সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারকারীর ডেরায় হানা, ২০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ
- আপডেট সময় : ০৭:৫৮:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩ ২২৮ বার পড়া হয়েছে
সিঙ্গাপুরে টাকা নিয়ে আসা অনেক মানুষকে শনাক্ত করেছে দেশটির পুলিশ। এসব অর্থ অপরাধের মাধ্যমে উপার্জিত বলে সন্দেহ করা হয়
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
২০২১ সালেই প্রথম ইঙ্গিতটা পাওয়া যায়। সেসময় সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লক্ষ করেছিল সম্ভবত ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ব্যাংকে অর্থ রাখা হয়েছে। সন্দেহভাজন অর্থ পাচারকারীরা যাতে করে সতর্ক না হয়ে যায়, সে কারণে অল্প কয়েকজন পুলিশ অফিসারকে প্রাথমিক তদন্তে মাঠে নামানো হয়। ২০২২ সাল পর্যন্ত তদন্তের পর ‘কেঁচো খুড়তে সাপ’ বেরিয়ে আসে।
দ্য স্ট্রেইটস টাইমস’র এর খবর, বিদেশ থেকে টাকাপয়সা সিঙ্গাপুরে নিয়ে আসছেন এমন কিছু মানুষকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এসব অর্থ অপরাধের মাধ্যমে উপার্জিত বলে তারা সন্দেহ করেন। কিছু মানুষ আবার পরস্পর আত্মীয়। গত ১৫ আগস্ট পুরো দ্বীপজুড়ে যে অভিযান চালানো হয়, তাতে বিপুল সম্পদ জব্দ কিংবা ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দেশটির সরকার।
সম্পদের পরিমাণ সিঙ্গাপুরি ডলারে ২৮০ কোটিরও বেশি। যা কিনা ২০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এটাকে বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থ পাচারের ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় মন্ত্রী জোসেফিন টিও দেশটির পার্লামেন্টে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যেসব তথ্যসূত্র তারা ২০২১ সালে পেয়েছিলেন, তার মধ্যে বেশ কিছু তথ্য এসেছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কোম্পানি তরফে।

জোসেফিন টিও বলেন, গোপনে পুলিশ বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের পর তদন্তে মাঠে। সন্দেহভাজন যাতে কিছু বুঝে ওঠতে না পারে, সে জন্য সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত চালানো হয়।
জোসেফিন টিও জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা ও তাদের সহযোগী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং তাদের সম্পদের ব্যাপারে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে পুলিশ কাজ করেছে। তদন্ত যতটা সামনে এগুচ্ছে, ততই অপরাধের তথ্যও ব্যাপকতা বাড়ছে।
চলতি ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে পুলিশ অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করে। দপ্তরের কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন যে সিঙ্গাপুরের মাটিতেই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে গত ১৫ আগস্ট কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের নেতৃত্বে ৪০০ পুলিশকে নিয়ে পুরো সিঙ্গাপুরজুড়ে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ৯ জন পুরুষ ও ১ নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে পর দিন অর্থ পাচার, জালিয়াতি ও গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। সিঙ্গাপুরের ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে জঘন্য অর্থ পাচারের মামলা।
চীনের পরামর্শে এই অভিযান চালানো হয় বলে দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে, সে বিষয়টি মন্ত্রী জোসেফিন টিও অস্বীকার করেন। আমাদের আইন আমরা কীভাবে প্রয়োগ করব, সে সম্পর্কে সিঙ্গাপুরকে অন্য কোনো দেশের উপদেশ নেয় না। যদি কোনো বিষয়ে আমাদের স্বার্থ না থাকে, তাহলে আমরা কিছু করি না।




















