কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি : পাঁচ বছরে ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ চাকরি হারাবে
- আপডেট সময় : ০৮:২৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩ ৩১১ বার পড়া হয়েছে
অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো প্রযুক্তি
ব্যবহার করে কাজ চালাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করে এআই প্রযুক্তি চালুর দিকেই যাচ্ছে
অনলাইন প্রযুক্তি ডেস্ক
অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব কাজ চালাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে চাকরির বাজারে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) এক সমীক্ষায়। সম্প্রতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিশ্বের ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ চাকরি হারাবেন।
বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করে এআই প্রযুক্তি চালুর দিকেই যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস করপোরেশন বা আইবিএম সেই পথেই হাঁটছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কর্মী নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। আগামী কয়েক বছরে ৭ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাই করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন আইবিএমের প্রধান নির্বাহী (সিইও) অরবিন্দ কৃষ্ণা।
খারাপ খবরের মধ্যে ভালো খবরও আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কিছু বিষয়ে আছে, যা এআই করতে সক্ষম নয়। স্বতন্ত্রভাবে মানবিক গুণাবলি জড়িত, যেমন আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা ও প্রথার বাইরে গিয়ে ভিন্ন ভাবনা ভাবার মতো কাজগুলো এআইয়ের পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই আপাতত এসব কাজের কর্মীদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব বাফালোর লেবার ইকোনমিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জোয়ান সং ম্যাকলাফলিন বলেছেন, শিল্প নির্বিশেষে বেশির ভাগ চাকরিরই এমন দিক আছে, যা প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যেতে পারে।

জোয়ান সং ম্যাকলাফলিন বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, চাকরির জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই। তবে কাজগুলো পরিবর্তন হয়ে যাবে। মানুষের কাজ আরও বেশি আন্তব্যক্তিক দক্ষতাকেন্দ্রিক হয়ে যাবে। এটা কল্পনা করা সহজ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এআই মানুষের চেয়ে ভালোভাবে ক্যানসার শনাক্ত করবে। আমার ধারণা, ভবিষ্যতে চিকিৎসকেরা এমন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন। তবে চিকিৎসকদের পুরো ভূমিকা এআই নিয়ে নেবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফিউচার অব জব রিপোর্ট ২০২৩ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে এআই ও মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞ, ডেটা-বিশ্লেষক, বিজ্ঞানী, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন স্পেশালিস্ট ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ অনেক বেড়ে যাবে।
ডব্লিউইএফ পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে এআই ও মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে; ডেটা-বিশ্লেষক, বিজ্ঞানী বা বিগ ডেটা অ্যানালিস্টের সংখ্যা বাড়বে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এবং ইরফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্টের সংখ্যা ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ সময়ের মধ্যে ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অর্থাৎ এসব চাকরি নিরাপদ স্তরে আছে। তবে রেকর্ড-কিপিং ও প্রশাসনিক পদের চাকরি হুমকির মুখে আছে।

আগামী পাঁচ বছরে দ্রুত বেড়ে যাওয়া ১০ চাকরির মধ্যে
১. এআই ও মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞ ২. সাসটেইনেবিলিটি স্পেশালিস্ট ৩. বিজনেস ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিস্ট ৪. ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট ৫. ফিনটেক ইঞ্জিনিয়ার ৬. ডেটা অ্যানালিস্ট ও বিজ্ঞানী ৭. রোবোটিকস ইঞ্জিনিয়ার ৮. ইলেকট্রোটেকনোলজি ইঞ্জিনিয়ার ৯. অ্যাগ্রিকালচারাল ইকুইপমেন্ট অপারেটর ১০. ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন স্পেশালিস্ট
আগামী পাঁচ বছরে দ্রুত হারিয়ে যাওয়া ১০ চাকরির মধ্যে
১. ব্যাংক টেলারস অ্যান্ড রিলেটেড ক্লার্কস ২. পোস্টাল সার্ভিস ক্লার্কস ৩. ক্যাশিয়ারস অ্যান্ড টিকিট ক্লার্কস ৪. ডেটা এন্ট্রি ক্লার্কস ৫. অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যান্ড এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারিস ৬. ম্যাটেরিয়াল-রেকর্ডিং অ্যান্ড স্টক-কিপিং ক্লার্কস ৭. অ্যাকাউন্টিং, বুককিপিং অ্যান্ড পে-রোল ক্লার্কস ৮. লেজিসলেটরস অ্যান্ড অফিশিয়ালস ৯. স্ট্যাটিসটিক্যাল, ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স ক্লার্কস ১০. ডোর-টু-ডোর সেলস ওয়ার্কারস, নিউজ অ্যান্ড স্ট্রিট ভেন্ডরস।




















