বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট: কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর
- আপডেট সময় : ০৬:১৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ২২০ বার পড়া হয়েছে
অতিরিক্ত ব্যাংকের কারণে ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা বেড়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত সংখ্যক ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনার ফলে প্রশাসনিক জটিলতা ও পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তাঁর মতে, একটি দক্ষ ও টেকসই ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট হতো। অথচ বর্তমানে দেশে কার্যরত ব্যাংকের সংখ্যা ৬৪টি, যা খাতটির সামগ্রিক দক্ষতা ও মুনাফা সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বক্তৃতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
গভর্নর বলেন, ব্যাংকের সংখ্যা কমানো গেলে পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাবে, করপোরেট গভর্নেন্স শক্তিশালী হবে এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে অতিরিক্ত ব্যাংকের কারণে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও বাড়তি চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাতের সংকটের মূল কারণ হিসেবে গভর্নেন্স ফেইলরকে চিহ্নিত করে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “সরকারি নির্দেশনা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পরিবারের চাপের মুখে অনেক ক্ষেত্রে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকির ঘাটতি ছিল, যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।”
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সাধারণত চারটি প্রধান আর্থিক খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত তৃতীয় স্থানে অবস্থান করে। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। এর ফলে বন্ড মার্কেট ও শেয়ারবাজারসহ অন্যান্য আর্থিক খাত কাঙ্ক্ষিতভাবে বিকশিত হতে পারেনি। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করে আর্থিক খাতকে পুনরায় সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক সংস্কার প্রয়োজন।
আর্থিক খাতের দুরবস্থার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের সরকারগুলো ঐতিহাসিকভাবে অতিরিক্তভাবে ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। অথচ দেশের বন্ড মার্কেট ও পুঁজিবাজার যথাযথভাবে বিকশিত হয়নি। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস তৈরি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদানে অনাগ্রহী। সাধারণত ২০ থেকে ২৫ বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়ার সংস্কৃতি এখানে গড়ে ওঠেনি। বিদ্যমান ব্যবস্থায় ঋণ বিতরণের পরপরই ঋণগ্রহীতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, যা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের পরিপন্থী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম। এছাড়া বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, সদস্যসচিব ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।









