেরসহ নানা সম্পদ। দুঃসহ সেই স্মৃতি ফের তাড়া করছে সুনামগঞ্জবাসীকে।

এরই মধ্যে সুনামগঞ্জের শহরে হাঠু পানির ওপরে। বন্ধ হয়ে গেছে দোকানপাঠ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আশ্রয়ের খোঁজে বানভাসি মানুষ। জেলার সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার প্রায় সড়ক বন্ধ।

ভারতের ঢলে ডুবছে গেছে সুনামগঞ্জ। আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ। মেঘালয়ের পাদদেশে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি। জেলার ওপর দিয়ে ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। ২২ সালের এই জুন মাসে ভয়াবহ বন্যা কবলিত হয়েছিলো সুনামগঞ্জ।

অব্যাহত বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢল সেই দুঃস্বপ্নই বার বার চোখের সামনে ভেসে ওঠছে সানামগঞ্জবাসীর। পানি যতই বাড়ছে, ততই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে রাত কাটাচ্ছেন হাওর অঞ্চলের মানুষ। সুনামগঞ্জের ৬৯টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার প্রায় চার লাখের অধিক মানুষ বন্যাকবলিত।

এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার ৪৩৯ জন আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন। তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ, দোয়ারাবাজার-ছাতক, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বন্যার্তদের জন্য ৫৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত। এর মধ্যে ১২ হাজার ৪৩৯ জন বানভাসি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। বুধবার সকালে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার সবাইকে সর্তক করে বলেছেন, আগামী ৬ দিন বৃষ্টি ও মেঘালয় থেকে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকবে।

ছবি: সংগৃহীত

তাতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। সুরমা, জাদুকাটা, খোয়াই, চেলানদীসহ সীমান্তবর্তী সকল নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১০০ মিলিমিটার, লাউড়ের গড়ে ৭৮ মিলিমিটার, ছাতকে ৮৪ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অপর বাংলাদেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে হাওয়া অফিস। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশের ওপর দিয়ে সম্প্রতি বয়ে গেছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় রিমেল । ঝড়ে রিমেলের তান্ডবে ২২জনের মৃত্যু হয়। রিমেলের পর টানা অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। এরই মধ্যে ১৫ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের খবর আসে। ১৬ জুন থেকে দেশটির উত্তর-পূর্ব জেলা সিলেট ও সুনামগঞ্জে অতিবর্ষণের সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা দেখা দেয়। জেলা দুটি এখন জলমগ্ন। প্রতিনিয়ত এখানে পানি বাড়ার কারণে সুনামগঞ্জ ও সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবণতি ঘটেছে। সুনামগঞ্জ শহর ডুবে গেছে। বাড়িঘর ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ে বানভাসি মানুষ।