Bangladesh Railways : পদ্মা-যমুনার পর এবার পশ্চিমাঞ্চল জয় রেলওয়ের
- আপডেট সময় : ০৯:২২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ২১২ বার পড়া হয়েছে
আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধচলাকালে বাংলাদেশের রেলওয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি আঘাত আসে। তৎকালীন সময়ে পিছিয়ে পরা দেশটির রেলপথই ছিল যোগাযোগ ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত। ২৫ মার্চ রাতে হানাদার পাকিস্তানি সেনারা বাংলার নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাপিয়ে পরে। অকথ্য নির্যাতনে মেতে ওঠো হানাদার বাহিনী। শুরু হয় বাঙালির অস্তিত্বের লড়াই। কাতারে কাতারে মানুষ পড়শি ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন হানাদার বাহিনী বিভিন্ন স্থানে রেলপথ ধ্বংস করে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দেয়।
একটি ধংসস্তুপে যাত্রা শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীকারের দীর্ঘ আন্দোলনের পর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সঙ্গী ভারত। বিশ্ব দরবারে স্থান পায় লালসবুজে খচিত পতাকা। লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার মাত্র তিন বছরের মাথায় আরও একটি বিধ্বংসী আঘাত আসে এবং সেই আঘাতে কেড়ে নেওয়া হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তারপরের ইতিহাস লজ্জার। দীর্ঘ একুশ বছর পর ফের বাঙালি মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে শুরু করে। কারণ, তখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হাজারো সংকটের মধ্যে এগিয়ে নেবার সংকল্প বাস্তবায়নে হাত লাগালেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু পর তার দুরদর্শিতায়যোগাযোগ মাধ্যমে গতি পায়। ডুবন্ত রেলকে ভাসিয়ে তোলার ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা। প্রাচীন এবং সময় সাশ্রয়ী যোগাযোগ মধ্যমটির প্রসারের লক্ষে সর্বশেষ যুগান্তকারী পদক্ষেপের অংশ হিসাবে আলাদা রেলমন্ত্রক করা হল। ভঙ্গুর রেলের পালকে যুক্ত হচ্ছে গর্বিত ইতিহাস।
পদ্মা-যমুনায় উন্নয়নের শঙ্কচিল
প্রমত্তা পদ্মা আর বিশাল যমুনা নদী। বিশাল দুই জলপথ সম্পদ। এই দুই নদী জয়ের চিন্তাতো দূরের কথা কল্পনাও করেনি কেউ। অবশেষে সেই পদ্মা-যমুনায় উন্নয়নের শঙ্কচিল উড়ালেন শেখ হাসিনা। জুড়লেন পশ্চিম থেকে পূর্বে এবং দক্ষিণ থেকে পশ্চিমে। যুক্ত হল আন্তঃদেশীয় সংযোগ। সেই সঙ্গে খুলে গেল অর্থনীতির দুয়ার। কল্পনা নয়, বাস্তবতার সড়কে যুক্ত হয়ে গতিশীলের পা রাখলো উত্তরাঞ্চলের ‘কৃষি অর্থনীতি’।

৫৫০ কিলোমিটার নতুন রেলপথ
গত ১৪ বছরে হাসিনা সরকারের হাত ধরে প্রায় সাড়ে পাঁচশ’ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ হয়েছে। রেলওয়ের উন্নয়নের সর্বশেষ অংশি হচ্ছে তিনটি প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ৬৯ দশমিক ২০ কিলোমিটার রেলপথ। এটি রূপপুর (ঈশ্বরদী), শশীদল (কুমিল্লা) এবং জয়দেবপুর (গাজীপুর) স্টেশন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থেকে মন্দবাগ ও কুমিল্লার শশীদল থেকে রাজাপুর পর্যন্ত ডাবল লাইনে ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ, একই সঙ্গে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল গেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েল গেজ লাইন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ১১ কিলোমিটার ডাবল লাইন।
প্রকল্পের আওতায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় রূপপুর রেলস্টেশন, নবনির্মিত ও সংস্কার করা ২৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার রেললাইনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রূপপুর, শশীদল ও জয়দেবপুরে একযোগে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
রেল যোগাযোগের সাক্ষী হবে ঢাকা
এই সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা মহানগরী একটি ভিন্ন রেল যোগাযোগের সাক্ষী এবং যোগযোগ ক্ষেত্রে আলাদা পরিবেশ তৈরি হবে। পাশাপাশি সময় সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব যোগাযোগে কমবে তেল খরচ। কমবে ঢাকার যানজট। এভাবেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা মেট্রোরেল উদ্বোধন করেছি, যেটা পরবর্তী সময়ে উত্তরা থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত বর্ধিত করা হবে। মেট্রোর ক্ষেত্রে আমরা পাতালেও যাচ্ছি। ইতোমধ্যে এমআরটি লাইন-১ এর অধীনে পাতাল রেলের নির্মাণ কাজেরও শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
রেল খাতে সকল প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় এবং আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগের নব-দিগন্তের সূচনা হবে এবং রেল পরিসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় যেসব রেল-লিংক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকার সেগুলো একে একে উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি-১) অর্থায়নে রেলপথ মন্ত্রকের অধীনে রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল গেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ (ডিটিজেডিএলপি) শীর্ষক প্রকল্পের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে।
প্রকল্পের আওতায় টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ১১ দশমিক ৯ কিলোমিটার রুটে ডাবল লাইন নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এই সেকশনে ডাবল লাইনে ট্রেন চালু করা হলে ধীরাশ্রম স্টেশনে ক্রসিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। একারণে ট্রেনের যাত্রা কমে আসবে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা হ্রাস পাবে।
রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলপথ সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবির স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অন্যদের মধ্যে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. বিনয় জর্জ বক্তব্য রাখেন।




















