Bangladesh-India : ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক
- আপডেট সময় : ০৯:০১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৩ ৩৪৫ বার পড়া হয়েছে
তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনসহ সংবাদমাধ্যমের আদান-প্রদানে উভয় পক্ষের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জানান, গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরসহ উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে বিষয়ে তারা মতবিনিময় করেছেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের যৌথ আত্মত্যাগের মূলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অভিহিত করে হাইকমিশনার বলেন, গত প্রায় এক দশক ধরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অসাধারণ বৃদ্ধিকে আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন। উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
প্রণয় ভার্মা বলেন, তারা মনে করেন যে উভয় দেশের জনগণের সমৃদ্ধি ও মঙ্গল পরস্পরের সাথে জড়িত। জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভিত তৈরি করে। ভারত-বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের দূরদর্শী নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে এবং এটি সুপ্রতিবেশী সম্পর্কের মডেল হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি, টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি, কানেকটিভিটি এগুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের ত্রিপুরা, দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যে আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রচারে তেমন কোনো অসুবিধা না থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে দেখাতে পারে না। মূলত সেখানকার ক্যাবল অপারেটররা শুরুতেই কয়েক কোটি টাকা এবং বছর প্রতি কোটি টাকা দাবি করে, যা আমাদের চ্যানেলগুলোর পক্ষে দেয়া সম্ভব না।
সে পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে কিছু করা যায় কি না, সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক, দু’দেশের যোগাযোগ বিশেষ করে আগরতলা-আখাউড়া ট্রেন রুটের অগ্রগতি, আমাদের ইকোনোমিক জোনগুলোতে ভারতের বিনিয়োগসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
ড. হাছান বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং সেই সম্পর্ক রক্তের অক্ষরে লেখা। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সৈন্য এবং নাগরিকরা আমাদের সঙ্গে জীবন দিয়েছেন। সুতরাং দু’দেশের মানুষে মানুষে যোগাযোগ কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, অনেক মানুষ চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে যায় কিন্তু ভিসা পেতে দেরি হয়, সেটিকে আরও কীভাবে সহজীকরণ করা যায় সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি এবং হাইকমিশনার এসব বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলেছেন।’
ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সাংবাদিকদের বলেন, ‘তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই আমার প্রথম সাক্ষাৎ। অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে যে অনন্য বন্ধন রচিত হয়েছে, গত এক দশকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাদের নির্দেশিত বিভিন্ন বিষয় বাস্তবায়ন এবং মানুষে মানুষে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর করার বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।




















