ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে-চীনা রাষ্ট্রদূত তৈরি পোশাকখাত এখন পোশাক খাত এখন আইসিইউতে: মোহাম্মদ হাতেম তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ব্যবসা মন্দা, আয় সংকোচন ও রাজস্ব ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি  নির্বাচন কমিশনের সামনে বিজিবি মোতায়েন, ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত মাদারীপুরে বাস অটোরিকশা সংঘর্ষ প্রাণ গেল ৬জনের বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার রমজান সামনে আগেই চড়া বাজার: দামে লাগাম টানতে কড়া নজরদাবি জরুরি বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয়

১ নভেম্বর উদ্বোধন আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৩ ২৩৪ বার পড়া হয়েছে

১ নভেম্বর শেখ হাসিনা-মোদি উদ্বোধন করবেন আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমিনুল হক, ঢাকা

অবশেষে ১ নভেম্বর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ। বুধবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ভার্চ্যুয়ালী রেলপথের উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি মোংলা-খুলনা রেলপথ এবং রামপাল থারমাল পাওয়ার স্টেশন উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

১২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেলপথের বাংলাদেশ অংশ ৬ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার। করোনা মহামারিসহ নানা সংকটে দেড় বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে পাঁচ বছরেরও বেশি। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের নির্মাণ কাজ শুরু করে।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে আখাউড়ার-আগরতলার নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত ১২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। করোনা মহামারিসহ নানা সংকটের কারণে দেড় বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সময় লাগছে পাঁচ বছরেরও বেশি। রেললাইনের কাজ শেষ হলেও ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ভবন এবং প্লাটফর্মের ফিনিশিং কাজ অসম্পন্ন থাকে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে বাদবাকি কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানান প্রকল্প কর্মকর্তারা।

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথটি ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের আর্শিবাদ। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে কোন যাত্রী ট্রেন কলকাতায় পৌছাতে সময় লাগে ৩৮ ঘন্টারও বেশি। এই রেলপথ চালুর মাধ্যমে মাত্র ৮ঘন্টায় কলকাতায় পৌছানো সম্ভব হবে। প্রাথমিক অবস্থায় এপথে পণ্যট্রেন চলাচল করবে। সময় সাশ্রয়ী চলাচলের সুবিধাভোগ হবে উত্তরপূর্ব ভারতের মানুষ। বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্প এবং মোংলা-খুলনা রেলপথ এই তিন প্রকল্পের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দুই প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে।

আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথে চূড়ান্ত ট্রায়াল রান সম্পন্ন করা হল সোমবার। এদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশের রেলেওয়ের ৬ জন স্টাফ নিয়ে আখাউড়ার গঙ্গাসাগর নবনির্মিত রেলওয়ে স্টেশন থেকে ৫টি খালি বগি নিয়ে আগরতলা নিশ্চিন্তপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে ফের বাংলাদেশের গঙ্গাসাগরে ফিরে আসে।

 

 

অবশ্য এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রান্তে প্রথম ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে রেলপথ মন্ত্রক। প্রকল্প পরিচালক আবু জাফর মিয়া জানিয়েছেন, ১ নভেম্বর বুধবার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী রেলপথটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর প্রথম দিকে পণ্যবাহী ট্রেন এবং পরবর্তীতে যাত্রীবাহী ট্রেনও চালাচল করবে। এদিন ঢাকায় গণভবন থেকে শেখ হাসিনা এবং দিল্লী থেকে নরেন্দ্র মোদি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করবেন। রেলভবন জানায় আজ সোমবার (৩০ অক্টোবর) রেলপথে চূড়ান্ত ট্রায়াল রান সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের গঙ্গাসাগর স্টেশনের রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ১ নভেম্বর ভার্চুয়ালি বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। অপর দিকে মোংলা-খুলনা রেলপথ ও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রও উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

সোমবার ৫টি খালি বগি নিয়ে ট্রেনটি ভারতের নিশ্চিন্তপুরে যাওয়া আসা করে। ট্রয়াল রান উপলক্ষে গঙ্গাসাগর রেলস্টেশনে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়। ট্রেনের পরিচালক, সহকারী পরিচালক ও চালকসহ সাত জন সেখানে তাদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তারা ট্রেনটি নিয়ে আগরতলার নিশ্চিন্তপুর যান এবং ফিরে আসবেন। আখাউড়া-আগরতলা নতুন রেললাইনের ৫.০৫ কিলোমিটার ভারতে এবং বাংলাদেশে ১০.০১৪ কিলিমিটার। পশ্চিম ত্রিপুরার নিশ্চিন্তপুরে একটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন স্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রেলওয়ে স্টেশন আখাউড়াকে সংযুক্ত করেছে।

ভারতের অর্থায়নে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে হল ১,০০০ কোটি টাকার আগরতলা-আখাউড়া রেলওয়ে প্রকল্পের ২০১০ সালে জানুয়ারি মাসে চূড়ান্ত হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে তার নয়াদিল্লিতে চূড়ান্ত হয় আগরতলা-আখাউড়া রেলওয়ে প্রকল্প।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১ নভেম্বর উদ্বোধন আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ

আপডেট সময় : ১০:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৩

আমিনুল হক, ঢাকা

অবশেষে ১ নভেম্বর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ। বুধবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ভার্চ্যুয়ালী রেলপথের উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি মোংলা-খুলনা রেলপথ এবং রামপাল থারমাল পাওয়ার স্টেশন উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

১২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেলপথের বাংলাদেশ অংশ ৬ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার। করোনা মহামারিসহ নানা সংকটে দেড় বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে পাঁচ বছরেরও বেশি। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের নির্মাণ কাজ শুরু করে।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে আখাউড়ার-আগরতলার নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত ১২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। করোনা মহামারিসহ নানা সংকটের কারণে দেড় বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সময় লাগছে পাঁচ বছরেরও বেশি। রেললাইনের কাজ শেষ হলেও ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ভবন এবং প্লাটফর্মের ফিনিশিং কাজ অসম্পন্ন থাকে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে বাদবাকি কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানান প্রকল্প কর্মকর্তারা।

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথটি ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের আর্শিবাদ। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে কোন যাত্রী ট্রেন কলকাতায় পৌছাতে সময় লাগে ৩৮ ঘন্টারও বেশি। এই রেলপথ চালুর মাধ্যমে মাত্র ৮ঘন্টায় কলকাতায় পৌছানো সম্ভব হবে। প্রাথমিক অবস্থায় এপথে পণ্যট্রেন চলাচল করবে। সময় সাশ্রয়ী চলাচলের সুবিধাভোগ হবে উত্তরপূর্ব ভারতের মানুষ। বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্প এবং মোংলা-খুলনা রেলপথ এই তিন প্রকল্পের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দুই প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে।

আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথে চূড়ান্ত ট্রায়াল রান সম্পন্ন করা হল সোমবার। এদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশের রেলেওয়ের ৬ জন স্টাফ নিয়ে আখাউড়ার গঙ্গাসাগর নবনির্মিত রেলওয়ে স্টেশন থেকে ৫টি খালি বগি নিয়ে আগরতলা নিশ্চিন্তপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে ফের বাংলাদেশের গঙ্গাসাগরে ফিরে আসে।

 

 

অবশ্য এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রান্তে প্রথম ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে রেলপথ মন্ত্রক। প্রকল্প পরিচালক আবু জাফর মিয়া জানিয়েছেন, ১ নভেম্বর বুধবার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী রেলপথটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর প্রথম দিকে পণ্যবাহী ট্রেন এবং পরবর্তীতে যাত্রীবাহী ট্রেনও চালাচল করবে। এদিন ঢাকায় গণভবন থেকে শেখ হাসিনা এবং দিল্লী থেকে নরেন্দ্র মোদি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করবেন। রেলভবন জানায় আজ সোমবার (৩০ অক্টোবর) রেলপথে চূড়ান্ত ট্রায়াল রান সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের গঙ্গাসাগর স্টেশনের রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ১ নভেম্বর ভার্চুয়ালি বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। অপর দিকে মোংলা-খুলনা রেলপথ ও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রও উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

সোমবার ৫টি খালি বগি নিয়ে ট্রেনটি ভারতের নিশ্চিন্তপুরে যাওয়া আসা করে। ট্রয়াল রান উপলক্ষে গঙ্গাসাগর রেলস্টেশনে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়। ট্রেনের পরিচালক, সহকারী পরিচালক ও চালকসহ সাত জন সেখানে তাদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তারা ট্রেনটি নিয়ে আগরতলার নিশ্চিন্তপুর যান এবং ফিরে আসবেন। আখাউড়া-আগরতলা নতুন রেললাইনের ৫.০৫ কিলোমিটার ভারতে এবং বাংলাদেশে ১০.০১৪ কিলিমিটার। পশ্চিম ত্রিপুরার নিশ্চিন্তপুরে একটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন স্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রেলওয়ে স্টেশন আখাউড়াকে সংযুক্ত করেছে।

ভারতের অর্থায়নে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে হল ১,০০০ কোটি টাকার আগরতলা-আখাউড়া রেলওয়ে প্রকল্পের ২০১০ সালে জানুয়ারি মাসে চূড়ান্ত হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে তার নয়াদিল্লিতে চূড়ান্ত হয় আগরতলা-আখাউড়া রেলওয়ে প্রকল্প।