বড়পুকুরিয়া কয়লার পাহাড়, আগুনে নষ্ট হচ্ছে বিপুল মজুদ
- আপডেট সময় : ০৩:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে তৈরি হয়েছে ‘কয়লার পাহাড়’। তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিটগুলো অচল থাকায় কয়লা গ্রহণ কমে গেছে, ফলে খনিতে মজুদ বাড়তে বাড়তে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। এতে যেমন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তেমনি আগুনে পুড়ে নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কয়লা।
১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ওই সময় থেকেই ইউনিটটির সংস্কারকাজ শুরু হলেও প্রায় পাঁচ বছর ধরে তা চলমান। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এই ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়নি।
এদিকে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়। তবে সংস্কারকাজ শেষ পর্যায়ে থাকায় শিগগিরই দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির দৈনিক কয়লার চাহিদা প্রায় সাড়ে চার হাজার টন। কিন্তু বর্তমানে মাত্র একটি ইউনিট চালু থাকায় দৈনিক কয়লার চাহিদা নেমে এসেছে প্রায় ৭০০ টনে।
অন্যদিকে খনি থেকে দৈনিক গড়ে তিন হাজার টন কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ৩০০ টন কয়লা অতিরিক্ত মজুদ হচ্ছে।
এ অবস্থায় দুই লাখ টন ধারণক্ষমতার কয়লা ইয়ার্ডে বর্তমানে মজুদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত মজুদের কারণে কয়লার স্তূপের উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে এবং প্রায়ই সেখানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে।

খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম জানান, স্তূপে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে একটি দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। তবে আগুনে পুড়ে বিপুল পরিমাণ কয়লা নষ্ট হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
২০১৯ সাল থেকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার একমাত্র ক্রেতা বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। কিন্তু কেন্দ্রটির ইউনিটগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়লার ব্যবহার ও মজুদের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট চালু রয়েছে। এতে দৈনিক কয়লার চাহিদা মাত্র ৭০০ টন। আর ওভারহোলিংয়ে থাকা ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিট চালু করতে আরও প্রায় তিন মাস সময় লাগবে। ওই ইউনিট চালু হলে দৈনিক দুই হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টন কয়লার প্রয়োজন হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, খনি কর্তৃপক্ষকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ রাখতে বলা হলেও তারা উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে প্রায় তিন লাখ টন অতিরিক্ত কয়লা মজুদ হয়েছে।
অন্যদিকে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল)-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) খান মো. জাফর সাদিক বলেন, সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী চীনের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কয়লা উত্তোলনের কাজ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চাইলে খনি কর্তৃপক্ষের পক্ষে হঠাৎ করে উত্তোলন বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। এতে ভূগর্ভস্থ জটিলতা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ চুক্তি অনুযায়ী কয়লা গ্রহণ করতে না পারার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র কাঙ্ক্ষিত হারে কয়লা গ্রহণ করলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।


















