হাঁড়িভাঙা আম রপ্তানির ৩০ কোটি টাকার অর্ডার, ২৫০ কোটি টাকার বিক্রির আশা
- আপডেট সময় : ১০:৪০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪ ২০১ বার পড়া হয়েছে
এরই মধ্যে মালয়েশিয়া, নেপাল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানির জন্য কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকার আমের অর্ডার পেয়েছেন বাগান মালিকরা। এই অর্ডার আরও বাড়তে পারে বলেও আশা বাগান মালিকদের। বাংলাদেশের হাঁড়িভাঙা জাতের আমের সুখ্যাতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
আমের নাম হাঁড়িভাঙ্গা। বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বর্হিবিশ্বে যার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবছর এই আমের চাহিদা বেড়েই চলেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারের চেয়ে বর্হিবিশ্বে এই রসালো আমের চাহিদা ব্যাপক। হাঁড়িভাঙ্গা আমের স্বাদ নিতে মুখিয়ে আছেন প্রবাসীরা।
এরই মধ্যে হাঁড়িভাঙ্গা আমের উৎপাদনের স্থান রংপুরে বিশেষ ব্যবস্থায় বসানো হয়েছে, বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসগুলো অফিস। রংপুরের পদাগঞ্জ এলাকায় মৌসুমী অফিস বসানো হয়েছে। তারা বাগান থেকে আম সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ গাড়িরও ব্যবস্থা করেছেন।
রংপুর জেলা প্রশাসক জানাচ্ছেন, আম চাষি, কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রির সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
এ বছর আঁশবিহীন সুস্বাদু এই আম বাজারে আসবে ২০ জুন থেকে। কৃষকরা বলছেন, এ মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের বাগানগুলো থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার আম বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তারা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, চলতি বছর রংপুরে ১ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩০ হেক্টর বেশি জমি। চাষিরা বলছেন, এবার দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া এবং প্রচণ্ড তাপদাহে আশাতিত ফলন হয়নি।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমের ফলন গতবারের চেয়ে কিছুটা কম। তারপরও প্রায় ৩২ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদিত এসব আম বিক্রি ২৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হাঁড়িভাঙা আমের ইতিহাস ৩৭ বছরের। এর চাষাবাদ শুরু হয় রংপুরে। এই আমের বৈশিষ্ট্য হলো আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু। ত্বক খুব পাতলা এবং আঁটি ছোট। প্রতিটি আমের ওজন ১৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম হয়। সাধারণত জুনের তৃতীয় সপ্তাহে এই আম বাজারে আসে। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকায় প্রথমে বাণিজ্যিকভাবে হাঁড়িভাঙা আম চাষ শুরু করেন আলহাজ আব্দুস সালাম সরকার।
তার সফলতা দেখে এলাকার চাষিরা উদ্বুদ্ধ হন। তারপরই এই আম চাষ শুরু করেন। চাষিরা জানান, এলাকার মাটি লাল ও কাদাযুক্ত হওয়ায় বছরে একবার ধান ছাড়া কোনও ফসল উৎপাদিত হতো না। সে কারণে এলাকার সবাই হাঁড়িভাঙা আম চাষ শুরু করেন। এর সুনামও ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।



















