ভোর রাতে কুমিল্লায় মৃত্যু মিছিল: বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ঝরল ১২ প্রাণ
- আপডেট সময় : ০৮:৩৩:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, পুরো অঞ্চলের আনন্দকে বিষাদে ঢেকে দিয়েছে
ঈদের আনন্দের ভোরটাই যেন মুহূর্তে রূপ নিল শোকের কালো অধ্যায়ে। কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় রোববার ভোররাত ৩টার দিকে ভয়াবহ বাস–ট্রেন সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন ১২ জন।
যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও উপার্জনক্ষম পুরুষও রয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন, কেউ কেউ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন হাসপাতালে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেন ক্রসিং অতিক্রম করার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা মামুন স্পেশাল পরিবহনের বাসটি রেললাইনে উঠে পড়ে।
মুহূর্তেই ঘটে যায় মর্মান্তিক সংঘর্ষ। ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে গিয়ে কচুয়া চৌমুহনী এলাকায় গিয়ে থামে, ততক্ষণে বাসটি পরিণত হয় রক্তাক্ত ধ্বংসস্তূপে।
দুর্ঘটনার পরপরই ছুটে আসেন স্থানীয়রা। কান্না, আর্তনাদ আর আহতদের সাহায্যের আহ্বানে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অনেকেই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ভেতর আটকে পড়াদের বের করে আনেন।
পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং আহতদের পাঠানো হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে, তবে অনেকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, যা স্বজনদের অপেক্ষাকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার জন্য রেলগেটের সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটি ও দায়িত্বরত কর্মীর অবহেলাকে দায়ী করছেন ট্রেনযাত্রী ও স্থানীয়রা। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, জরুরি সহায়তা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করেও দ্রুত সাড়া পাননি।
ঈদের দিনগত রাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, পুরো অঞ্চলের আনন্দকে বিষাদে ঢেকে দিয়েছে। যে ভোরে নতুন পোশাক পরে শিশুদের হাসির শব্দ শোনার কথা ছিল, সেই ভোরে এখন কেবল শোনা যাচ্ছে স্বজন হারানোর হৃদয়বিদারক কান্না।



















