ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দখল-ভাঙচুরে ছাড় নয়, জাইমার নিয়োগেও সম্পৃক্ততা নেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর সার্বিক পরিবেশ ইতিবাচক প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা  মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপসের দাবি, এমপি নজরুলের জামিন নামঞ্জুর  হরমুজ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, দাবি ইরানের ফুটপাতে হাঁটা পথচারীর অধিকার এটি কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয় সময় হলেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: দীনেশ ত্রিবেদী দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়ানোর উদ্যোগে স্বস্তির বার্তা হিন্দু সম্প্রদায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বে জবাবদিহিতা পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ

হাতের ছোঁয়া ছাড়াই টমেটো চাষ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৩০ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজাল ডেস্ক

প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সবজি চাষ হয় নেদারল্যান্ডসে। তা রপ্তানি হয় ইউরোপসহ গোটা বিশ্বেই। কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে ছোট্ট এই দেশটিই আজ হয়ে উঠেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক।

বর্তমানে ইউরোপে মাংসের প্রধান জোগানদাতা, বিশ্বজুড়ে ফুল-সবজি বীজের অন্যতম বড় সরবরাহকারী হিসেবে খ্যাতি কুড়িয়েছে ডাচরা। কিন্তু ষাটের দশকে বিশ্ব মানচিত্রে তাদের পরিচিতি এনে দিয়েছিল মূলত একটি পণ্য টমেটো।

নেদারল্যান্ডসের গ্রিনহাউজগুলোতে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ টন টমেটো উৎপাদন হয়। বছরে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের টমেটো রপ্তানি করে দেশটি। আর এসবই সম্ভব হয়েছে কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে।

২০০৮ সালে ওকার্সসহ তিন উদ্যোক্তা মিলে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছিলেন ইনডোর কৃষি। এর দু’বছর পরেই, ২০১০ সালে নিজস্ব কোম্পানি চালু করেন তারা। এলইডি লাইট ব্যবহার করে ডাচ গ্রিনহাউজ এবং ইনডোর কৃষকদের ফলন বাড়াতে সাহায্য করতে শুরু করে কোম্পানিটি।

প্ল্যান্টল্যাব এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে মাত্র দুটি ফুটবল মাঠের সমান জমিতে এক লাখ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সবজি (জনপ্রতি প্রায় আধা পাউন্ড) উৎপাদন করা যায়।

নেদারল্যান্ডসের ডেন বোশ শহরে প্ল্যান্টল্যাবের যে গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে, সেটি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভার্টিকাল খামার। এখানে সীমিত আলোর এলইডি বাল্ব ও প্লাস্টিকের তৈরি প্রোডাকশন ট্রে ব্যবহার করা হয়। পানিতে শিকড় ছুঁয়ে থাকা গাছপালা জন্মায় ভার্মিকুলাইটের ওপর।

প্ল্যান্টল্যাব প্রধান বলেন, এখানে কোনো কিছুতে হাতের ছোঁয়া লাগে না। পানি পুনঃসঞ্চালন করা হয়। অর্থাৎ, চাষ প্রক্রিয়ার কোথাও পানি নষ্ট হয় না।

ওকার্স জানান, এই পদ্ধতি শাক, ভেষজ এবং টমেটো চাষে সবচেয়ে কার্যকর। তবে শসা, জুকিনি এবং সব ধরনের বেরি চাষেও তা উপযুক্ত। এছাড়া, ফসল তোলা ও খাওয়ার মধ্যে সময়ের পার্থক্য কম হওয়ায় এই পদ্ধতিতে খাদ্যের অপচয় কম হয় এবং পুষ্টিগুণও বেশি থাকে।

নেদারল্যান্ডসের বাইরে আরও উৎপাদনকেন্দ্র খোলার জন্য এ বছরের শুরুতে পাঁচ কোটি ইউরো বিনিয়োগ পেয়েছে প্ল্যান্টল্যাব। এসব খামারে কীটনাশক বা ভেষজনাশক ছাড়াই বিপুল পরিমাণে শাকসবজি চাষ করা হবে।

আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় নিজেদের কার্যক্রম আরও ছড়িয়ে দিতে চায় ডাচ কোম্পানিটি। আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ২৫০ একর জমিতে ভার্টিকাল খামার গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে তারা।

১৯৯৭ সালে ওয়েস্টল্যান্ড থেকে দক্ষিণে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে ‘অ্যাগ্রো কেয়ার’ নামে একটি কোম্পানি চালু করেন ডাচ উদ্যোক্তা কিস ভ্যান ভিন ও তার বন্ধু ফিলিপ ভ্যান এন্টওয়ার্পেন। ২৫ বছর পর আজ ৬৪৫ একর জমিতে গ্রিনহাউজের ভেতর টমেটো চাষ করছেন তারা এবং এতে সাহায্য করছেন দেড় হাজার কর্মী। ২০৩০ সালের মধ্যে এর পরিমাণ দ্বিগুণ করতে চায় অ্যাগ্রো কেয়ার।

এই পদ্ধতিতে বিপুল বৈদ্যুতিক শক্তির প্রয়োজন হয়। এ কারণে অ্যাগ্রো কেয়ার নিজেরাই ছোটখাটো একটি বৈদ্যুতিক কোম্পানি চালু করেছে। এতে তৈরি হওয়া কার্বন ডাই অক্সাইড পাইপের মাধ্যমে গ্রিনহাউজের ভেতর ছাড়া হয়। সেই গ্যাস কাজে লাগিয়ে গাছগুলো পুষ্টি সংগ্রহের পাশাপাশি অক্সিজেন সরবরাহ করে। এই পদ্ধতি ৯৯ শতাংশ কার্যকর এবং এর মাধ্যমে বাতাসে অনেক কম কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়া হয়।

এরই মধ্যে ইউরোপের বৃহত্তম টমেটো উৎপাদনকারীদের একটিতে পরিণত হয়েছে অ্যাগ্রো কেয়ার। বছরে প্রায় ১০ কোটি কিলোগ্রাম টমেটো উৎপাদন করে তারা। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের বাইরে মরক্কো এবং তিউনিসিয়াতে খামার চালু করেছে কোম্পানিটি।

বর্তমানে তাদের চাষ করা টমেটোর মাত্র এক-চতুর্থাংশ নেদারল্যান্ডসে ব্যবহৃত হয়, বাকিটা ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :