বাংলাদেশে প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের দুইজন ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত
- আপডেট সময় : ০১:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫ ১৬১ বার পড়া হয়েছে
আমিনুল হক ভূইয়া
বাংলাদেশে প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে দুইজন ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত-এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির এক সাম্প্রতিক গবেষণায়। দীর্ঘসময় বসে কাজ করা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের অভাবকে এই বাড়তি ঝুঁকির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। ‘কর্মক্ষেত্র হোক ডায়াবেটিস সহায়ক’ স্লোগানকে সামনে রেখে এ আয়োজন করে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি। অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান, সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা, সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহজাদা সেলিম, প্রেস ও মিডিয়া সম্পাদক অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ ডা. মির্জা শরিফুজ্জামান ও সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আফসার আহাম্মদ (মেরাজ)। এছাড়া দেশের শীর্ষ ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডায়াবেটিস এখন এক নীরব মহামারি। শহুরে জীবনযাত্রা, বসে কাজের সংস্কৃতি, জাঙ্ক ফুডের প্রবণতা ও মানসিক চাপ এই রোগকে আরও বিস্তৃত করছে। তারা বলেন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা কর্মজীবীদের জন্য অপরিহার্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের শহরাঞ্চলের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কর্মজীবী মানুষ ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তবে সচেতনতার অভাব ও সামাজিক কলঙ্কের কারণে অনেকেই তাদের রোগ গোপন রাখেন। বৈষম্য, চাকরি হারানোর ভয় ও সহকর্মীদের ভুল ধারণা অনেক সময় রোগীর মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে, যা রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিসের যত্ন শুধু হাসপাতাল বা ক্লিনিকেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কর্মক্ষেত্রে যদি স্বাস্থ্যবান পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, যেমন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা, হাঁটার বিরতি ও মানসিক সহায়তা প্রদান, তাহলে এটি কর্মীদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানেরও দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ২০৩০ সালের লক্ষ্য অনুযায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি মূল বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে: ৮০ শতাংশ রোগীর সঠিক নির্ণয়, ৮০ শতাংশ রোগীর রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ, ৮০ শতাংশ রোগীর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ৪০ বছরোর্ধ্ব ৬০ শতাংশ রোগীর স্ট্যাটিন গ্রহণ, এবং সব টাইপ–১ ডায়াবেটিস রোগীর জন্য সাশ্রয়ী ইনসুলিন ও গ্লুকোজ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা।
চিকিৎসকরা বলেন, এখনই সময় সমন্বিত পরিকল্পনা, সুলভ ওষুধ সরবরাহ এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবান সংস্কৃতি গড়ে তোলার। এতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বড় অগ্রগতি সম্ভব হবে।
বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির উদ্যোগে ‘ডায়াবেটিস ডে রান–২০২৫’ অনুষ্ঠিত হবে ১৪ নভেম্বর শুক্রবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে। এতে দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষসহ এক হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারী যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় থাকবে অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড।
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্মক্ষেত্রে সুস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সবাইকে এখনই সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।



















