হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রুশ যুদ্ধজাহাজ
- আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ১৯০ বার পড়া হয়েছে
দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছেছে নতুন প্রজন্মের হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রুশ যুদ্ধজাহাজ : ছবি সংগ্রহ
জিরকন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলোর ৯০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম এবং শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুত উড়তে পারে। ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এগুলোকে শনাক্ত করা কঠিন
অনলাইন ডেস্ক
দেখতে দেখতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ একবছরে পা রাখছে। যতই দিন গড়াচ্ছে, পরিস্থিতি ততোই ভয়ানক হচ্ছে। রুশ-ইউক্রেণ যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ব অর্থনীতি। যুদ্ধে প্রভাবে স্বল্প ও উন্নত দেশগুলো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে।
২০২২ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া। এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিকভাবে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকটের সূত্রপাত করে এই যুদ্ধ। এই যুদ্ধে বহু মানুষ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধ সামরিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগত অনেক বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। লড়াইয়ের প্রতি ইউক্রেনীয় বাহিনীর দৃঢ়সংকল্প এবং কিয়েভের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন একদিকে মস্কোকে বিস্মিত করেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমারা যে নিষেধাজ্ঞার কূটনীতি প্রয়োগ করেছে, তা বাস্তবায়নের পথে চীন, ভারত ও আফ্রিকার অনেকগুলো দেশ অন্তরায় হয়েছে।
পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রধান লক্ষ্যটি ছিল রাশিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করে দেওয়া। কিন্তু রাশিয়া ভালোভাবেই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সামলেছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপের অনেক দেশ তাদের আগেকার রক্ষণশীল অবস্থা পাল্টে ইউক্রেনীয় অভিবাসীদের মুক্তহস্তে আশ্রয় দিয়ে চলেছে। আমাদের মূল্যায়নে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য তিন পরিণতি হতে পারে।

বছর হতে চলা যুদ্ধে পর্যন্ত বহু মানুষ হতাহত হলেও এখনো কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং যুদ্ধ আরো প্রলম্বিত হচ্ছে। গার্ডিয়ান বলছে, এই অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছেছে নতুন প্রজন্মের হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রুশ যুদ্ধজাহাজ। উদ্দেশ্য আফ্রিকা ও চীনের সঙ্গে একটি সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া।
রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার রিচার্ডস বে বন্দরে যুদ্ধজাহাজটি পৌঁছেছে। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। শুক্রবার এই যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটি এই মহড়াকে নিয়মিত বলে দাবি করলেও দেশে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে সরকারকে।
সমালোচকরা বলছেন, এতে করে পশ্চিমা অংশীদারদের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনেই চীন, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার এই সামরিক মহড়া শুরু হবে। এছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি থেকে বের হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরদিন যুদ্ধজাহাজটির দক্ষিণ আফ্রিকা পৌঁছার খবর জানা গেল। যুদ্ধজাহাজটির নাম ‘দ্য অ্যাডমিরাল গর্শকভ অব দ্য ফ্লিট অব দ্য সোভিয়েত ইউনিয়ন’।
রাশিয়ার উত্তরীয় নৌবহরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ভ্রমণের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালনে রিচার্ডস বেতে পৌঁছেছে এই যুদ্ধজাহাজ। ৪ জানুয়ারি রাশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে গর্শকভ। এতে রয়েছে জিরকন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলোর ৯০০ কিলোমিটার দূরে আঘাতে সক্ষম এবং শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুত উড়তে পারে। এর ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এগুলোকে শনাক্ত করা কঠিন। জানুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধজাহাজটি থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে নিজের আক্রমণ সামর্থ্য অনুশীলন করে।



















