ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লোডশেডিং ৩০০০ মেগাওয়াট : গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে ১৭ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত, ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমলেও ভ্যাপসা গরম লাইনে দাঁড়িয়ে স্বস্তি: অল্প সময়েই তেল পেলেন বাইকচালক মোহাম্মদ আলী দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে

ভারত চাল রপ্তানি বন্ধ রাখলেও বাংলাদেশের কোনো সমস্যা নেই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুলাই ২০২৩ ২৭৫ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত বিশ্ববাজারে চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সেই সঙ্গে কম দামে আমিষযুক্ত গমের সবচেয়ে বড় উৎস ইউক্রেন থেকে খাদ্যপণ্য আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খাদ্যশস্য রপ্তানি নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যে সমঝোতা ছিল, তা নবায়ন না হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।

সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় ও বড় আমদানিকারকেরা আপাতত চাল নিয়ে কোনো সমস্যা দেখছেন না। সরকারি গুদামে প্রায় ২০ লাখ টন চাল-গম মজুত আছে। আর বেসরকারিভাবেও এবার খুব বেশি চাল আমদানির প্রয়োজন হবে না। সরকারিভাবে পাঁচ লাখ টন চাল ও সাত লাখ টন গম কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু দেশে চালের উৎপাদন ভালো হওয়ায় আমদানির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দুই লাখ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। তাও জরুরি প্রয়োজন হলে আনা হবে। আর গমের ক্ষেত্রেও পরিমাণ কমিয়ে পাঁচ লাখ টন করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এবার আমাদের বোরোতে উৎপাদন ভালো হয়েছে। আশা করি, আমনেও ভালো ফলন হবে। ফলে দেশে যা চাল রয়েছে, তা দিয়ে আমাদের সারা বছরের চাহিদা মিটবে। ভারত চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলেও বাংলাদেশের কোনো সমস্যা হবে না।

জানা গেছে, বিদেশ থেকে চাল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবারে দেশের ভেতর থেকে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। এ বছর চাল ও ধান মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল।

আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তা কেনা হবে। ইতিমধ্যে ৯ লাখ টনের ওপরে সংগ্রহ হয়ে গিয়েছে। বাকিটা আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সংগ্রহের পর আরও দুই লাখ টন অতিরিক্ত চাল কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

বুলগেরিয়া, বেলারুশ, রোমানিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে গম আমদানির নিয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এক লাখ টন গম আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে।

বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জুলাই মাসের শুরুতে প্রকাশ করা খাদ্য পরিস্থিতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভারতে আবহাওয়াগত কারণে চালের উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে দেশটিতে চালের দাম বাড়ছে। গত এক মাসে দেশের অভ্যন্তরে খুচরা বাজারে চালের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছে।

গেল বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের জারি করা একটি পরিপত্রে বাসমতী ছাড়া অন্য সব ধরনের চাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বিষয়টিকে সামনে এনেছে ভারত সরকার। ভারতের এই সিদ্ধান্তের কারণে নতুন করে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবর প্রকাশ করেছে।

ভারতের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চাল রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত ২০ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তবে রপ্তানির উদ্দেশ্যে যেসব প্রক্রিয়া চলমান, তা ৩১ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে। কোনো দেশের সরকার যদি তাদের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য চাল রপ্তানির অনুরোধ করে, তাহলে ভারত সরকার বিশেষভাবে অনুমতি দিতে পারবে।

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ একজন চাল আমদানিকারক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘দেশে এবার চালের উৎপাদন যথেষ্ট ভালো হয়েছে। তিনি নিজে চলতি বছর ৭০ হাজার টন চাল ভারত থেকে আমদানি করেছেন। যা কিনা এখনো বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে এবার ভারত থেকে চাল আমদানি না হলেও তেমন সমস্যা হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারত চাল রপ্তানি বন্ধ রাখলেও বাংলাদেশের কোনো সমস্যা নেই

আপডেট সময় : ১২:২৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুলাই ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত বিশ্ববাজারে চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সেই সঙ্গে কম দামে আমিষযুক্ত গমের সবচেয়ে বড় উৎস ইউক্রেন থেকে খাদ্যপণ্য আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খাদ্যশস্য রপ্তানি নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যে সমঝোতা ছিল, তা নবায়ন না হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।

সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় ও বড় আমদানিকারকেরা আপাতত চাল নিয়ে কোনো সমস্যা দেখছেন না। সরকারি গুদামে প্রায় ২০ লাখ টন চাল-গম মজুত আছে। আর বেসরকারিভাবেও এবার খুব বেশি চাল আমদানির প্রয়োজন হবে না। সরকারিভাবে পাঁচ লাখ টন চাল ও সাত লাখ টন গম কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু দেশে চালের উৎপাদন ভালো হওয়ায় আমদানির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দুই লাখ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। তাও জরুরি প্রয়োজন হলে আনা হবে। আর গমের ক্ষেত্রেও পরিমাণ কমিয়ে পাঁচ লাখ টন করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এবার আমাদের বোরোতে উৎপাদন ভালো হয়েছে। আশা করি, আমনেও ভালো ফলন হবে। ফলে দেশে যা চাল রয়েছে, তা দিয়ে আমাদের সারা বছরের চাহিদা মিটবে। ভারত চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলেও বাংলাদেশের কোনো সমস্যা হবে না।

জানা গেছে, বিদেশ থেকে চাল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবারে দেশের ভেতর থেকে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। এ বছর চাল ও ধান মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল।

আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তা কেনা হবে। ইতিমধ্যে ৯ লাখ টনের ওপরে সংগ্রহ হয়ে গিয়েছে। বাকিটা আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সংগ্রহের পর আরও দুই লাখ টন অতিরিক্ত চাল কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

বুলগেরিয়া, বেলারুশ, রোমানিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে গম আমদানির নিয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এক লাখ টন গম আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে।

বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জুলাই মাসের শুরুতে প্রকাশ করা খাদ্য পরিস্থিতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভারতে আবহাওয়াগত কারণে চালের উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে দেশটিতে চালের দাম বাড়ছে। গত এক মাসে দেশের অভ্যন্তরে খুচরা বাজারে চালের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছে।

গেল বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের জারি করা একটি পরিপত্রে বাসমতী ছাড়া অন্য সব ধরনের চাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বিষয়টিকে সামনে এনেছে ভারত সরকার। ভারতের এই সিদ্ধান্তের কারণে নতুন করে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবর প্রকাশ করেছে।

ভারতের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চাল রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত ২০ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তবে রপ্তানির উদ্দেশ্যে যেসব প্রক্রিয়া চলমান, তা ৩১ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে। কোনো দেশের সরকার যদি তাদের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য চাল রপ্তানির অনুরোধ করে, তাহলে ভারত সরকার বিশেষভাবে অনুমতি দিতে পারবে।

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ একজন চাল আমদানিকারক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘দেশে এবার চালের উৎপাদন যথেষ্ট ভালো হয়েছে। তিনি নিজে চলতি বছর ৭০ হাজার টন চাল ভারত থেকে আমদানি করেছেন। যা কিনা এখনো বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে এবার ভারত থেকে চাল আমদানি না হলেও তেমন সমস্যা হবে না।