ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রান্তিক নারীদের আয়বৃদ্ধিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিতে হবে: বিএনপিএস নদী ভাঙনের হুমকিতে মধ্যনগরের মহিষখলা জাতীয় স্মৃতিসৌধ ট্রাম্প-পুতিনের ফোন আলোচনা ইরান যুদ্ধ ও তেল বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, ১,৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভ্যন্তরীণ তদন্ত দেড় কোটি মানুষ ছাড়ছে ঢাকা, ঈদে জনস্রোত সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ কমার একদিন পরই বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে বেড়েছে ৩,২৬৬ টাকা বিশ্ব ঐতিহ্যের জামদানি বুনেও কষ্টের জীবন রূপগঞ্জের তাঁতিদের ফ্যামিলি কার্ড নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক হবে: সিপিডি ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য সরকারের: প্রধানমন্ত্রী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে প্রশ্ন করায় সাবরিনাকে আক্রমণ, নিন্দায় হোয়াইট হাউস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০২৩ ২৪০ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রশ্ন করায় মার্কিন সাংবাদিক সাবরিনা সিদ্দিকিকে হেনস্তার কড়া নিন্দা করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সোমবার হোয়াইট হাউস দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেয়, সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে সাংবাদিক সাবরিনা সিদ্দিকিকে আক্রমণ করা হচ্ছে, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই আচরণ গণতান্ত্রিক নীতিবিরোধী।

ভারতে গণতন্ত্রের অধোগমন, সংখ্যালঘু ও সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণের অভিযোগ মোদি সরকার বারবার খারিজ করে দিলেও সাবরিনা-কাণ্ড বুঝিয়ে দিল সেই দেশের প্রকৃত অবস্থা ঠিক কেমন। এসব অভিযোগ নিয়ে সাবরিনার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদি যা বলেছিলেন, তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অমিল কতখানি, তা-ও দ্রুত প্রমাণিত। যার ফলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন কিরবি বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘হয়রানির রিপোর্ট সম্পর্কে আমরা সব জানি। এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো দেশে যেকোনো পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের হেনস্তার তীব্র নিন্দা আমরা করি।’

সাড়ে ৯ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে নরেন্দ্র মোদি কোনো সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্ন করতে দেননি। শুধু সাংবাদিকই নন, এই সময়কালে সংসদেও কোনো সদস্য তাকে প্রশ্ন করতে পারেননি। কারও কোনো প্রশ্নের জবাবও দেননি।

যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসে সেই প্রথা ভেঙে যায়। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও প্রধানমন্ত্রী মোদি দুটি প্রশ্নের জবাব দেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক সাবরিনা সিদ্দিকির প্রশ্নটি ছিল, ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ ও মুসলমানদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত। সেই প্রশ্ন করার দরুন বিজেপির কর্তাসহ উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তীব্র ট্রোলের মুখে পড়তে হয় সাবরিনাকে। তাকে ‘পাকিস্তানি চক্রান্তকারী’ বলেও প্রতিপন্নের চেষ্টা করা হয়।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের পোশাকে সাংবাদিক সাবরিনা সিদ্দিকি ছবি: টুইটার থেকে

গত সোমবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে এই প্রসঙ্গটিই তুলে ধরেন এনইসি নিউজের সাংবাদিক কেলি ওডোনিল। সাবরিনার হেনস্তাকারীদের মধ্যে রাজনীতিবিদেরাও রয়েছেন জানিয়ে তিনি এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চান।

জন কিরবির মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব কারিন জাঁ পিয়েরে বলেন, ‘জন কিরবি যা বলেছেন, তার সঙ্গে আমি জানাতে চাই আমরা সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে কারণেই গত সপ্তাহে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সাংবাদিকেরা তাদের কাজ করেন। যারা তাদের ভয় দেখান বা হেনস্তা করেন, আমরা অবশ্যই তাদের সেই আচরণের নিন্দা করি।’

সাবরিনার প্রশ্নের জবাবে মোদি বলেছিলেন, গণতন্ত্র ভারতের মজ্জায়। গণতন্ত্র প্রতি ধনমিতে। ভারত গণতন্ত্রে বাঁচে। নিশ্বাস নেয়। সংবিধানেও তা লিপিবদ্ধ। তিনি বলেছিলেন, ভারতীয় গণতন্ত্রে বৈষম্যের কোনো স্থান নেই। সরকারের সব কাজের সুফল ভোগ করেন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই।

ভারতের সেই গণতন্ত্রে মুক্তমনা সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে কোন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে সাবরিনার হেনস্তার মধ্য দিয়েই তা পরিষ্কার। শুধু সাবরিনাই নন, ভারতীয় গণতন্ত্রের অধোগমন ও সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকেও তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। ওবামাকে আক্রমণ করছেন মোদির মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও বিজেপির নেতারা। সেই আক্রমণের নিন্দা প্রধানমন্ত্রী মোদি করেননি। সূত্র প্রথম আলো

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে প্রশ্ন করায় সাবরিনাকে আক্রমণ, নিন্দায় হোয়াইট হাউস

আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রশ্ন করায় মার্কিন সাংবাদিক সাবরিনা সিদ্দিকিকে হেনস্তার কড়া নিন্দা করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সোমবার হোয়াইট হাউস দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেয়, সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে সাংবাদিক সাবরিনা সিদ্দিকিকে আক্রমণ করা হচ্ছে, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই আচরণ গণতান্ত্রিক নীতিবিরোধী।

ভারতে গণতন্ত্রের অধোগমন, সংখ্যালঘু ও সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণের অভিযোগ মোদি সরকার বারবার খারিজ করে দিলেও সাবরিনা-কাণ্ড বুঝিয়ে দিল সেই দেশের প্রকৃত অবস্থা ঠিক কেমন। এসব অভিযোগ নিয়ে সাবরিনার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদি যা বলেছিলেন, তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অমিল কতখানি, তা-ও দ্রুত প্রমাণিত। যার ফলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন কিরবি বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘হয়রানির রিপোর্ট সম্পর্কে আমরা সব জানি। এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো দেশে যেকোনো পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের হেনস্তার তীব্র নিন্দা আমরা করি।’

সাড়ে ৯ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে নরেন্দ্র মোদি কোনো সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্ন করতে দেননি। শুধু সাংবাদিকই নন, এই সময়কালে সংসদেও কোনো সদস্য তাকে প্রশ্ন করতে পারেননি। কারও কোনো প্রশ্নের জবাবও দেননি।

যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসে সেই প্রথা ভেঙে যায়। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও প্রধানমন্ত্রী মোদি দুটি প্রশ্নের জবাব দেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক সাবরিনা সিদ্দিকির প্রশ্নটি ছিল, ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ ও মুসলমানদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত। সেই প্রশ্ন করার দরুন বিজেপির কর্তাসহ উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তীব্র ট্রোলের মুখে পড়তে হয় সাবরিনাকে। তাকে ‘পাকিস্তানি চক্রান্তকারী’ বলেও প্রতিপন্নের চেষ্টা করা হয়।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের পোশাকে সাংবাদিক সাবরিনা সিদ্দিকি ছবি: টুইটার থেকে

গত সোমবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে এই প্রসঙ্গটিই তুলে ধরেন এনইসি নিউজের সাংবাদিক কেলি ওডোনিল। সাবরিনার হেনস্তাকারীদের মধ্যে রাজনীতিবিদেরাও রয়েছেন জানিয়ে তিনি এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চান।

জন কিরবির মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব কারিন জাঁ পিয়েরে বলেন, ‘জন কিরবি যা বলেছেন, তার সঙ্গে আমি জানাতে চাই আমরা সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে কারণেই গত সপ্তাহে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সাংবাদিকেরা তাদের কাজ করেন। যারা তাদের ভয় দেখান বা হেনস্তা করেন, আমরা অবশ্যই তাদের সেই আচরণের নিন্দা করি।’

সাবরিনার প্রশ্নের জবাবে মোদি বলেছিলেন, গণতন্ত্র ভারতের মজ্জায়। গণতন্ত্র প্রতি ধনমিতে। ভারত গণতন্ত্রে বাঁচে। নিশ্বাস নেয়। সংবিধানেও তা লিপিবদ্ধ। তিনি বলেছিলেন, ভারতীয় গণতন্ত্রে বৈষম্যের কোনো স্থান নেই। সরকারের সব কাজের সুফল ভোগ করেন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই।

ভারতের সেই গণতন্ত্রে মুক্তমনা সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে কোন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে সাবরিনার হেনস্তার মধ্য দিয়েই তা পরিষ্কার। শুধু সাবরিনাই নন, ভারতীয় গণতন্ত্রের অধোগমন ও সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকেও তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। ওবামাকে আক্রমণ করছেন মোদির মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও বিজেপির নেতারা। সেই আক্রমণের নিন্দা প্রধানমন্ত্রী মোদি করেননি। সূত্র প্রথম আলো