ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গণঅভ্যুত্থানে শহীদ-আহতদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ

World Economic Forum : ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক জরিপ,  বৈশ্বিক মন্দার শঙ্কা প্রকাশ অর্থনীতিবিদদের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৩ ২৪৩ বার পড়া হয়েছে

ছবি: ইন্টারনেট

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুইজারল্যান্ডের আলপাইন গ্রাম দাভোসে শুরু হওয়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন দুই হাজার ৭০০ জনেরও বেশি বিশ্বনেতা। ১৬-২০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা সম্মেলনে বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের সমাধান নিয়ে কথা বলবেন তারা

এই সমাবেশে ১৩০টি দেশের ৫২ জন রাষ্ট্রপ্রধান, ব্যবসা, অর্থ ও সংস্কৃতি নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি মানবতাবাদী এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন

 

অনলাইন ডেস্ক 

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক জরিপে অংশ নেওয়া ৬৮ শতাংশ শীর্ষ অর্থনীতিবিদ চলতি বছর বৈশ্বিক মন্দার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।   ১৮ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, মন্দা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে সোমবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভার এক সেশনে সেন্টার ফর দ্য নিউ ইকোনমি অ্যান্ড সোসাইটির ‘প্রধান অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি’ বিষয়ক প্রকাশনায় এই শঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়।

৮৬ শতাংশ অর্থনীতিবিদ বলেছেন, সম্ভাব্য মন্দার কারণে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ব্যয় সংকোচন নীতি নেবে। কর্মী ছাঁটাই হবে বলে মত দিয়েছেন ৭৮ শতাংশ অর্থনীতিবিদ। অনেকের মতে, ভূরাজনীতির পটপরিবর্তনের কারণে জ্বালানি সংকট হবে।

সার্বিক মন্দার বিষয়ে অনেক অর্থনীতিবিদের মধ্যে মতৈক্য দেখা গেলেও তীব্র মন্দার আশঙ্কা কমেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তীব্র মন্দার শঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছিলেন ৩৫ শতাংশের বেশি অর্থনীতিবিদ। অর্থাৎ নানা পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অনেক অর্থনীতিবিদ তাঁদের মত বদলেছেন।

এখনও এক-তৃতীয়াংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এ বছর মন্দা হবে না। বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদের মতে, এ বছর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে ঝড় বয়ে যাবে, তাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকার স্বার্থে নানা পর্যায়ে ব্যয় সংকোচনমুখী নীতি অবলম্বনে বাধ্য হবে। মূলত বৈশ্বিক রাজনীতি থেকে সৃষ্ট উত্তেজনাই বৈশ্বিক অর্থনীতির ধরন পাল্টে দেবে বলে মত দেন তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আরও বেশি কড়াকড়ি আরোপ করবে।

ছবি: ইন্টারনেট

প্রকাশনায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক, বিশেষত ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। জরিপে অংশ নেওয়া সব শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ২০২৩ সালে ইউরোপে দুর্বল প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করেছেন। ৯১ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বল প্রবৃদ্ধি হবে বলে মনে করছেন।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রক্ষেপণ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা এক মত হলেও চীনের ব্যাপারে তাঁরা অনেকটা দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ মনে করেন, এ বছর চীনও মন্দার কবলে পড়বে। আবার অন্যরা মনে করছেন, প্রবৃদ্ধি হবে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিয়া জায়েদি বলেন, বিশ্বনেতাদের বর্তমান সংকটের বাইরে নজর দিতে হবে। বিশেষত খাদ্য ও শক্তির উদ্ভাবন, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং আগামী দিনের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগ বাড়াতে মনোযোগী হতে হবে।

মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ ও করোনা মহামারির পর বিশ্বের অনেক কিছুই বদলে গেছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির পর পশ্চিমা দেশগুলো এখন আর এককভাবে চীননির্ভর থাকতে চাইছে না। আমদানির উৎস বাড়ানোর চেষ্টা করছে তারা। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশ লাভবান হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

World Economic Forum : ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক জরিপ,  বৈশ্বিক মন্দার শঙ্কা প্রকাশ অর্থনীতিবিদদের

আপডেট সময় : ০৭:১৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৩

সুইজারল্যান্ডের আলপাইন গ্রাম দাভোসে শুরু হওয়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন দুই হাজার ৭০০ জনেরও বেশি বিশ্বনেতা। ১৬-২০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা সম্মেলনে বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের সমাধান নিয়ে কথা বলবেন তারা

এই সমাবেশে ১৩০টি দেশের ৫২ জন রাষ্ট্রপ্রধান, ব্যবসা, অর্থ ও সংস্কৃতি নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি মানবতাবাদী এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন

 

অনলাইন ডেস্ক 

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক জরিপে অংশ নেওয়া ৬৮ শতাংশ শীর্ষ অর্থনীতিবিদ চলতি বছর বৈশ্বিক মন্দার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।   ১৮ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, মন্দা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে সোমবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভার এক সেশনে সেন্টার ফর দ্য নিউ ইকোনমি অ্যান্ড সোসাইটির ‘প্রধান অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি’ বিষয়ক প্রকাশনায় এই শঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়।

৮৬ শতাংশ অর্থনীতিবিদ বলেছেন, সম্ভাব্য মন্দার কারণে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ব্যয় সংকোচন নীতি নেবে। কর্মী ছাঁটাই হবে বলে মত দিয়েছেন ৭৮ শতাংশ অর্থনীতিবিদ। অনেকের মতে, ভূরাজনীতির পটপরিবর্তনের কারণে জ্বালানি সংকট হবে।

সার্বিক মন্দার বিষয়ে অনেক অর্থনীতিবিদের মধ্যে মতৈক্য দেখা গেলেও তীব্র মন্দার আশঙ্কা কমেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তীব্র মন্দার শঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছিলেন ৩৫ শতাংশের বেশি অর্থনীতিবিদ। অর্থাৎ নানা পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অনেক অর্থনীতিবিদ তাঁদের মত বদলেছেন।

এখনও এক-তৃতীয়াংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এ বছর মন্দা হবে না। বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদের মতে, এ বছর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে ঝড় বয়ে যাবে, তাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকার স্বার্থে নানা পর্যায়ে ব্যয় সংকোচনমুখী নীতি অবলম্বনে বাধ্য হবে। মূলত বৈশ্বিক রাজনীতি থেকে সৃষ্ট উত্তেজনাই বৈশ্বিক অর্থনীতির ধরন পাল্টে দেবে বলে মত দেন তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আরও বেশি কড়াকড়ি আরোপ করবে।

ছবি: ইন্টারনেট

প্রকাশনায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক, বিশেষত ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। জরিপে অংশ নেওয়া সব শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ২০২৩ সালে ইউরোপে দুর্বল প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করেছেন। ৯১ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বল প্রবৃদ্ধি হবে বলে মনে করছেন।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রক্ষেপণ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা এক মত হলেও চীনের ব্যাপারে তাঁরা অনেকটা দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ মনে করেন, এ বছর চীনও মন্দার কবলে পড়বে। আবার অন্যরা মনে করছেন, প্রবৃদ্ধি হবে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিয়া জায়েদি বলেন, বিশ্বনেতাদের বর্তমান সংকটের বাইরে নজর দিতে হবে। বিশেষত খাদ্য ও শক্তির উদ্ভাবন, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং আগামী দিনের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগ বাড়াতে মনোযোগী হতে হবে।

মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ ও করোনা মহামারির পর বিশ্বের অনেক কিছুই বদলে গেছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির পর পশ্চিমা দেশগুলো এখন আর এককভাবে চীননির্ভর থাকতে চাইছে না। আমদানির উৎস বাড়ানোর চেষ্টা করছে তারা। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশ লাভবান হতে পারে।