ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রান্তিক নারীদের আয়বৃদ্ধিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিতে হবে: বিএনপিএস নদী ভাঙনের হুমকিতে মধ্যনগরের মহিষখলা জাতীয় স্মৃতিসৌধ ট্রাম্প-পুতিনের ফোন আলোচনা ইরান যুদ্ধ ও তেল বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, ১,৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভ্যন্তরীণ তদন্ত দেড় কোটি মানুষ ছাড়ছে ঢাকা, ঈদে জনস্রোত সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ কমার একদিন পরই বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে বেড়েছে ৩,২৬৬ টাকা বিশ্ব ঐতিহ্যের জামদানি বুনেও কষ্টের জীবন রূপগঞ্জের তাঁতিদের ফ্যামিলি কার্ড নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক হবে: সিপিডি ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য সরকারের: প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, ১,৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা বাংলাদেশের

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, ১,৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা বাংলাদেশের

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি, অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জেমিসন গ্রিয়ার।

সিপিডি জানায়, এই চুক্তির কারণে চলতি অর্থবছরে সরকারের শুল্ক রাজস্ব প্রায় ১,৩২৭ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। চুক্তির ফলে অন্য ডব্লিউটিও সদস্য দেশকেও একই সুবিধা দিতে হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মঙ্গলবার ঢাকার ধানমন্ডিতে সিপিডির ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সুপারিশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৪,৫০০ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে এবং আগামী ৫-১০ বছরে আরও ২,২১০ পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে। একতরফাভাবে সুবিধা প্রদানের ফলে ডব্লিউটিও নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এবং সরকারের ব্যয়ও বাড়তে পারে।

সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্বে বাণিজ্যকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ডব্লিউটিওকে দুর্বল করছে। চুক্তি বাস্তবায়নের বড় অংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে হলেও, সরকারকে পণ্য আমদানিতে ভর্তুকি দিতে হতে পারে।

ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব সংগ্রহ লক্ষ্য পূরণ কঠিন; জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ১২.৯% যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ৩৪.৫%। রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ৮% ছাড়িয়েছে এবং উন্নয়ন ব্যয় ধীরগতি দেখা দিয়েছে। রপ্তানি কমেছে ৩.২%, আমদানি বেড়েছে ৩.৯%। বাজেট প্রণয়নের সময় দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব সংস্কার, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, ১,৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ০৬:৪২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি, অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জেমিসন গ্রিয়ার।

সিপিডি জানায়, এই চুক্তির কারণে চলতি অর্থবছরে সরকারের শুল্ক রাজস্ব প্রায় ১,৩২৭ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। চুক্তির ফলে অন্য ডব্লিউটিও সদস্য দেশকেও একই সুবিধা দিতে হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মঙ্গলবার ঢাকার ধানমন্ডিতে সিপিডির ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সুপারিশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৪,৫০০ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে এবং আগামী ৫-১০ বছরে আরও ২,২১০ পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে। একতরফাভাবে সুবিধা প্রদানের ফলে ডব্লিউটিও নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এবং সরকারের ব্যয়ও বাড়তে পারে।

সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্বে বাণিজ্যকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ডব্লিউটিওকে দুর্বল করছে। চুক্তি বাস্তবায়নের বড় অংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে হলেও, সরকারকে পণ্য আমদানিতে ভর্তুকি দিতে হতে পারে।

ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব সংগ্রহ লক্ষ্য পূরণ কঠিন; জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ১২.৯% যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ৩৪.৫%। রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ৮% ছাড়িয়েছে এবং উন্নয়ন ব্যয় ধীরগতি দেখা দিয়েছে। রপ্তানি কমেছে ৩.২%, আমদানি বেড়েছে ৩.৯%। বাজেট প্রণয়নের সময় দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব সংস্কার, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।