বাংলাদেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিদেশি ঋণ,যার ১০ বিলিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার আমলে
- আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৩.৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের জন্য একটি নতুন রেকর্ড। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৮ মাসে ঋণ বেড়েছে আনুমানিক ১০ বিলিয়ন ডলার। যা ঋণ প্রবৃদ্ধির গতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে এমন চিত্র ওঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী শুধু ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকেই ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১.৩০ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, যেমন মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, টানেল ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে গত এক দশকে ব্যাপক বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও এই ধারা অব্যাহত থাকে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ১১৩.৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকেই ঋণ বেড়েছে প্রায় ১.৩০ বিলিয়ন ডলার, সেপ্টেম্বর শেষে যা ছিল ১১২.২১ বিলিয়ন ডলার।
পূর্ববর্তী সরকারের শেষ সময়ে মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ১০৩.৪১ বিলিয়ন ডলার। অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রায় ১৮ মাসে ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে আনুমানিক ১০ বিলিয়ন ডলার, যা ঋণ প্রবৃদ্ধির গতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত ও পরিস্থিতিগত কারণ রয়েছে।
গত এক দশকে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প, যেমন মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দরের টার্মিনাল, নদীর তলদেশে টানেল এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়নে ব্যাপক বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ঋণ গ্রহণের ধারা অব্যাহত থাকে।
বিশেষ করে প্রথম বছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধসহ জরুরি ব্যয় মেটাতে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়া হয়। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন ঋণ যুক্ত হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। ২০২২ সাল থেকে ডলারের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে, প্রায় ৮৫ টাকা থেকে ১২২ টাকায় পৌঁছে যায়।
এতে আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং মুদ্রাস্ফীতি তীব্র হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগের সরকার আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ায়। তবুও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কমেনি। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়, যেখানে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক ঋণপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি খাতেই ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশ ঘটেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ ছিল ৯২.৫৫ বিলিয়ন ডলার, যা ডিসেম্বর শেষে বেড়ে ৯৩.৪৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ তিন মাসে বৃদ্ধি প্রায় ৯০ কোটি ডলার। অন্যদিকে বেসরকারি খাতেও ঋণ বেড়েছে। একই সময়ে ১৯.৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ২০.০৫ বিলিয়ন ডলারে।
যদিও পরিমাণগতভাবে কম, তবুও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিও উল্লেখযোগ্য। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক ঋণ এখনো জিডিপির অনুপাতে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে উদ্বেগের জায়গা হলো, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তুলনায় ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।



















