ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকার প্রমাণ ভুয়া নাকি আসল? ৫ আঙুল দেখানো ভিডিওই ডিপফেক? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধমঞ্চে ইরানের দাপট, পাল্টে গেল হিসাব! জিয়ার ঐতিহাসিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আবারও খাল খনন শুরু করলেন তারেক রহমান ক্যামেলী পালের কবিতা ‘চাইলেই কি যাওয়া যায়’ ধর্মপাশায় বৃষ্টিতে স্বস্তি, প্রাণ ফিরে পেল বোরো আবাদ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘কৃষক কার্ড’ বিষয়ে বৈঠক সংস্কার পরিষদের সাংবিধানিক অস্তিত্ব নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের প্রতিবেশীদের উসকে দিতে ‘ভুয়া ড্রোন’ কৌশল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কয়েকটি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, রেশনিং তুলে নেওয়ার ঘোষণা বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী

মরক্কোয় বিধ্বংসী ভূমিকম্প মৃত্যু প্রায় ৩০০

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২২:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮৩ বার পড়া হয়েছে

মরক্কোয় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছেছবি: রয়টার্স

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক 

মরক্কোর স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টা ১১ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। তাতেই বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

বিধ্বংসী ভূমিকম্পে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৯৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত কমপক্ষে ১৫৩ জন। সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রথম ভূমিকম্প অনুভূতির ১৯ মিনিট পর আরেকটি ভূকম্পন (পরাঘাত) হয়। রিখটার স্কেলে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যমতে, ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উচ্চ অ্যাটলাস পর্বতমালা।

দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম শহর মারাকেশ থেকে প্রায় ৭১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এই পর্বতমালার অবস্থান। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ১৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার।

মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মারাকেশসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকার লোকজন ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বেশির ভাগ প্রাণহানি ঘটেছে পাহাড়ি এলাকায়, যেখানে দ্রুত পৌঁছানোটা কঠিন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলেছে, প্রাথমিক তথ্যানুসারে, ভূমিকম্পে মারাকেশ, আল-হাউস, ওয়ারজাজেট, আজিলাল, চিচাউয়া, তারউদান্ত এলাকায় ২৯৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৫৩ জন। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) পোস্ট হওয়া বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখা গেছে। এ ছাড়া ভিডিওতে বিভিন্ন ভবন কাঁপতে দেখা যায়। সড়কে দেখা যায় ধ্বংসস্তূপ।

ভিডিওতে আতঙ্কে লোকজনকে হুড়োহুড়ি করে দৌড়াতে দেখা গেছে।

মারাকেশের এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এখানকার পুরোনো শহরের কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।

এক্সে পোস্ট হওয়া বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একাধিক ভবন ভেঙে পড়ছে। তবে এ ঘটনা ঠিক কোন এলাকার, তা চিহ্নিত করতে পারেনি বিবিসি।

আবার শক্তিশালী ভূমিকম্প (পরাঘাত) হতে পারে, এমন আশঙ্কায় শহরটির অনেক বাসিন্দা বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন।

ঐতিহাসিক শহরটির আরেক বাসিন্দা বলেন, তিনি প্রচণ্ড কম্পন অনুভব করেন। ঝাঁকুনিতে ভবনগুলো নড়তে দেখেন।

আবদেলহাক এল আমরানি নামের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভূমিকম্পের আকস্মিকতায় সবাই হতবাক, আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভয়ে শিশুরা কান্নাকাটি করছিল। অভিভাবকেরা বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন।

আবদেলহাক আরও বলেন, ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ১০ মিনিট ধরে বিদ্যুৎ ও ফোনের সংযোগ বন্ধ ছিল।

অনেকে বাড়ির ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছে। শহরের বেশ কিছু মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রাজধানী রাবাতসহ দেশটির অন্যান্য এলাকায়ও এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের আশপাশের পাহাড়ি গ্রামগুলোর সাধারণ ভবনগুলো হয়তো আর টিকে নেই। এলাকাটি দূরবর্তী, দুর্গম। তাই ভূমিকম্পে হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানতে সময় লাগতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মরক্কোয় বিধ্বংসী ভূমিকম্প মৃত্যু প্রায় ৩০০

আপডেট সময় : ১১:২২:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক 

মরক্কোর স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টা ১১ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। তাতেই বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

বিধ্বংসী ভূমিকম্পে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৯৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত কমপক্ষে ১৫৩ জন। সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রথম ভূমিকম্প অনুভূতির ১৯ মিনিট পর আরেকটি ভূকম্পন (পরাঘাত) হয়। রিখটার স্কেলে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যমতে, ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উচ্চ অ্যাটলাস পর্বতমালা।

দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম শহর মারাকেশ থেকে প্রায় ৭১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এই পর্বতমালার অবস্থান। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ১৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার।

মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মারাকেশসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকার লোকজন ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বেশির ভাগ প্রাণহানি ঘটেছে পাহাড়ি এলাকায়, যেখানে দ্রুত পৌঁছানোটা কঠিন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলেছে, প্রাথমিক তথ্যানুসারে, ভূমিকম্পে মারাকেশ, আল-হাউস, ওয়ারজাজেট, আজিলাল, চিচাউয়া, তারউদান্ত এলাকায় ২৯৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৫৩ জন। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) পোস্ট হওয়া বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখা গেছে। এ ছাড়া ভিডিওতে বিভিন্ন ভবন কাঁপতে দেখা যায়। সড়কে দেখা যায় ধ্বংসস্তূপ।

ভিডিওতে আতঙ্কে লোকজনকে হুড়োহুড়ি করে দৌড়াতে দেখা গেছে।

মারাকেশের এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এখানকার পুরোনো শহরের কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।

এক্সে পোস্ট হওয়া বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একাধিক ভবন ভেঙে পড়ছে। তবে এ ঘটনা ঠিক কোন এলাকার, তা চিহ্নিত করতে পারেনি বিবিসি।

আবার শক্তিশালী ভূমিকম্প (পরাঘাত) হতে পারে, এমন আশঙ্কায় শহরটির অনেক বাসিন্দা বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন।

ঐতিহাসিক শহরটির আরেক বাসিন্দা বলেন, তিনি প্রচণ্ড কম্পন অনুভব করেন। ঝাঁকুনিতে ভবনগুলো নড়তে দেখেন।

আবদেলহাক এল আমরানি নামের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভূমিকম্পের আকস্মিকতায় সবাই হতবাক, আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভয়ে শিশুরা কান্নাকাটি করছিল। অভিভাবকেরা বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন।

আবদেলহাক আরও বলেন, ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ১০ মিনিট ধরে বিদ্যুৎ ও ফোনের সংযোগ বন্ধ ছিল।

অনেকে বাড়ির ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছে। শহরের বেশ কিছু মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রাজধানী রাবাতসহ দেশটির অন্যান্য এলাকায়ও এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের আশপাশের পাহাড়ি গ্রামগুলোর সাধারণ ভবনগুলো হয়তো আর টিকে নেই। এলাকাটি দূরবর্তী, দুর্গম। তাই ভূমিকম্পে হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানতে সময় লাগতে পারে।