ঢাকা ০৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক বছরে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা কক্মাসবাজার তারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৬২.২৫ শতাংশ নদী মরছে, বিপন্ন হচ্ছে নগরসভ্যতা থেমে গেছে প্রতিদিনের হাঁটা ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত প্রধানমন্ত্রীর উপহার সিএনজি-রিকশা পেলেন জুলাইযোদ্ধারা

ভোর রাতে কুমিল্লায় মৃত্যু মিছিল: বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ঝরল ১২ প্রাণ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৩:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

ভোর রাতে কুমিল্লায় মৃত্যু মিছিল: বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ঝরল ১২ প্রাণ: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, পুরো অঞ্চলের আনন্দকে বিষাদে ঢেকে দিয়েছে

ঈদের আনন্দের ভোরটাই যেন মুহূর্তে রূপ নিল শোকের কালো অধ্যায়ে। কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় রোববার ভোররাত ৩টার দিকে ভয়াবহ বাসট্রেন সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন ১২ জন।

যাদের মধ্যে নারী, শিশু উপার্জনক্ষম পুরুষও রয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন, কেউ কেউ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন হাসপাতালে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেন ক্রসিং অতিক্রম করার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা মামুন স্পেশাল পরিবহনের বাসটি রেললাইনে উঠে পড়ে।

মুহূর্তেই ঘটে যায় মর্মান্তিক সংঘর্ষ। ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে গিয়ে কচুয়া চৌমুহনী এলাকায় গিয়ে থামে, ততক্ষণে বাসটি পরিণত হয় রক্তাক্ত ধ্বংসস্তূপে।

দুর্ঘটনার পরপরই ছুটে আসেন স্থানীয়রা। কান্না, আর্তনাদ আর আহতদের সাহায্যের আহ্বানে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অনেকেই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ভেতর আটকে পড়াদের বের করে আনেন।

পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং আহতদের পাঠানো হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালএ।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে, তবে অনেকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, যা স্বজনদের অপেক্ষাকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার জন্য রেলগেটের সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটি দায়িত্বরত কর্মীর অবহেলাকে দায়ী করছেন ট্রেনযাত্রী স্থানীয়রা। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, জরুরি সহায়তা নম্বর ৯৯৯ ফোন করেও দ্রুত সাড়া পাননি।

ঈদের দিনগত রাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, পুরো অঞ্চলের আনন্দকে বিষাদে ঢেকে দিয়েছে। যে ভোরে নতুন পোশাক পরে শিশুদের হাসির শব্দ শোনার কথা ছিল, সেই ভোরে এখন কেবল শোনা যাচ্ছে স্বজন হারানোর হৃদয়বিদারক কান্না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভোর রাতে কুমিল্লায় মৃত্যু মিছিল: বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ঝরল ১২ প্রাণ

আপডেট সময় : ০৮:৩৩:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, পুরো অঞ্চলের আনন্দকে বিষাদে ঢেকে দিয়েছে

ঈদের আনন্দের ভোরটাই যেন মুহূর্তে রূপ নিল শোকের কালো অধ্যায়ে। কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় রোববার ভোররাত ৩টার দিকে ভয়াবহ বাসট্রেন সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন ১২ জন।

যাদের মধ্যে নারী, শিশু উপার্জনক্ষম পুরুষও রয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন, কেউ কেউ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন হাসপাতালে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেন ক্রসিং অতিক্রম করার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা মামুন স্পেশাল পরিবহনের বাসটি রেললাইনে উঠে পড়ে।

মুহূর্তেই ঘটে যায় মর্মান্তিক সংঘর্ষ। ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে গিয়ে কচুয়া চৌমুহনী এলাকায় গিয়ে থামে, ততক্ষণে বাসটি পরিণত হয় রক্তাক্ত ধ্বংসস্তূপে।

দুর্ঘটনার পরপরই ছুটে আসেন স্থানীয়রা। কান্না, আর্তনাদ আর আহতদের সাহায্যের আহ্বানে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অনেকেই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ভেতর আটকে পড়াদের বের করে আনেন।

পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং আহতদের পাঠানো হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালএ।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে, তবে অনেকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, যা স্বজনদের অপেক্ষাকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার জন্য রেলগেটের সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটি দায়িত্বরত কর্মীর অবহেলাকে দায়ী করছেন ট্রেনযাত্রী স্থানীয়রা। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, জরুরি সহায়তা নম্বর ৯৯৯ ফোন করেও দ্রুত সাড়া পাননি।

ঈদের দিনগত রাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, পুরো অঞ্চলের আনন্দকে বিষাদে ঢেকে দিয়েছে। যে ভোরে নতুন পোশাক পরে শিশুদের হাসির শব্দ শোনার কথা ছিল, সেই ভোরে এখন কেবল শোনা যাচ্ছে স্বজন হারানোর হৃদয়বিদারক কান্না।