বিশ্ব সভ্যতায় অগ্রগতির ডিজিটাল সংযুক্তি অপরিহার্য : মোস্তাফা জব্বার
- আপডেট সময় : ০৫:১১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০২৩ ২২৮ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, আজেকের বিশ্ব সভ্যতায় অগ্রগতির ডিজিটাল সংযুক্তি অপরিহার্য। এই লক্ষ্যে দেশের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনার কাজ জোর কদমে চলছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি বাড়ি উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টার সংযোগের আওতায় আনা হবে।
ঢাকায় বিটিআরসি মিলনায়তনে সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্রডব্যান্ড নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন বিষয়ক আলোচনায় মন্ত্রী ডিজিটাল প্লাটফর্মে সংযুক্ত থেকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে গত সাড়ে ১৪ বছরে দেশে ডিজিটাল অবকাঠামোসহ ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশে বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে দেশে মাত্র সাড়ে ৭ জিবিপিএস ব্যান্ডউদথ ব্যবহৃত হতো এবং ব্যবহারকারি ছিলো ৮ লাখ মানুষ। বর্তমানে ৪১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউদথ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ব্যবহারকারির সংখ্যা সাড়ে ১২ কোটি।
দেশের শতকরা ৯৮ ভাগ এলাকা মোবাইল ফোনের ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। আমরা ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক চালু করেছি। ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হলে মানুষ উচ্চগতির মোবাইল ইন্টারনেট সুবিধা পাবে। এর ফলে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও মোবাইল ইন্টারনেটের মধ্েয বিদ্যমান গতির পার্থক্য অনেকটাই হ্রাস পাবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে একদেশ একরেট কর্মসূচি এফরআইসহ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ব্রডব্যান্ডের ন্যায় মোবাইল ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও এই রেট কার্যকর করা হবে। মন্ত্রী সকল অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি লাগসই জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই লক্ষ্েয আমরা কাজ করছি।
মন্ত্রী বলেন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী, জেলে, বেদে প্রমূখ শ্রেণির মানুষের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেট সহজলভ্য করার পাশাপাশি তাদের জন্য ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারের দক্ষতা ও তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা অপরিহার্য। সরকারের পাশাপশি বেসরকারি সংস্থা, সংশ্লিষ্ট ট্রেডবডিসহ সকলকে সম্মিলিত উদ্যোগে কাজ করতে হবে।
কোভিড এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কাজ পিছিয়ে আছে। মন্ত্রী একটি অর্থবহ ব্রডব্যান্ড নীতিমালা তৈরির জন্য আলোচনায় অংশগ্রহণকারী অংশীজনদের মতামত লিখিত আকারে পেশ করার জন্য পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব, জুয়াসহ ও পর্নগ্রাফি করা হচ্ছে। আমরা সীমিত প্রযুক্তি দিয়ে তা মোকাবেলার চেষ্টা করছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারিদের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
বিটিআরসি‘র চেয়ারম্যান জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালার সজ্ঞায় অর্থবহ সংযোগের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য ডিজিটাল লিটারেসি অপরিহার্য। তিনি নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামতকে একটি কার্যকরী নীতিমালা তৈরিতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন।




















