ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক বছরে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা কক্মাসবাজার তারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৬২.২৫ শতাংশ নদী মরছে, বিপন্ন হচ্ছে নগরসভ্যতা থেমে গেছে প্রতিদিনের হাঁটা ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত প্রধানমন্ত্রীর উপহার সিএনজি-রিকশা পেলেন জুলাইযোদ্ধারা

দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ এখনও নিরাপদ পানির বাইরে, পানি দিবসে বার্তা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬ ১২০ বার পড়া হয়েছে

দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ এখনও নিরাপদ পানির বাইরে, পানি দিবসে বার্তা: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ এখনও নিরাপদ পানির বাইরে, এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত এক জরিপে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, নিরাপদ পানীয় জলের প্রাপ্তির হার মাত্র ৩৯. শতাংশ, ফলে বিপুল জনগোষ্ঠী প্রতিদিন স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই সংকট ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

আজ ২২ মার্চ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানি দিবস এবারের প্রতিপাদ্যপানি লিঙ্গ সমতা’, যা পানি, স্যানিটেশন মানবাধিকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তুলে ধরে। বিশুদ্ধ পানি কেবল দৈনন্দিন প্রয়োজন নয়, এটি মানবজীবনের মৌলিক অধিকার, এই বার্তাই দিবসটি পুনর্ব্যক্ত করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম, কৃষি উৎপাদন, শিল্পায়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্যসবকিছুই নির্ভর করে নিরাপদ পানির ওপর। অথচ দেশের প্রায় অর্ধেক পানির উৎস দূষিত।

জরিপে দেখা গেছে, গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত পানির ৮০ শতাংশের বেশি নমুনায় . কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে, যা সরাসরি পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

জলবায়ু পরিবর্তন এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে, যা ভূগর্ভস্থ পানিকেও প্রভাবিত করছে। পাশাপাশি অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মিঠা পানির উৎস ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

চিংড়ি চাষ লবণ উৎপাদনের মতো অর্থনৈতিক কার্যক্রমও অনেক ক্ষেত্রে পানির লবণাক্ততা বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। অনিরাপদ পানি পান করার ফলে তারা ডায়রিয়া, অপুষ্টি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে তাদের স্কুলে উপস্থিতি কমে যাচ্ছে এবং শারীরিক মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে, লবণাক্ত পানি দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, যা বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি হাইকোর্ট এক রায়ে নিরাপদ পানিকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে।

একই সঙ্গে এক বছরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে বিনামূল্যে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আগামী ১০ বছরের মধ্যে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং সব ধরনের জলাশয় সংরক্ষণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ এখনও নিরাপদ পানির বাইরে, পানি দিবসে বার্তা

আপডেট সময় : ১০:০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ এখনও নিরাপদ পানির বাইরে, এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত এক জরিপে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, নিরাপদ পানীয় জলের প্রাপ্তির হার মাত্র ৩৯. শতাংশ, ফলে বিপুল জনগোষ্ঠী প্রতিদিন স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই সংকট ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

আজ ২২ মার্চ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানি দিবস এবারের প্রতিপাদ্যপানি লিঙ্গ সমতা’, যা পানি, স্যানিটেশন মানবাধিকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তুলে ধরে। বিশুদ্ধ পানি কেবল দৈনন্দিন প্রয়োজন নয়, এটি মানবজীবনের মৌলিক অধিকার, এই বার্তাই দিবসটি পুনর্ব্যক্ত করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম, কৃষি উৎপাদন, শিল্পায়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্যসবকিছুই নির্ভর করে নিরাপদ পানির ওপর। অথচ দেশের প্রায় অর্ধেক পানির উৎস দূষিত।

জরিপে দেখা গেছে, গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত পানির ৮০ শতাংশের বেশি নমুনায় . কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে, যা সরাসরি পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

জলবায়ু পরিবর্তন এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে, যা ভূগর্ভস্থ পানিকেও প্রভাবিত করছে। পাশাপাশি অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মিঠা পানির উৎস ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

চিংড়ি চাষ লবণ উৎপাদনের মতো অর্থনৈতিক কার্যক্রমও অনেক ক্ষেত্রে পানির লবণাক্ততা বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। অনিরাপদ পানি পান করার ফলে তারা ডায়রিয়া, অপুষ্টি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে তাদের স্কুলে উপস্থিতি কমে যাচ্ছে এবং শারীরিক মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে, লবণাক্ত পানি দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, যা বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি হাইকোর্ট এক রায়ে নিরাপদ পানিকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে।

একই সঙ্গে এক বছরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে বিনামূল্যে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আগামী ১০ বছরের মধ্যে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং সব ধরনের জলাশয় সংরক্ষণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।