ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিলাবৃষ্টির আতঙ্কে ধর্মপাশা-মধ্যনগরের কৃষক, ফসল রক্ষায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে কৃষকের কল্যাণে দোয়া ও ইফতার, ভোলায় মানবিকতা ও সংহতির অনন্য আয়োজন কোদাল হাতে খাল খননে প্রধানমন্ত্রী, কৃষিতে স্বনির্ভরতার ডাক ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল ইরান ভারতের ‘বৃক্ষমাতা’ তুলসী গৌড়া, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের অনন্য নজির ঈদে মহাসড়কে কড়াকড়ি, ৭ দিন বন্ধ থাকবে ট্রাক-লরি চলাচল নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকার প্রমাণ ভুয়া নাকি আসল? ৫ আঙুল দেখানো ভিডিওই ডিপফেক? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধমঞ্চে ইরানের দাপট, পাল্টে গেল হিসাব! জিয়ার ঐতিহাসিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আবারও খাল খনন শুরু করলেন তারেক রহমান ক্যামেলী পালের কবিতা ‘চাইলেই কি যাওয়া যায়’

ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল ইরান

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

ইরান ও ভারতের পতাকা : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজের নিরাপত্তার শর্ত হিসেবে ভারতের কাছে জব্দ তিন ট্যাংকার ফেরত চেয়েছে ইরান। সেই সঙ্গে ভারতের কাছে জরুরি ওষুধ এবং জরুরি মেডিকেল সরঞ্জামও চেয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত।

জানা গেছে, বিগত সময়ে অ্যাসফেল্ট স্টার, আল জাফজিয়া এবং স্টেলার রুবি নামে ইরান-সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজ জব্দ করেছে ভারত। এর মধ্যে স্টেলার রুবির মালিক ইরান, বাকি দুই জাহাজ আল জাফজিয়া এবং অ্যাসফল্ট স্টার যথাক্রমে মালি এবং নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী।

বিধিবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরের ভারতীয় সীমানায় এই তিন ট্যাংকার জব্দ করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। বর্তমানে জাহাজগুলো ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ের বন্দরে আছে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন জানিয়েছে, নয়াদিল্লিতে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। সেই বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতীয় কর্মকর্তাদের কাছে ওই তিনটি জাহাজ ফেরত চান। এর পাশাপাশি ইরানের জনগণের জন্য জরুরি ওষুধ এবং মেডিকেল সামগ্রী পাঠানোর অনুরোধও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লির ইরানি দূতাবাস এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, কিন্তু এই তিন দফতরের কোনও মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে চায়নি।

প্রসঙ্গত, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত জ্বালানি তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেগুলোর ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রফতানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেত না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। ইরানও তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা হামলা শুরু করে। এর জেরে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে তেহরান।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে ইরান। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজে হামলাও চালানো হচ্ছে। এই পথে চলাচলের সময় এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ১২টিরও বেশি ট্যাংকার জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হরমুজে কোনও ভারতীয় ট্যাংকার জাহাজে হামলা হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কোনও ভারতীয় জাহাজে যেন হামলা না করা হয়।

কী কারণে ভারতকে এই ‘ছাড়’ দিল ইরান, তা জানতে রবিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। জয়শঙ্কর বলেছেন, এখানে ‘লুকোছাপা’-র কোনও ব্যাপার নেই, এবং এটি ঘটেছে ইরানের সঙ্গে ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই।

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ভারতের চারটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার জাহাজকে নিরাপদ প্যাসেজ দিয়েছে ইরান। সূত্ররয়টার্স

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল ইরান

আপডেট সময় : ০১:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজের নিরাপত্তার শর্ত হিসেবে ভারতের কাছে জব্দ তিন ট্যাংকার ফেরত চেয়েছে ইরান। সেই সঙ্গে ভারতের কাছে জরুরি ওষুধ এবং জরুরি মেডিকেল সরঞ্জামও চেয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত।

জানা গেছে, বিগত সময়ে অ্যাসফেল্ট স্টার, আল জাফজিয়া এবং স্টেলার রুবি নামে ইরান-সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজ জব্দ করেছে ভারত। এর মধ্যে স্টেলার রুবির মালিক ইরান, বাকি দুই জাহাজ আল জাফজিয়া এবং অ্যাসফল্ট স্টার যথাক্রমে মালি এবং নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী।

বিধিবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরের ভারতীয় সীমানায় এই তিন ট্যাংকার জব্দ করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। বর্তমানে জাহাজগুলো ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ের বন্দরে আছে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন জানিয়েছে, নয়াদিল্লিতে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। সেই বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতীয় কর্মকর্তাদের কাছে ওই তিনটি জাহাজ ফেরত চান। এর পাশাপাশি ইরানের জনগণের জন্য জরুরি ওষুধ এবং মেডিকেল সামগ্রী পাঠানোর অনুরোধও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লির ইরানি দূতাবাস এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, কিন্তু এই তিন দফতরের কোনও মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে চায়নি।

প্রসঙ্গত, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত জ্বালানি তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেগুলোর ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রফতানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেত না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। ইরানও তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা হামলা শুরু করে। এর জেরে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে তেহরান।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে ইরান। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজে হামলাও চালানো হচ্ছে। এই পথে চলাচলের সময় এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ১২টিরও বেশি ট্যাংকার জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হরমুজে কোনও ভারতীয় ট্যাংকার জাহাজে হামলা হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কোনও ভারতীয় জাহাজে যেন হামলা না করা হয়।

কী কারণে ভারতকে এই ‘ছাড়’ দিল ইরান, তা জানতে রবিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। জয়শঙ্কর বলেছেন, এখানে ‘লুকোছাপা’-র কোনও ব্যাপার নেই, এবং এটি ঘটেছে ইরানের সঙ্গে ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই।

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ভারতের চারটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার জাহাজকে নিরাপদ প্যাসেজ দিয়েছে ইরান। সূত্ররয়টার্স